পলান সরকারের দেখা বৈশাখের একাল-সেকাল
পলান সরকারের দেখা বৈশাখের একাল-সেকাল
বয়সের ভারে তিনি আজ ন্যুয়ে পড়েছেন। গ্রামের পর গ্রাম যিনি পায়ে হেঁটে বই বিলিয়ে আলোকিত করেছেন মানুষকে। তিনি আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। আগের মতো মাইলকে-মাইল আর হাটতে পারেন না। তবে যে টুকু পারেন সে টুকু সময় আগের মতোই বই বিলিয়ে বেড়ান। আর বাকি সময় কাটান পাঠাগারে। জেলা পরিষদ থেকে তৈরি করে দেওয়া সেই পাঠাগারটি এখন জমজমাট। একুশে পদক পাওয়া বইপ্রেমী সাদা মনের মানুষ সেই পলান সরকারের কথা বলছি। যিনি মানুষকে বই দিয়ে জ্ঞানার্জনে সাহায্য করেন। তার ভালবাসা আর কর্ম উদ্যোগই তাকে আলোকিত মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আসছে পহেলা বৈশাখ। আর এ বৈশাখ নিয়েই গুনি এ মানুষের সঙ্গে কথা হয়। উঠে আসে সেকাল আর একালের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নানা বিষয়।

তিনি বলেন, তাদের আমলে আজকের ন্যায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতো না। জমিদারের (পূর্ণী) খাজনা আদায় আর মহাজনের হালখাতা বৈশাখের বার্তা আনতো। সেকালে হালখাতা আর পিঠা খাওয়ার মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করতো সবাই। বর্তমান সময়ে নতুন শাড়ি কাপড় পরে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গান গেয়ে যে নববর্ষ উদযাপন সেটি ওই আমলেই ছিল না। হালখাতার মাধ্যমে মানুষ বুঝতো নতুন বছর এসেছে। অথচ কালের বিবর্তনে তা পাল্টে সাংস্কৃতি মনায় বৈশাখের উত্সব ছড়িয়ে পড়ছে এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে  বসছে বৈশাখী মেলা। তবে এই মেলাকে ঘিরে কোন-কোন স্থানে জুয়ার আসর এবং আশ্লীলতা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ হওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ৮০’র দশকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে পহেলা বৈশাখ-ই উদযাপন হতো না সেখানে পান্তা ইলিশের প্রশ্ন-ই আসে না। আর পান্তা ইলিশের সঙ্গে বৈশাখের কোন সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, পহেলা বৈশাখ এখন বাঙালির প্রাণের উত্সবে পরিনত হয়েছে। সার্বজনীন এ উত্সবকে ঘিরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে যে মিলন এটি বিশাল ব্যাপার। উত্সব মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে এক করে। আর এটিতো জাতীয় উত্সব। সুতরাং মানুষ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আসবে। দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের অমঙ্গলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। আর এমনটি হলে বাঙালি সারা বিশ্বে আরো মাথা উঁচু করে দাড়াবে।

বর্তমানে পহেলা বৈশাখের উত্সব এখন আর শহর কেন্দ্রিক নয়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে গেছে। যখন এ ধরনের উত্সবে সব বয়সী মানুষের ভীড় দেখা যায় তখন ভাল লাগে। নতুন প্রজন্মকে বলবো দেশকে ভালবাস। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্ক জানো। আর এগুলো জানতে হলে বই পড়তে হবে। বেশি বেশি করে বই পড়ো আর জ্ঞান আরোহন করো। 

পলান সরকারের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে তাঁর বাবা হায়াত উল্লাহ সরকার মৃত্যুবরণ করেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর অর্থনৈতিক সংকটে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। এরপর-নানা ময়েন উদ্দিন সরকার এবং মা’ মইফুন নেসা পলান সরকারকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা “পলান” নামে ডাকতেন। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে পলান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন। কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস থেকে যায় তাঁর আজীবন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৩
এশা৭:৩৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৮
পড়ুন