পাঠ-অভ্যাস
ফ্রান্সিস বেকন২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
পাঠ-অভ্যাস
প্রকৃতির কাছ থেকে আমরা যে-মেধা ও চেতনা লাভ করেছি পাঠ-অভ্যাস তাকে উন্নত করে, আবার অভিজ্ঞতা মার্জিত করে পাঠ-অভ্যাসের অর্জনকে। যে-সমস্ত পারদর্শিতা আমাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে আসে তারা বেড়ে ওঠে বাগানের গাছপালার মতো, তাদের সুন্দর করে তুলতে পড়াশোনাই হচ্ছে মালী। আর পড়তে শুরু করলে এতদিকে যাওয়ার আছে যে দিগ্বিদিকের ঠিকানা হারানোর সম্ভাবনা খুবই, তাই লক্ষ্য স্থির রেখে সঠিক সীমানার মধ্যে থাকার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতার। যারা শুধুই হাতের কাজ করেন তারা লেখাপড়ার তেমন ভক্ত নন, আবার সাধারণ মানুষ লেখাপড়া ব্যাপারটাকে প্রশংসা ও সম্মানের চোখে দেখেন, আর যাঁরা জ্ঞানী তাঁরা সেটাকে নিজেদের কাজে লাগান।

পাঠ্যবিষয় নিজে তার ব্যবহারের উপায় শেখায় না, বরং তাদের বাইরে ও তাদের ওপরেও থাকে মানুষের বুদ্ধি ও দৃষ্টিময় চেতনা যেসব কিছু লক্ষ্য করে এবং তাকে ব্যবহার করে।

বক্তব্যের বিরোধিতা করার জন্য আর আপত্তি জানানোর জন্য পড়বেন না, যা পড়বেন তা নির্বিচারে বিশ্বাস করার জন্যও পড়বেন না, শুধু কোনো বিষয়ে কথা বলা ও আলোচনার জন্যেও পড়বেন না, বরং পড়ুন পাঠ্যবিষয়ের বক্তব্যকে নিজের মনে ওজন করে দেখার জন্য, পড়ুন চিন্তা করার জন্য, বিচার করার জন্য।

কিছু বই আছে যারা শুধুই ওপর ওপর স্বাদ নেবার মতো, কিছু শুধুই দ্রুত পঠনের জন্য— কিছু আছে যাদের পরিপূর্ণ স্বাদ নিয়ে পড়া দরকার— একেবারে নিজের করে নেওয়া দরকার। অন্য কথায় বলতে গেলে কিছু বই খানিকটা-খানিকটা পড়লেই যথেষ্ট, আরো কিছু সবটাই পড়লেন কিন্তু খানিকটা আলগা ধরনে, আর কিছু বই আছে যাদের পড়তে হবে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে, নিষ্ঠার সঙ্গে। কোনো কোনো বই অন্য কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নিলেও হয়, অথবা পড়ে নেওয়া যায় অপরের করা তাদের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। তবে এ জাতীয় সংক্ষিপ্ত পথ শুধু একটু কম গুরুত্বপূর্ণ বা নীরস বইয়ের জন্যই নেওয়া যেতে পারে। না হ’লে ডিস্টিল্ড বই আসল ডিস্টিল্ড ওয়াটারের মতোই— ঝকমকে কিন্তু স্বাদবিহীন। (অংশ)

ভাষান্তর :অলোক কুমার বসু

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন