বনের হাতি কেন জনপদে
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
ভারত হইতে আসা ১৫ বন্য হাতির যন্ত্রণায় এখন অতিষ্ঠ রৌমারীর ২০ গ্রামের মানুষ। কারণ এই হাতিগুলি ক্ষতিসাধন করিতেছে ধান, সরিষা, কালাইসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের। তাই কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী মানুষ কয়েক দিন ধরিয়া ফসল, ঘরবাড়িসহ জানমাল রক্ষায় রাতভর আগুন জ্বালাইয়া ও ঢাক-ঢোল পিটাইয়া হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করিতেছেন। কয়েক মাস আগে ভারত হইতে উজানের ঢলের সহিত বাংলাদেশে ভাসিয়া আসে এমনই এক বন্য হাতি। তাহা নিয়া বেশ কিছুদিন ধরিয়া সরব হইয়াছিল আমাদের মিডিয়াগুলি। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই হাতির পরিণাম ভালো হয় নাই।

ভারতের সীমান্ত অঞ্চল বা আমাদের পাহাড়-পর্বত ও বন-জঙ্গল হইতে হাতি কেন বার বার লোকালয়ে চলিয়া আসিতেছে এবং তাণ্ডব চালাইতেছে সেই প্রশ্নটি আজ বড় হইয়া দেখা দিয়াছে। শেরপুরসহ দেশের কোনো কোনো সীমান্তে বন্য হাতি ও মানুষের যুদ্ধ যেন লাগিয়াই আছে। পাহাড় হইতে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে নামিয়া আসিয়া হাতির দল ফসলের মাঠ-বাড়িঘরে কেবল তাণ্ডবই চালায় না, মানুষের জীবনহানিও ঘটায়। মানুষও জীবন রক্ষায় তখন হাতির ওপর আক্রমণ চালায়। ময়মনসিংহ বন বিভাগ ও শেরপুর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যালয়ের হিসাবমতে, ১৯৯৫ সাল হইতে এই বত্সরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাতির আক্রমণে মৃত্যু হইয়াছে ৪৭ জনের। আহত হইয়াছে পাঁচ শতাধিক। অন্যদিকে মানুষের হাতে মারা পড়িয়াছে ১৯টি হাতি। ইহা হইতেই হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্যক উপলব্ধি করা যায়। তবে ইহার স্বরূপ আরও ভয়াবহ। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ট্রন্ডহেইম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, বন্য হাতি অধ্যুষিত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে বা সীমানাসংলগ্ন লোকালয়ে যাহারা অবৈধভাবে বসবাস করে, তাহারাই মূলত এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। আগের কৃষিকাজ ও মত্স্য আহরণ বাদ দিয়া তাহাদের জীবন-জীবিকা এখন মূলত বননির্ভরশীল। ফলে হাতির সমৃদ্ধ আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে। সীমান্তের অপরপারেও ঘটিতেছে একই ঘটনা। ফলে সেখানকার হাতি খাদ্যের সন্ধানে চলিয়া আসিতেছে এপারের লোকালয়েও।

রৌমারীতে আসা হাতির দলকে ভারতের পাহাড়ে ফেরত পাঠাইবার ক্ষেত্রে কার্যত আধুনিক ও প্রচলিত পদ্ধতির সমন্বিত কৌশলের আশ্রয় নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই হাতি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিহিত রহিয়াছে বন্য হাতির হোমরেঞ্জ বা আবাসসীমা ঠিক রাখা ও সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজনন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে। এইজন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বনের আশেপাশে বসবাস করা লোকদের বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাইতে হইবে। হাতিঅধ্যুষিত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা হইতে বাহিরের দিকে কমপক্ষে দুই কিলোমিটারের মধ্যে বন্ধ করিতে হইবে যে-কোনো ধরনের চাষাবাদ, ইটের ভাটা ও বসতি স্থাপন।  আমরা আশা করি, এই ব্যাপারে আন্তঃদেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি  পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য হাতির আবাসস্থলের উন্নয়নে আমরা সচেতনতার পরিচয় প্রদান করিব।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন