পাল রাজবংশের যাত্রা শুরু
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
পাল রাজবংশের যাত্রা শুরু
ড. একে এম শাহনাওয়াজ, অধ্যাপক

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ঠিক মানুষকেই নির্বাচন করেছিলেন গৌড়ের নেতারা। গোপাল শক্ত হাতে ও বুদ্ধিমত্তার সাথে শাসন চালাতে লাগলেন। অচিরেই তিনি সমস্ত অরাজকতার অবসান ঘটালেন। গোপালের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হলো পাল রাজবংশ। প্রায় চারশ বছর ধরে পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন। এভাবে গোপালের হাত ধরে স্বাধীনতা প্রিয় বাঙালি নিজেদের জন্য একটি বড় স্বাধীন রাজ্য গড়তে পেরেছেন।

পাল রাজারা তাঁদের দীর্ঘ শাসনকালে বাংলাকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন। প্রথম পর্বের তিনজন রাজাই ছিলেন খুব শক্তিমান। এঁরা হচ্ছেন গোপাল, গোপালের ছেলে ধর্মপাল এবং ধর্মপালের ছেলে দেবপাল। এসময় পাল রাজত্বের সীমা বাংলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। ফলে এসময় সারা বাংলায় বৌদ্ধধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। বাংলার বাইরে ভারতের বিহার রাজ্যের অনেকটা অংশ পাল রাজাদের শাসন এলাকার ভেতরে ছিল। তাই বিহারে বিস্তার ঘটেছিল বৌদ্ধধর্মের। শিক্ষার বিকাশেও পাল রাজাদের দৃষ্টি ছিল। এসময়ে পাল রাজারা বড় বড় বিহার নির্মাণ করেন। বিহার ছিল প্রধানত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখনকার আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। গোপাল বিহারে স্থাপন করেছিলেন নালন্দা বৌদ্ধ বিহার। এই দক্ষিণ বিহার অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল মগধ। মগধে ধর্মপাল প্রতিষ্ঠা করেন বিক্রমশীলা নামে একটি বিহার। নওগাঁ জেলার বিখ্যাত পাহাড়পুর বিহারটিও ধর্মপালের গড়া। পাহাড়পুর বিহারের পুরানো নাম সোমপুর বিহার।

শেষদিকের পাল রাজারা তেমন যোগ্য ছিলেন না, তাঁদের রাজ্য পরিচালনায় সাধারণ মানুষ তেমন খুশি থাকে নি। রাজাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বাড়তে লাগলো। গ্রামবাংলায় গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে যেতে থাকলো। এক সময় সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে পাল রাজাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এগারো শতকের শেষ দিকে একজন দুর্বল রাজা সিংহাসনে বসেছিলেন। তাঁর নাম মহীপাল। তবে এই নামে আগে আরেকজন শক্তিশালী পালরাজা ছিলেন। একারণে এই দুর্বল রাজাকে বলা হয় দ্বিতীয় মহীপাল। তাঁর বিরুদ্ধে একদল ক্ষুব্ধ মানুষ বিদ্রোহ করে। এরা ছিল কৃষিজীবী আর জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের বলা হয় কৈবর্ত। একারণেই এই বিদ্রোহকে ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ বলা হয়। বিদ্রোহটি হয়েছিল পালদের রাজধানী উত্তর বাংলায়। উত্তর বাংলাকে বরেন্দ্র অঞ্চলও বলা হয়ে থাকে। তাই কৈবর্ত বিদ্রোহের আরেক নাম ‘বরেন্দ্র বিদ্রোহ’। বিদ্রোহ যখন চলছিল তখন পাল রাজাদের আরেকটি সংকট দেখা দেয়। বিদেশি শক্তি পাল রাজ্যে আক্রমণ চালায়। এসব কারণে দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকালের বাংলা বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশাল পাল সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে থাকে। এই দুঃসময়ে বাংলার কোনো কোনো অংশে বাঙালি শাসকরা দেশের স্বাধীনতা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এভাবেই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় কয়েকটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে থেকেই কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলে স্বাধীন রাজ্য ছিল। এখানে আট শতকের শুরুতেই গড়ে উঠেছিল একটি রাজ্য। এই রাজ্যের রাজাদের উপাধি ছিল দেব। দেব বংশের চারজন বিখ্যাত রাজা ছিলেন। এঁরা হচ্ছেন শ্রী কান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব এবং শ্রী ভবদেব। নয় শতকে সিলেট অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সে যুগে সিলেট অঞ্চলকে বলা হতো হরিকেল। এই রাজ্যের রাজার নাম ছিল কান্তিদেব। পরে কান্তিদেবের রাজ্য কেড়ে নেন ‘চন্দ্র’ উপাধিধারী রাজারা। এভাবে চন্দ্র রাজবংশের শাসন শুরু হয়। ধীরে ধীরে চন্দ্র রাজারা শক্তিশালী হয়ে পড়েন। তারা পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। চন্দ্ররাজ্যের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে। চন্দ্র রাজারা বরিশালও দখল করেছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৬
যোহর১১:৫৭
আসর৪:২৫
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন