অপুষ্টি সমস্যা ও অজ্ঞতা
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগই অপুষ্টির শিকার। আর ২০ বত্সরের মধ্যেই পৃথিবী জুড়িয়া মহামারীর রূপ লইতে যাইতেছে এই অপুষ্টি। অন্তত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ইউএনএফএও) সমীক্ষা হইতে এমনই আভাস মিলিতেছে। সমীক্ষা মতে, এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যত মানুষ অপুষ্টিতে আক্রান্ত হইতেছে—ইহার মধ্যে ৮০ কোটি মানুষ অনাহারক্লিষ্ট, যাহারা অভুক্ত থাকিয়া কিংবা একবেলা কোনোভাবে সামান্য খাইয়া দিন গুজরান করে। ইহার বিপরীতে ১৯০ কোটি মানুষ স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের শিকার। স্থূলতাও এক ধরনের অপুষ্টি। কারণ স্থূলতা আসলে বেহিসাবি খাদ্য গ্রহণ অথবা উপযুক্ত পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকার অভাবজনিত কারণে সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৫০ কোটির পাশাপাশি। সুতরাং শীর্ণতা ও স্থূলতা—এই দুই অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা এই মুহূর্তে প্রায় ২১০ কোটি। ইউএনএফএও আশঙ্কা করিতেছে, বিশ্বে এই দুই ধরনের অপুষ্টি যেভাবে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাইতেছে, তাহাতে লাগাম পরাইতে না পারিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষই অপুষ্টির কবলে পড়িবে। অন্যদিকে অপুষ্টির কারণে বিশ্বের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও নেহাত কম নহে। জানা যায়, পুষ্টিসংক্রান্ত সমস্যায় প্রতি বত্সর বিশ্ব অর্থনীতি সাড়ে তিন লক্ষ কোটি ডলারের সমতুল্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হইতেছে। বাংলাদেশে নারী ও শিশুরা প্রধানত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে অপুষ্টির শিকার হইয়া থাকে। কয়েক বত্সর পূর্বে যুক্তরাজ্য হইতে প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল হইতে জানা যায়, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ শিশু ও ৪০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী অপুষ্টিজনিত রক্তস্বল্পতায় ভুগিতেছে। বর্তমানে এই চিত্রের কিছুটা উন্নতি ঘটিলেও প্রকৃত অবস্থা সহনীয় পর্যায়ে আসিতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হইবে। মুশকিল হইল, অপুষ্টির কারণ সকল সময় দরিদ্রতা নহে। উন্নত বিশ্বে যেমন পুষ্টিজ্ঞানের অভাবে অপুষ্টিজনিত স্থূলতা দেখা যায়, উন্নয়নশীল বিশ্বে তেমনি অজ্ঞতার কারণেও পুষ্টিহীনতা দৃশ্যমান হয়। যেমন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে ভরপেট আহার করা মানে কেবল কার্বহাইড্রেট গ্রহণ করা। সুষম খাবারের উপাদানের অভাব আমাদের দেশে নাই, কিন্তু কী করিয়া রান্না করিলে কিংবা খাবার পাতে কী কী ধরনের খাদ্যের মিশ্রণ থাকিলে তাহা সুষম আহার হইবে—সেই জ্ঞানের অভাব রহিয়াছে। এমনকি শিক্ষিত শ্রেণির বৃহত্ একটি অংশের মধ্যেও এই অজ্ঞতার দেখা মিলে।

সুতরাং, অপুষ্টিজনিত সমস্যা হইতে বিশ্বকে রক্ষা করিতে হইলে পুষ্টিকর খাদ্যের উপাদান সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পরিবেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে। যদিও অনাহারজনিত কারণে অপুষ্টির হার বিশ্বে ক্রমশই হ্রাস পাইতেছে। এককালে দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ হইত প্রধানত যোগাযোগ ব্যবস্থার দৈন্যদশার কারণে। সেই অবস্থার অভাবিত উত্তরণ ঘটিয়াছে পৃথিবী জুড়িয়াই। তাই, বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহে অপুষ্টির ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। প্রত্যেকটি রাষ্ট্র তাহাদের নিজস্ব অপুষ্টিজনিত সমস্যা অনুযায়ী এই ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন