সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি
রমজানে কাজ বন্ধ রাখতে ডিএসসিসি মেয়রের নির্দেশ মানা হচ্ছে না
রফিকুল ইসলাম রবি০৪ জুন, ২০১৮ ইং
সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি
মৌসুম শুরুর আগেই ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীতে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। অলি-গলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে খোঁড়াখুঁড়ি এ দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গাড়ি চলা তো দূরের কথা, কোনো কোনো সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় সড়কে ওড়ে ধুলোবালি, আবার সামান্য বৃষ্টিতে জল-কাদায় একাকার হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের মধ্যে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে তড়িঘড়ি করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কাজ করছে সংস্থাটি। যদিও গত ১৫ মে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে রমজান মাসে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে সংস্থাটির আওতাধীন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেয়রের নির্দেশ না মেনে প্রধান সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল জানান, চলতি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। এ জন্য কাজ চলমান রাখতে হচ্ছে।

মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা শামসুল হায়দার বলেন, ‘বাজেটের আগে সকল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা প্রতি বছরের রুটিন হয়ে গেছে। বাজেটের পর কিংবা শুকনার সময় কাজ না করে বর্ষার সময় কাজ করা একটা নিয়ম হয়ে গেছে। মাদারটেক চৌরাস্তা দিয়ে বাসাবো বিশ্বরোড হয়ে বাসে চড়ে কলেজে যাতায়াত করতেন সরকারি তিতুমীর কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম আহম্মেদ। তবে গত প্রায় দশ মাস ধরে বাসাবো টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে মাদারটেক চৌরাস্তা পর্যন্ত মূল সড়কটির সংস্কার কাজ চলায় বিকল্প রাস্তা হিসেবে বনশ্রী হয়ে রামপুরা ব্রিজ সড়ক দিয়ে তিনি কলেজে যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, সড়কটি সংস্কারের নামে বড় বড় গর্ত করে ফেলে রাখায় চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাসাবো, মাদারটেক, নন্দীপাড়া, মুগদা, মান্ডা, প্রজেক্ট, বাগানবাড়ী, কদমতলা, মানিকনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। দশ মাস আগে কাজ শুরু হয়েও এখনো শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। পাইপ বসানোর জন্য কয়েক মাস ধরে রাস্তায় বড় বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে রাস্তাগুলো সরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় একই চিত্র রাজধানীর কাফরুল, মিরপুর, পল্লবী, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, মতিঝিল, রাজারবাগ, কমলাপুর, আরামবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কাঁটাবন, তোপখানা, শাহবাগ, কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাঁধ, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মগবাজার, সিদ্বেশ্বরী, পল্টন, পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার, বংশাল, সূত্রাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, আরামবাগ, আজিমপুর, গোপীবাগ, আলু বাজার, চকবাজার এলাকায়। মাসের পর মাস ধরে খুঁড়ে রাখা হয়েছে ওইসব এলাকার সড়কগুলো।

কমলাপুর রেলস্টেশনমুখী প্রায় প্রতিটি সড়কেই চলছে সংস্কার কাজ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলোতেও থেমে থেমে কাজ করায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কমলাপুরগামী মানুষকে এসব ভোগান্তি পেরিয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে আছে শাহজাহানপুর মোড় থেকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও ফকিরাপুলমুখী মূল সড়কটির এক পাশ। পাইপ বসানোর কাজ দু’মাস আগে শেষ হলেও এখনো ঢালাই হয়নি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা মিরপুর-১২ থেকে কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও হয়ে মনিপুরীপাড়া পর্যন্ত সড়কটির মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলো সরু হয়ে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার একপাশের বড় একটি অংশ বন্ধ রয়েছে। ফলে গুলিস্তান ও মতিঝিলগামী যানবাহনগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অল্প বৃষ্টিতেই জমছে পানি।

মিরপুর থেকে গুলিস্তান রুটের ইটিসি পরিবহনের চালক নাজমুল হোসেন বলেন, আগে মিরপুর-গুলিস্তান রুটে যেখানে পাঁচটি ট্রিপ দিতাম, এখন সেখানে দুইটার বেশি দিতে পারি না। তিন ঘণ্টা লাগে গুলিস্তান পৌঁছতে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন