দুর্নীতি প্রতিরোধে বাধা রাজনৈতিক সদিচ্ছা
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
 

দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্য

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকার কারণেই সংসদে দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয় না। সে জন্য দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিকরণে যৌথ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সংসদে দুদক, সিএজিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেও সংসদ সদস্যরা কখনোই দুর্নীতি বিস্তার ও প্রতিরোধ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করেন না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকার কারণেই দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোতে দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল হয়েছে তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই।

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কী হনু রে’- এই মানসিকতা থেকে সব কর্মকর্তাকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ সম্মানিত মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা উচিত। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ মানেই যে তিনি অভিযুক্ত, তা নয়।

সামপ্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করছেন। যেখানে-সেখানে বোমা ও পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ মারা হচ্ছে। অথচ কোনো নেতার গায়ে বোমা পড়ে না।

সিএজি, তথ্য কমিশন ও দুদকের একত্রে কাজ করার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তিনটি দফতরই একত্রে কাজ করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সে জন্য প্রথমে আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা দরকার। প্রকৃত রোগ চিহ্নিত করতে পারলে তার উপশম করা যায়।

এছাড়া প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘শুদ্ধাচার নীতিমালার আলোকে আমাদের একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যার ভিত্তিতে এখন থেকে ৬৪ জেলায় ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে। যারা তথ্যপ্রবাহকে সবার মধ্যে সরবরাহ করবে।’

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১০০ আইন রয়েছে। সবগুলো আইনের মধ্যে শুধু তথ্য আইন জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। ক্ষমতা যদি জনগণের মধ্যে চলে যায়, তাহলে জনগণই জবাবদিহিতায় আনতে বাধ্য করবে।

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ দুদকের ব্যাপারে বলেন, দুদকের কাজের পরিধি ব্যাপক। সে জন্য দরকার কাজের দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। কিন্তু এই বিষয়ে অনেক ব্যবধান রয়েছে। অপরাধীর সাজা না হলে সমাজে কোনো মেসেজ যায় না। তাই অপরাধীর সাজা পেতে হবে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট এম হুমায়ূন কবীর বলেন, দুদক, সিএজি ও তথ্য কমিশন এক সঙ্গে কাজ করতে হলে একটি সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা দরকার। একজন সদস্য নিয়ে গঠিত ওই কমিটি তিন মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন পেশ করবে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেয়া যাবে। এরপরই সভা থেকে তিন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- দুদকের মহাপরিচালক মো. সহিদুজ্জামান, তথ্য কমিশনের সচিব মো. ফরহাদ হোসেন ও সিনিয়র ডেপুটি সিএজি আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আবিদ। এ সময় দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হক, দুদকের মহাপরিচালক জিয়াউদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সালাউদ্দিন আহমেদসহ তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জিআইজেড বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, পাকিস্তান আমল থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা সফল হতে পারিনি। আমাদের এ লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সারাবিশ্বেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয় যে দুর্নীতি প্রতিরোধে অন্যান্য দেশ যেভাবে অগ্রগতি করেছে আমরা তাদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। এ অনুষ্ঠানে কমিশনের ২৯ জন কর্মকর্তার হাতে প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ তুলে দেয়া হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন