সরকারি বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ
আমাদের প্রথম পছন্দ
মো. আল-আমিন২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
আমাদের প্রথম পছন্দ
উত্তর ভবন, পূর্ব ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং দক্ষিণ ভবন। চারটি সুউঁচু ভবন। মাঝখানে সবুজের একটু ছোঁয়া। সবুজ ঘাসের স্নিগ্ধ পরশ। সময় পেলেই বসে গল্পের আসর। কখনো গান, কখনো কবিতা আবার কখনো বা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা। গ্রুপ প্র্যাক্টিস করার উত্তম জায়গা এটা। সকালের মৃদু আলোয় সবুজ ঘাসের ওপর বসে পড়াশোনা কিংবা গল্প করার মজাই আলাদা। বলছিলাম সরকারি বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের কথা। ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত কলেজটি নানা কারণে সমাদৃত। এখান থেকে পড়াশোনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও। শুধু তিনিই নন, দেশের প্রথম নারী উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামসহ অনেক কৃতী নারীই এখানে পড়েছেন। নারী শিক্ষা প্রসারে এই কলেজ ‘বাংলাদেশ’ জন্মের আগেই পথচলা শুরু করে। ঐতিহ্যবাহী কলেজটি ২০০২ সালে ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ কলেজের মর্যাদা পেয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনের শেষের দিকে ১৯৪০ সালে পূর্ববঙ্গে তত্কালীন ইডেন ভবনে কলেজটি স্থাপিত হয়। তখন এর নাম ছিল ‘ইডেন স্কুল ও কলেজ’। দেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালে কলেজটি  বকশীবাজারে স্থানান্তরিত হয়। সে বছরেই এটি প্রথম মহিলা সরকারি কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ইডেন কলেজ, গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, ঢাকা সরকারি মহিলা কলেজ এমন বেশ কয়েকবার নাম বদলের পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম বদরুন্নেসা আহমদের মৃত্যুর পরে তার নাম অনুসারে কলেজের নামকরণ করা হয় ‘বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ’।

২ দশমিক ১৫ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাসে পড়ছে প্রায় দশ হাজারের চেয়েও অধিক শিক্ষার্থী। কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিষয়ে পড়ানো হয়। এছাড়াও রয়েছে এখানে ডিগ্রি পড়ার সুযোগ। পড়াশোনার মান নিয়েও নেই তাদের কোনো অভিযোগ। রীতিমতো ক্লাস আর শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাও করে বেশ ভালো। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ থেকে ভালো রেজাল্ট  করে বের হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা এখানকার পড়াশোনার মান নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। এখানে নিয়মিত ক্লাস হয়। আমাদের শিক্ষকরাও খুব আন্তরিক। কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে তারা দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করেন।

ঢাকায় মেয়েদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে সব অভিভাবকরাই চিন্তিত থাকেন। কোথায় থাকবে? খাবে কি? আবার নিরাপত্তা আছে কি না? ইত্যাদি হাজারটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। বেগম বদরুন্নেসা কলেজে মেয়েদের নিরাপদ বসবাসের  জন্য রয়েছে উত্তম ব্যবস্থা। দুটি আবাসিক হল। পুরো আবাসিক হল দুটি নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত। পরিচর্যার জন্য রয়েছে শিক্ষক। হল প্রতিটা শিক্ষার্থীর কাছে খুব প্রিয়। বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থী এখানে একসাথে থাকেন। কারো কোনো বিপদ হলে কিংবা কেউ অসুস্থ হলে সবাই এগিয়ে আসেন। কলেজে অনেক শিক্ষার্থীর অবসর কাটে পাঠাগারে বই পড়ে। রয়েছে লাইব্রেরি। বই সমগ্র। সবাই যে যার মতো বই খুঁজে নিয়ে পড়ছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে ইনডোর-আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা। আর যাতায়াত এর জন্য রয়েছে দুটি বাস।

ছাত্রীদের পড়াশোনার মান ও ফলাফলের উন্নয়নের রয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দল। মাসে দুইবার ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা ও পারিবারিক অসুবিধা নিয়ে কাউন্সেলিং করেন গাইড টিচার (প্রশিক্ষক)। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রীদের বিভিন্ন  সেকশনে ভাগ করে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রীদের ক্লাসে উপস্থিতি, ফলাফল বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। এর ফলে ক্লাসে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বাড়ে এবং ফলাফলও ভালো হয়।

মানবিকা সরকার

মাস্টার্স, সমাজকর্ম

আমি এখানে একটা দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করছি। এখানকার সবকিছু্ই আমার প্রিয়। পড়াশোনার মানও ভালো। আমরা সময় পেলেই  একসাথে আড্ডা দেই। একসাথে ঘুরতে যাই। আমাদের কলেজে আগে কিছু সমস্যা ছিল। এখন তা সমাধান হয়েছে। আমাদের কলেজে দুইটি হল রয়েছে। আরেকটি নতুন হলের ব্যবস্থা হলে খুব ভালো হয়। অনেক সময় নতুন শিক্ষার্থী যারা আসে তারা হলে সিট পায় না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। আমি মনে করি, আমাদের কলেজ মেয়েদের পড়াশোনার জন্য নিরাপদ এবং উত্তম জায়গা।

 

জাকিয়া সুলতানা

বাংলা বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ

আমাদের ক্যাম্পাসটি ছোট হলেও অনেক সুন্দর। আমরা এখানে মিলেমিশে থাকি। সবাই সবার প্রতি বেশ আন্তরিক। আমাদের কারো কোনো ধরনের সমস্যা হলে আমরা সবাই এগিয়ে আসি এবং তা সমাধানের চেষ্টা করি। আমাদের পরিপাটি এ ক্যাম্পাসটিতে পড়াশোনাও হয় বেদমতালে। আমাদের কলেজসহ ঢাকার সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়েছে। এটা যেমন আনন্দদায়ক তেমনি সমস্যাওবটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমাদের পরীক্ষাগুলো ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে আমাদের প্রায় দু্ই বছর সময় লেগেছে। যেখানে এক বছরেই হয়ে যাওয়ার কথা। আমি এখান থেকে পড়াশোনা করে বের হয়ে গেলেও কলেজটি মিস করবো খুব।

 

সাদিয়া আফরিন

উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রথম বর্ষ

আমি হলে থাকতে পেরে আনন্দিত। হল      জীবনটাকে খুব উপভোগ করছি। হলে থাকার    সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখান থেকে বিভিন্ন     ধরনের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। বিভিন্ন জেলার মেয়েরা একসাথে থাকে। এতে করে সবাই সবার সম্পর্কে  জানতে পারে। হলের বড় আপুরা   খুবই মিশুক। তারা আমাদের স্নেহ করেন।           যেকোনো সমস্যায় এগিয়ে আসেন। মাঝে মধ্যেই আমাদেরকে ঘুরতে নিয়ে যান। আমাদের হলে    আসন সংকট আছে। আমাদের আরেকটি নতুন হল দরকার।

 

রোকসানা পারভীন রিক্তা

সমাজকর্ম, দ্বিতীয় বর্ষ

আমি কুমিল্লা থেকে এখানে পড়তে এসেছি। এটা আমার প্রথম পছন্দ। আমি এ কলেজের অনেক সুনাম সুুখ্যাতির কথা শুনেছি। থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা সবকিছু নিয়ে অনেক প্রশংসা শুনেছি। আর সেখান থেকেই আমার এখানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা। আমাদের ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর। আমরা সময় পেলেই একসাথে বসে গল্প করি। আড্ডা দেই। অনেক সময় ছুটি পেলেও গ্রামের বাড়ি যেতে মন চায় না। হলে থাকতেই ভালো লাগে। এখানে সবার সাথে থাকার আনন্দই অন্যরকম। সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাসটা আমার খুব প্রিয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন