গণিত তথা অঙ্ক শাস্ত্রের ইতিকথা
 

অ) এই বিশ্বে মানবজাতি প্রথম যে বিষয়টি জানে তা হলো গণিত। আর গণিতই অন্যান্য বিষয়গুলো সৃষ্টির পথ সুগম করেছে। উল্লেখ্য যে, মানুষের মস্তিস্কে পারাইটাল লোব বলে একটি অংশ আছে, যার সুবাদে মানুষ বুদ্ধিগত দিক দিয়ে হিসাব-নিকাশের কাজ করে থাকে। যে ভাবেই বলি না কেন, বুদ্ধি বিবেক কথাটি হিসাব-নিকাশের বহির্প্রকাশ মাত্র। আর হিসাব-নিকাশের আবরণী হলো গণিত। পশু-পাখির চেয়ে মানুষের অতিরিক্ত যে নিয়ামক হিসেবে সংযোজন হয়েছে; তা হলো যৌক্তিক বুদ্ধি-বিবেক তথা র্যাশনালিটি (Rationality) আর এটিকে প্রকারান্তরে হিসাব-নিকাশের সরণি ধরে পরিচালনা করে থাকে।

আ) মূলত গণিত কথাটি উদ্ভব হয়েছে,“গণনা করা” কার্যক্রম থেকে। এখানে কথাটি এই দাঁড়ায় যে বিশেষ কৌশলগত জ্ঞানদ্বারা গণনা করা, যা গণিত বলে অভিহিত। যদি সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করা যায়। তাহলে প্রতীয়মান হয় যে, হিসাবের সুত্রপাত হয়েছে কোন কিছুর পার্থক্য (Difference) থেকে। এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বস্তু ও প্রাণীর শ্রেণীগত বৈশিষ্ট্য প্রণিধানযোগ্য। কেননা একই ধরনের (Homogenous) বস্তু বা প্রাণী হলে হিসাবের এত ধারার আবশ্যকতা হতো না। তখন গণিতের গতিময়তা অনেকটা ধীর গতিতে চলতো। কিন্তু ভিন্নধর্মী (Heterogeneous) হওয়ায় একের পর এক গণিতের শাখা-প্রশাখার বিস্তারে এগিয়ে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে মানুষের  মন খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। এই গণিত তুলনামূলক অন্য শাস্ত্রের চেয়ে প্রাচীন ও আদি ভিত্তি। আসলে গণিত বা অঙ্কশাস্ত্রের ইংরেজি হলো ম্যাথমেটিক্স (Mathematics), এই শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ম্যাথিন থেকে। আর এর বাংলার অর্থ হলো শিক্ষা গ্রহণ করা। মূলত এটি পরিসর ও সংখ্যা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গণিত কথাটি গুণন বা গুণিত হিসেবে সচরাচর ব্যবহার করা হলেও এটি সর্বক্ষেত্রে বিভিন্ন আঙ্গিকে বিদ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে অনেকে এটিকে “Mother of all sciences or subjects” বলে গণ্য করে থাকে। এদিকে এর স্বপক্ষে প্রাচীন শাস্ত্র বেদে গণিত বলে কথাটি বহু জায়গায় উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বেদের একটি অংশ হলো “বেদাঙ্গ”। আর বেদাঙ্গে গণিত বিজ্ঞানকে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারতের আওতাধীনে সমগ্র বঙ্গে গণিত শাস্ত্রের মৌলিক বিষয় উন্নয়ন ঘটেছিল বৌদ্ধ ও জৈন যুগে (৫০০ খৃস্ট পূর্বাব্দ হতে ৫০০ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত)। চলবে...

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন