হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের চিকিত্সায় নতুন তথ্য
ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
হেপাটাইটিস সি এক মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। হেপাটাইটিস এ, বি ভাইরাস ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা গেলেও হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধে কোন ধরনের ভ্যাকসিন নেই। প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মবিন খানের মতে, দেশের শতকরা ১ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। যদি আমরা শতকরা ১ ভাগ লোককেও হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ধরি তাহলে দেশে অন্তত: ১৬ থেকে ১৭ লক্ষ লোক আছে যারা হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের জীবাণু বহন করছে। লিভারের এই মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধিটির চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। এতদিন ব্যয় বহুল ইনজেকশনই ছিলো হেপাটাইটিস সি আক্রান্তদের চিকিত্সার একমাত্র উপায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের এই চিকিত্সা নাগালের বাইরে ছিলো। আর লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার সৃষ্টির অপরিসীম ক্ষমতাধর এই ভাইরাসটি শরীরের মধ্যে বসবাস করতে পারে বছরের পর বছর ধরে। ধ্বংস করে দিতে পারে লিভার কোষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য সুখবর দিয়েছে। আর এই সুখবরটি হচ্ছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি গিলিয়াড কর্তৃক আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রথম মুখে খাবার ওষুধ সফোসবিউভির ট্যাবলেট-এর অনুমোদন দিয়েছে। ফলে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হেপাটাইটিস সি রোগীর অন্তত: শতকরা ৮৯ ভাগ এখন ভাইরাস মুক্ত হতে পারবেন। তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে, দেশের ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা এই সফোসবিউভির ট্যাবলেটি দেশে উত্পাদন করছে। ফলে দেশের অন্তত: ১৬/১৭ লক্ষ হেপাটাইটিস রোগী কম খরচে হেপাটাইটিস সি-এর চিকিত্সা দেশেই করতে পারবেন।

এব্যাপারে অধ্যাপক মবিন খানের অভিমত হচ্ছে, তিনি দেশে উত্পাদিত হেপাটাইটিস সি এর জন্য মুখে খাবার বড়ি সফোসবিউভির রোগীদের সেবন করতে দিচ্ছেন। তবে তিনি বলেন, সফোসবিউভির ট্যাবলেট-এর সঙ্গে অন্য এন্টিভাইরাল রিবাভাইরিন অথবা ইন্টারফেরন ইনজেকশন-এর কম্বিনেশন দিতে হবে। তবে কোন অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতীত সফোসবিউভির সেবন বাঞ্ছনীয় নয়।

অধ্যাপক মবিন খান আরও উল্লেখ করেন সফোসবিউভির ও অন্যান্য কম্বিনেশন চিকিত্সা অন্তত: ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত চালাতে হবে। তিনি বলেন, হেপাটাইটিস সি-এর ৪টি জেনোটাইপ আছে। জেনোটাইপ ২, ৩-এর ক্ষেত্রে সফোসবিউভির ও এন্টিভাইরাল রিবাভাইরিন দিতে হবে। আর জেনোটাইপ ১, ৪-এর ক্ষেত্রে সফোসবিউভির । রিবাভাইরিন ও ইন্টারফেরন ইনজেকশন কম্বিনেশন থেরাপি দিতে হবে। তবে যদি জেনোটাইপ ১, ৪-এর ক্ষেত্রে শুধু সফোসবিউভির ও একটি ভাইরাল রিবাভাইরিন-এর কম্বিনেশন দেয়া হয় তাহলে চিকিত্সার ক্ষেত্রে ৪৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর টাইপ ১, ৪-এর ক্ষেতে তিন কম্বিনেশন থেরাপি দেয়া হলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সুফল পাওয়া যায়। অধ্যাপক মবিন খান মনে করেন, দেশে সফোসবিউভির ট্যাবলেট দিয়ে চিকিত্সা শুরু হয়েছে। এটা আশার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বৈজ্ঞানিক তথ্যে বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস চিকিত্সার ওষুধ সফোসবিউভির অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। এমনকি ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও ওষুধটি সেবনের পরামর্শ দেয়া যায়।

এদিকে, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত  ৩২৭ জন রোগীকে (জেনোটাইপি-১) নতুন আবিষ্কৃত মুখে খাবার ওষুধ সফোসবিউভির সঙ্গে এন্টি ভাইরাল রিবাভাইরিন এবং সপ্তাহে ১টা করে ইনজেকশন পেগিনটাফেরন আলফা-ওষুধের কম্বিনেশন থেরাপি দিয়ে চিকিত্সা দেয়া হয়। ১২ সপ্তাহ পর রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় শতকরা ৮৯ ভাগ ক্ষেত্রে রক্তে আর কোন হেপাটাইটিস সি-এর ভাইরাস নেই। তবে দেশের একজন ওষুধ বিশেষজ্ঞ জানান, বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত হচ্ছে জেনোটাইপ ২,৩। এসব ক্ষেত্রে ইনজেকশনের প্রয়োজন নেই। তবে অধ্যাপক মবিন খান মনে করেন হেপাটাইটিস সি চিকিত্সার ক্ষেত্রে রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ যথাযথ রোগ নিরূপণ ও ওষুধের ধরন নির্বাচন না করা গেলে জটিলতা হতে পারে। তাই হেপাটাইটিস সি অথবা হেপাটাইটিস বি চিকিত্সার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে অধ্যাপক মবিন খানের পরামর্শ হচ্ছে, যাতে হেপাটাইটিস সি না হয় তার জন্য বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং এক্ষেত্রে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, অন্যের ব্যবহূত ইনজেকশনের সুই না ব্যবহার এবং স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্যের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক পরিহার করতে হবে। কারণ এইডস যেভাবে ছড়ায় ঠিক একইভাবে হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায়।

লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন