সাক্ষা ত্ কা র
‘নিয়ম নীতি ভাঙলে জটিলতা বাড়ে’
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
‘নিয়ম নীতি ভাঙলে জটিলতা বাড়ে’
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম

উপাচার্য। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ মেয়াদে তিন দফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাবির উপাচার্য হিসেবে তিনি প্রায় চার মাস অতিবাহিত করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন

বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক

আপনার উপাচার্য হিসেবে যোগদানকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান: বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় সেই পক্রিয়ার মাধ্যমেই আমি এখানে যোগদান করেছি। নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ বছর এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর সামনে রেখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যা কিছু করার দরকার তা করার চেষ্টা করবো। আমার জন্য সেটা গর্বের।

যোগদান করার পর কেমন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে আপনার?

আখতারুজ্জামান: সব প্রতিবন্ধকতার কথা বলতে হয় না। একশ বছরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবন্ধকতা উপার্যদের থাকে। কিন্তু এসব মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হয়। এই প্রতিবন্ধকতা, সেই প্রতিবন্ধকতা বলা ভালো জিনিস নয়। যে কোন ব্যাপারকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কি কি পরিবর্তন হতে পারে আপনার হাত ধরে?

আখতারুজ্জামান: আসলে আগেই এমন ধরনের বলে কয়ে দেয়ার ট্রেডিশন ভালো না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে আমাদের বহু রীতিনীতি আছে। এবং সেইগুলো মেনেই আমি কাজ করবো। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, একশ বছরকে সামনে রেখে আমাদের কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কিছু অবকাঠামো অপ্রতুলতা আছে সেগুলোকে মেকাপ করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মনীতির মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা, পরিচালিত করা এটা হবে প্রথম এবং বড় কাজ। এসব করলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সহজ হয়। নিয়মনীতি ভাঙলে জটিলতা বাড়ে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কয়েকদিন একজন শিক্ষার্থী অনশন করেছিল...

আখতারুজ্জামান: সে একজন অনিয়মিত সান্ধ্যকালীন বয়স্ক শিক্ষার্থী। যা হোক ডাকসু নির্বাচন তো আমরা করবো একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। হুটহাট করে, তফসিল ঘোষণা করে ডাকসু হয় না। ডাকসু করার জন্য অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। তারপর গণতান্ত্রিক রীতিতে এগোতে হবে। ডাকসু নির্বাচন যাতে হয় সেই জন্য কিছু কিছু উদ্যোগ, পদক্ষেপ নিতে হবে।

তরুণ প্রজন্ম এখন বিসিএস-এর উপর নির্ভরশীল বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সেটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

আখতারুজ্জামান: তরুণ প্রজন্ম এখন বিসিএস-এর উপর নির্ভরশীল না। এখন মাল্টি ডিসিপ্লেনারী জব মার্কেট আছে এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা নানাবিধ পেশায় যেতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে একটি বড় আকারের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। পড়াশোনা করে, দ্রুত স্নাতক শেষে কর্মে নিয়োজিত হতে চায়। একসময় ধারণা ছিল যে একটি সরকারি চাকরি করবে। এখন শিক্ষার্থীদের জন্য বহু ক্ষেত্র আছে।

বিভিন্ন সময় কথা ওঠে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলো চালু করা

হয় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। আপনার কি মনে হয়?

আখতারুজ্জামান: বিভিন্ন উদ্দেশ্যে কোর্সগুলো চালু করা হয়েছে তবে  এটা ঠিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটা বিশাল বোঝা। আমাদের নিজেদেরই প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এবং অন্যান্য আছে আরো অনেক কিন্তু আমাদের সেই ধরনের সুযোগ সুবিধা বা অবকাঠামো নেই। তবে পজেটিভ দিকও আছে পেশাজীবীদের মাঝে বিশেষায়িত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এমন একটি অভিযোগ কিন্তু এখন

ওঠছে। এই বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

আখতারুজ্জামান: এখানে কোন প্রশ্নপত্র ওইভাবে ফাঁস হয় না। তবে এখানে যেটা হয় পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি হয়। এই বছর আমাদের একটা বড় সাফল্য হলো আমরা এই চক্রকে ধরে ফেলেছি। এটা জাতির জন্য সাফল্য কারণ আমাদের দেখাদেখি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব চক্রকে কোন বার্তা যদি দেই সেটা হচ্ছে, যারা এর মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এমন প্রমাণিত হলে তাদের ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। যদি এমনো হয় অষ্টম সেমিস্টারে গিয়ে প্রমাণ মিলেছে বা সনদপত্র তুলে নিয়ে গেছে চাকরি করছে তখনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেয়া হবে। সেই ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

ছবি: আবুল বাশার

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন