এই দাবানল রুখিবে কে?
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়াইয়া পড়িয়াছে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই দাবানলে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়িয়া দাঁড়াইয়াছে ২৫ জনে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র স্কট ম্যাকক্লিন জানাইয়াছেন, তাহারা এমনভাবে পুড়িয়া গিয়াছে যে, তাহাদের শনাক্ত করা কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। সিএনএনের খবরে বলা হইয়াছে, তিন লক্ষাধিক মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে বাধ্য করা হইয়াছে। দাবানলে পাহাড়ি এলাকা প্যারাডাইজে প্রায় সাত হাজার ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা পুড়িয়া গিয়াছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রহিয়াছে ৩৫ জন। বিবিসির খবরে বলা হইয়াছে, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকাংশ এলাকা জুড়িয়া ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্ক সংকেত জারি করা হইয়াছে। অর্থাত্ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবানল আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করিতে পারে। এমনকি আগামী সপ্তাহেও এই অবস্থা চলিবে বলিয়া আশঙ্কা করা হইতেছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি দাবানল পোড়াইয়াছে ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলকে। এইবারের দাবানলকে বলা হইতেছে ক্যানিফোর্নিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় ভয়াবহতম এবং সবচাইতে ধ্বংসাত্মক দাবানল। ইহার আগে ১৯৩৩ সালে গ্রিফিত পার্ক ও ১৯৯১ সালে টানেল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবচাইতে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়াছিল। আর গত বত্সর অক্টোবর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একই অঞ্চলে দাবানলের আগুনে পুড়িয়া প্রাণ হারায় ৪৪ জন। কিন্তু এইবারের দাবানল দীর্ঘস্থায়ী হইবে বলিয়া যে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হইতেছে তাহাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়-ক্ষতির দিক দিয়া ইহা অন্যান্য দাবানলকেও ছাড়াইয়া যাইতে পারে। কেননা বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া জুড়িয়া মোট ১৬টি দাবানল সক্রিয় রহিয়াছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই দাবানলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিয়াছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইট বার্তায় তিনি বলিয়াছেন যে, বনে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণেই এই দাবানলের সৃষ্টি হইয়াছে। সরকার প্রতি বত্সর শতকোটি ডলার ইহার পিছনে ঢালার পরও মানুষ আগুনে পুড়িয়া মারা যাইতেছে। ইহার আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের দাবানলের জন্য দোষারোপ করিয়া অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। ট্রাম্পের ‘সহানুভূতিহীন’ এই বক্তব্য ও আচরণের সমালোচনা করিয়া চলিয়াছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, মার্কিন তারকারাসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করিয়া ইহার জবাবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউনের মুখপাত্র ইভান ওয়েস্টরাব ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ ও অজ্ঞ’ বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যে, প্রেসিডেন্টের বিচারবুদ্ধিহীন টুইটের ওপর নহে, দাবানলে ক্যালিফোর্নিয়ায় কী প্রভাব পড়িতেছে, তাহা লইয়াই আমরা আলোকপাত করিতেছি।

দাবানল বিষয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থার প্রধানের বক্তব্য হইল, ইহার সঙ্গে বিশ্ব উষ্ণায়নের সম্পর্ক রহিয়াছে। আর বিজ্ঞানীরা বিমান হইতে বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে দাবানল দ্রুত নিভানো যায়, তাহা নিয়াও চিন্তাভাবনা করিতেছেন। তবে শেষপর্যন্ত প্রকৃতি ও ইহার নিয়ন্ত্রকের নিকট আমরা যে কতটা অসহায়, তাহা ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল হইতে আমরা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করিতে পারি। যুগে যুগে নানা সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিভিন্ন জাতি ও সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হইয়া গিয়াছে। তাই ইহা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এমন ভাবিবার অবকাশ নাই। আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতির কথা চিন্তা না করিলে আমাদের এমন বিপর্যয়ের সম্মুখীন যে বারংবার হইতে হইবে তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন