পরিবেশ দূষণে মাশুলের আওতায় ৭৫৭ কারখানা
রিয়াদ হোসেন২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
পরিবেশ দূষণে মাশুলের আওতায় ৭৫৭ কারখানা
পরিবেশ দূষণ করছে এমন ৭৫৭টি শিল্প কারখানাকে নির্ধারিত করের বাইরেও ১ শতাংশ হারে সারচার্জ (মাশুল) দিতে হবে। বাজেটে ঘোষণা দেয়ার প্রায় ৮ মাস পর এ তালিকা চূড়ান্ত করা হলো। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দূষণকারী শিল্পের তালিকায় ট্যানারি ও বস্ত্র খাতের শিল্পের সংখ্যাই বেশি। শুরুতে প্রায় আড়াই হাজার শিল্প কারখানার তালিকা করা হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে উল্লিখিত সংখ্যায় আনা হয়।

এনবিআরের তালিকা অনুযায়ী ট্যানারি, উইভিং, ডাইং ও ফিনিশিং, হিমাগার, ওষুধ খাত, হোটেল, স্টিল কারখানা (স্ক্র্যাপ), পেপার বোর্ড মিল, অটো রাইস মিল, সিগারেট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবেশ দূষণকারী ৭৫৭টি শিল্প কারখানার উপর এ মাশুল আরোপ করা হয়েছে। কেবল এসব প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের অতিরিক্ত আরো ১ শতাংশ হারে মাশুল দিতে হবে।

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করে সরকার। গত বাজেটে সরকার এ ঘোষণা দেয়। আদায়কৃত এ অর্থ পরিবেশ উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ করছে- শুরুতে এমন ২ হাজার ৪৬৬টি শিল্প কারখানাকে চিহ্নিত করে এনবিআরের কাছে পাঠায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই তালিকায় ইটভাটা ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক- ৯২৪টি; কিন্তু ইটভাটা শিল্পের সংজ্ঞায় পড়েনা- এমন যুক্তিতে ইটভাটাকে ওই তালিকা থেকে পরবর্তীতে বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে যে সব শিল্প ইতিমধ্যে ইটিপি (বর্জ্য পরিশোধনাগার) স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ থেকে বের হয়ে এসেছে সেসব শিল্পকেও চূড়ান্ত তালিকায় বাদ দেয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও এনবিআর দীর্ঘদিন কাজ করার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সমর্থ হয়।

এনবিআর ভ্যাটের আদলে এই সারচার্জ আদায় করবে। পরিবেশ দূষণকে নিরুত্সাহিত করতে গত বাজেটে দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর সারচার্জ আরোপ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, দূষণকারী এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই রাজধানীর ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহরের শিল্পও এই তালিকায় রয়েছে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সারচার্জ আদায়কারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের এ তালিকা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ হবে। যে সব শিল্প কারখানা দূষণ থেকে বের হয়ে কমপ্লায়েন্স হবে সে সব কারখানা তালিকা থেকে বাদ যাবে। ফলে তাদের সারচার্জ দিতে হবে না। অন্যদিকে যে সব কারখানা পরিবেশ দূষণ করবে তারা এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তাদের উপর সারচার্জ আরোপ হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকার ভিত্তিতে তা কার্যকর করা হবে। বর্তমানে এসব শিল্প কারখানা উত্পাদন মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন