একুশের নতুন বইয়ের কথা
শ্রুতিলিখন : শামিল আরাফাত২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
একুশের নতুন বইয়ের কথা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে এখন পর্যন্ত বেরিয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই।  এখানে অল্প কয়েকটি বইয়ের কথা ছাপা হলো। আমরা চেষ্টা করব পরবর্তীকালে আরও কিছু বই সম্পর্কে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে। - বি.স.

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি (১৯০৫-১৯৪৭)

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশক :সংহতি প্রকাশন

দাম :এক হাজার টাকা

n উত্সব মোসাদ্দেক n

 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ভাষার প্রধানতম প্রাবন্ধিকদের অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক দীর্ঘ দশ বছর ধরে রচনা করেছেন জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি গ্রন্থটি। ১৯০৫ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৭ সালের দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গ পর্যন্ত সময়টি এর আলোচ্যসূচি, কিন্তু বিষয়ের প্রয়োজনেই তিনি পূর্বসূরি উনিশ শতকের কীর্তিমানদের কাজগুলো যেমন বিচার করেছেন, তেমনি আজকের বাস্তবতাতেও এই সব কিছুর প্রভাবকে খুঁজে ফিরেছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিতর্ক এখনো জারি আছে। সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনা কীভাবে ঘটেছিল? দেশেপ্রেমের প্রথম সচেতন জোয়ার সৃষ্টি করা জাতীয়তাবাদ কেন শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকেই প্রধান অবলম্বন করে নিল? সমকালীন রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিকদের রচনাসমূহকে আতশ কাচের নিচে রেখে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এই গ্রন্থের বাড়তি আকর্ষণ হলো রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশ্লেষণ হলেও এতে অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে সাহিত্যের উপাদানগুলো। প্রধান সাহিত্যিকদের কাজগুলো নিয়ে এত ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ বাংলা ভাষায় বিরল।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বইটি উত্সর্গ করেছেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে। তাঁর ‘জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি’ বইটিতে উনিশ শতকের কীর্তিমানদের তত্পরতায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ফলাফলকেই কখনো কখনো চিহ্নিত করেছেন আমাদের চারপাশের বাস্তবতায়। যার ফলে বইটি থেকে ঐতিহাসিক সংকটগুলো চিহ্নিত করা যেতে পারে। বইটিতে গতানুগতিক কায়দায় ইতিহাসের বর্ণনা করা হয়নি, বরং ইতিহাসের তাত্পর্য অনুসন্ধান করেছেন কুশীলবদের চিন্তা ও তত্পরতাকে বোঝার চেষ্টার মধ্য দিয়ে।

চতুর্দশ পরিচ্ছদে বিন্যস্ত বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে, ‘বঙ্গভঙ্গ এবং তারপর’, ‘জাতীয়তাবাদের ধারনা ও প্রবণতা’, ‘গান্ধীর চিন্তা ও ভূমিকা’, ‘জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং সংখ্যালঘুর ভাগ্য’, ‘দেশভাঙ্গার তত্পরতা ও দায়দায়িত্ব’, ‘স্বাধীনতা বনাম ঔপনিবেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন, ‘সুভাষ বসুর রাজনীতি এবং জাতীয়তাবাদের সীমা’, ‘তিনদল, আবার একদলও’, ‘দেশভাগের প্রক্রিয়া’, ‘ইতিহাসের কৌতুক এবং পরাজিতের স্বাধীনতা’, ‘বাংলাভাগ’, ‘মঞ্চে, মঞ্চের পেছনে এবং বাইরে’, এবং শেষ হয়েছে ‘জনগণের মুক্তির প্রশ্নে’ নামক গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছদের মাধ্যমে।

=============

 

সৈয়দ ইকবাল

নাচে টরন্টো

 

নাচে টরন্টো

সৈয়দ ইকবাল

প্রকাশক :দি রয়েল পাবলিশার্স

মূল্য :১২০ টাকা

n খন্দকার রাফি n

 

নাচে টরন্টো। নামেই বোঝা যায় শহর ও একটি চরিত্র। ইদানিং কিছু আসছে দেশের বাইরে বেড়ে ওঠা বাঙালি চরিত্রের নানাদিক নিয়ে লেখা গদ্য। শিল্পী ও লেখক সৈয়দ ইকবাল ভাসমান জীবন যাপন করেন জাহাজের মতো—কখনো দেশে, কখনো বিদেশে। বিশেষ করে নর্থ আমেরিকার দুই দেশ কানাডা ও আমেরিকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেখানকার মানুষের মেলবন্ধন, টানাপড়েন প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে লেখেন। ‘নাচে টরন্টো’ বেশ জীবন্তভাবে এসেছে কানাডার সবচেয়ে জনবহুল শহর টরন্টো। টরন্টো গাউনটাউন, বাইরে ডাউন টাউন হচ্ছে বিজনেস অ্যারিয়া। বিশাল আকাশ। দালানের ফাঁকে ফাঁকে ভাঙ্গা-চোরা পুরোনো বাড়ি। সারা দিন হাজারো মানুষের কোলাহল, সন্ধ্যার পর সুনসান। শুধু নাইটক্লাব আর নুড স্ট্র্যাপটিজ ক্লাবগুলো লাউড মিউজিকে নিজদের অস্তিত্ব জানান দেয়। টরন্টোর ডাউন টাউনের ঠিক মধ্যিখানে ডানডাস রাস্তাকে ক্রস করেছে ইয়ংস্ট্রিট ঢাকার গুলিস্তানের মতো হার্ট অব দ্য সিটি। এখানটায় স্বনামধন্য নুড বার ‘জাঞ্জিবার’। এখানকার ড্যান্সার বাইশ বছরের মেয়ে সারা। সারার বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী জমির হোসেন শান্তর সঙ্গে এক বিচিত্রভাবে আলাপের ঘটনা নিয়ে উপন্যাসটির বিস্তার শুরু হয়। ইকবালের ভাষা প্রয়োগ বেশ টান টান, তাই দ্রুত পাঠক এগিয়ে যেতে পারে। যত এগোয় ততই নতুন সব চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়। তৈরি হতে থাকে এক অজানা শিহরণ। শান্ত শুধু নামেই শান্ত নয়, আসলেই এক স্বপ্ন দেখা অন্তরমুখী যুবক। যার মগজে সারাক্ষণ ফেরিওয়ালা ডাক দিয়ে বেড়ায়—কষ্ট নেবে কষ্ট! লাল কষ্ট, নীল কষ্ট!

শান্তর বন্ধু মোহাম্মদপুরের মাস্তান সেলিম কিন্তু একেবারে ফিট প্রবাসে। প্রবাসে কীভাবে অন্যের মাথায় দড়ি ঘুরিয়ে টিকে থাকতে হয়, তার ভালোই জানা। স্বপ্ন দেখা সরল বন্ধু শান্তকে সব ঝামেলা থেকে রক্ষা করে রাখতে চায়। বিশেষ করে কোর্টে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের কেস না পাওয়া পর্যন্ত। একবার বৈধ হয়ে গেলে কেল্লা ফতে! অথচ সেলিমের কারণেই ‘জাঞ্জিবার’ নামে নুডবারের অপরূপ দীর্ঘ কালো চুলের মেয়ে সারার সঙ্গে শান্তর আলাপ হয়। নিয়তির টানে দুজন দ্রুত পরস্পরের কাছে আসতে থাকে। সারা বলে, তার আসল নাম ফারা। বড় মেয়ে ফারা ছাড়া ছোট আরো তিনজনকে নিয়ে মা আমেরিকা হয়ে টরন্টো। সবার ভবিষতের কথা ভেবে কন্ট্রাক্টম্যারেজ করেছেন টরন্টো মেক্সিকান গ্যাংলিডার মার্তিনো গঞ্জালেসের সঙ্গে। ডলার কামাই করে না দিলে মায়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের দিকেও মার্তিনো হাত বাড়াবে। তাই মার্তিনো বাধ্য করেছে ফারাকে সারা নাম নিয়ে ‘জাঞ্জিবারে’ নাচতে।

সৈয়দ ইকবাল উপন্যাসে ধীরে ধীরে টান টান রহস্য জমিয়ে তুলেছেন। শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আটকে রাখে।

=============

 

মহিবুল আলম

তালপাতার পুথি

তালপাতার পুথি

তিনখণ্ডে প্রকাশিতব্য বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক উপন্যাসের প্রথম খণ্ড

মহিবুল আলম

প্রকাশক :শোভা প্রকাশ

মূল্য :৬০০ টাকা

n তপন বাগচী n

 

বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যতের চোখ নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বুনছেন, একটি স্বর্গসুখের সুখী জাতি, একটি ভালোবাসার লীলাভূমি বাংলাদেশ!...

বঙ্গবন্ধু গুনগুন করে গেয়ে উঠলেন, ‘...তোমার বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন, ওমা আমি নয়নজলে ভাসি, আমার সোনার বাংলা। আমি তোমায় ভালোবাসি...’   

গানটা গুনগুন করে গাইতে গাইতে বঙ্গবন্ধুর চোখ কখন যে ভিজে এল!...

বঙ্গবন্ধু এবং তাঁকে কেন্দ্র করে বেশকিছু সমান্তরাল চরিত্র। চরিত্রগুলো কিছু ঐতিহাসিক, কিছু কাহিনির পরিপ্রেক্ষিতে লেখকের সৃষ্টি। চরিত্রগুলো নিয়ে আছে লেখকের সাহসী নিরীক্ষা। কাহিনির বিষয় ও বর্ণনায় আছে এক অভিনতুন ব্যঞ্জনা। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধোত্তর সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পতিতদের নানামুখীন নষ্টামি, দেশ ও দেশের মানুষের গভীরতর দায়বদ্ধতা এবং ব্যক্তিক প্রেম-ভালোবাসার অনুপুঙ্খ বিবরণ উপন্যাসটায় নিপুণভাবে উঠে এসেছে।

পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের মর্মন্তুদ কাহিনির যে বিশাল এক পটভূমি আছে, তারই সাহিত্যিক ভাষ্য উপস্থাপিত হয়েছে তিন খণ্ডে পরিকল্পিত এই মহাকাব্যিক উপন্যাসে। মহিবুল আলম লিখেছেন এই বিরাটায়তন উপন্যাস ‘তালপাতার পুথি’।

১৪ আগস্ট ১৯৭৫, মাত্র ১ দিনের ঘটনা স্থান পেয়েছে এই খণ্ডে। ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃশংস ঘটনার আগের দিন বঙ্গবন্ধু পারিবারিক পরিবেশে কী ভাবছেন, তার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার কাহিনি। আর সমান্তরালে ইতিহাসের মীরজাফর খন্দকার মোশতাক, মাহবুবুল আলম চাষী, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদ, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবস্থান ও ষড়যন্ত্রের ইতিকথা অত্যন্ত ইতিহাস-সম্মতভাবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই গ্রন্থ পড়তে গেলে মনেই হবে না যে আমরা ইতিহাস পাঠ করছি। অথচ ইতিহাসের নিপুণ বিশ্লেষণ রয়েছে এই গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায়। আমরা ধরে নেব যে এটি মূলত উপন্যাস বটে!। কিন্তু এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র যেহেতু বঙ্গবন্ধু, তাই  ইতিহাসের ধারাক্রম রক্ষিত হওয়ার বিকল্প নেই। ঔপন্যাসিক সেটি ভালো করেই জানেন। তাই তিনি ইতিহাসের সত্য উদ্ঘাটনের মধ্য দিয়েই ইতিহাস-বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পেরেছেন। যাঁরা বঙ্গবন্ধুর কথা জানতে চান, যাঁরা পনেরই আগস্টের বর্বরতম ঘটনা বুঝতে চান, যাঁরা ভালো উপন্যাস পড়তে চান, এই বই তাঁদের সকল চাহিদা পূরণ করতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে এই গ্রন্থ। মহাকাব্যিক এই উপন্যাস প্রকাশের জন্য  শোভাপ্রকাশকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

=============

 

মনি হায়দার

১০ জানুয়ারী ১৯৭২ ও অন্যান্য গল্প

১০ জানুয়ারী ১৯৭২ ও অন্যান্য গল্প

মনি হায়দার

প্রকাশক :নওরোজ কিতাবিস্তান

মূল্য :১৮০ টাকা

n মাসউদ আহমাদ n

 

মনি হায়দারের গল্পে কোনো ভান নেই। আখ্যানের কেন্দ্রে ও বাইরে ভাষার অলৌকিক পিরামিড বা লিখনশৈলী নিয়ে আলাদা করে প্যাঁচ-পয়জারও নয়। তিনি বরং জীবনসংসার, ব্যক্তিমনের নিখাদ গল্পটুকুই বলেন, বলতে চান স্বকীয় শিল্পভাষ্যে। মনোজগত্ আচ্ছন্ন করে তোলা অনুভব-অভিজ্ঞতায় গল্প বুনে চলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর গদ্যভঙ্গিটি মেদহীন, নির্ভার, সাদামাটা; কিন্তু অন্তরঙ্গ। ভাষা বা শৈলীর চেয়ে জীবনের নির্মম ও মুগ্ধকর সংবেদনটুকুই তুলে ধরেন গল্পের ক্যানভাসে। চেনা জীবন-জগতের গল্প দিয়েই পাঠকের বোধ ও অভিজ্ঞতায় নতুন চেতনার রং মেখে দেন মনি। আমরা আনন্দ-বেদনায় লীন হই। পাশ ফিরে দেখি— আহা, জীবনেও এমন হয়!

‘১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ও অন্যান্য গল্প’ মনি হায়দারের এক গুচ্ছ নতুন ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের সংকলন। গত এক বছরে তিনি পত্রপত্রিকায় যেসব গল্প লিখেছেন, জীবন-সমাজ-পরিপার্শ্ব তাঁর শিল্পীহূদয়ে যেভাবে নাড়া দিয়েছে, সময় ও অভিজ্ঞতার মাধুরী তাঁকে আর্ত বা উদ্দীপ্ত করেছে—সেসবেরই রূপায়ণ গ্রন্থভুক্ত ১১টি গল্প। এতে সংসারের তিক্ত দৈনন্দিনতার গল্প আছে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর একটি জাতি বা দেয়ালে পিঠ ঠেকে-যাওয়া ভগ্নহূদয়ের মানুষ কীভাবে নতুন লড়াইয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখে—সেসবও উঠে এসেছে। গল্প তো শুধু গল্প নয়, জীবনের সূক্ষ্ম-টুকরো-গভীর উন্মোচনও। পরিবারের কর্তা ব্যক্তিটির চাকরি না থাকলে এই নগরজীবনে কীভাবে তার মানসিক ও সামাজিক পতন ঘটে, তার নির্মম প্রতিবেদন ‘মন সংক্রান্তি’ গল্পটি। বঙ্গবন্ধু যেদিন খুন হলেন, অজপাড়া গাঁয়ের সামান্য হালচাষির জীবনে সেই মৃত্যু কী বেদনায় বেজে ওঠে, তারই মানচিত্র ‘শেখ মুজিবের রক্ত’।

বেশক-টি গল্প গ্রন্থভুক্ত হওয়ার আগেই পাঠের সুযোগ ঘটেছে আমার। বিশেষ করে ’১০ জানুয়ারি ১৯৭২’, ‘মন সংক্রান্তি’, ‘শেখ মুজবিরে রক্ত’ ইত্যাদি গল্পের ক্যানভাস ও সংবেদন অপরূপ। উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা নিরীক্ষাপ্রবণ গল্পকারের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটে, গল্পের মুখোশ তৈরি করতে গিয়ে অনেকসময় মুখশ্রী ঢাকা পড়ে যায়। তখন হয় কী—গল্পের বিন্যাস অধরা থেকে যায়; জীবনের সূক্ষ্ম সুষমা, অভিঘাতও। গল্পের আঙ্গিককে মনি হায়দার বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে মনে হয় না। তাঁর গল্পে নেই স্মার্টনেসের বা অতিআধুনিক গল্পলেখকের চমকও। তবে আছে জীবন সম্বন্ধে গভীর অভিজ্ঞতা ও দরদ। ঘরোয়া ভঙ্গিতে, সংবেদী ঢঙে মানুষের দৈনন্দিন হাসি-কান্নার অনুপম ছবি আঁকায় তাঁর পারঙ্গমতা আকর্ষণীয়, অপরূপ।

একটা বই নিয়ে আসলে এত স্বল্প পরিসরে কিছু বলা শক্ত। মনি হায়দারের গল্পের জমিন-মানুষ ও প্রকৃতি অনুভব করতে, প্রিয় পাঠক, বইটি সংগ্রহ করে পড়ে নিতে পারেন!

=============

সরকার আবদুল মান্নান

কবিতার স্থাপত্যরীতি ও অন্যান্য প্রবন্ধ

কবিতার স্থাপত্যরীতি ও অন্যান্য প্রবন্ধ

সরকার আবদুল মান্নান

প্রকাশক : প্লাটফর্ম

মূল্য : ৩৫০ টাকা

n হায়াত্ মামুদ n

 

বইয়ের সূচিপত্রের তাকালে স্পষ্ট হয়ে উঠে তাঁর ভাবনার বিচরণক্ষেত্র—বিভিন্ন প্রসঙ্গের আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়ানো সাহিত্যের প্রতি এক নিষ্ঠ মমত্ববোধ ও নিজস্ব সাহিত্য চিন্তন। ভাষা, সাহিত্য, রবীন্দ্ররচনা, আধুনিক গদ্য সাহিত্য ইত্যাদি নানাবিধ বিচ্ছিন্ন প্রসঙ্গের উপরে তিনি আলোকপাত করতে চেয়েছেন। প্রাবন্ধিকের দায়িত্ব তো কেবল সমস্যা ও সমাধান হজির করা নয়, তার দায়িত্ব পাঠকের অন্তরে নিজের ভাবনা-চিন্তাকে অনুপ্রবিষ্ট করানো, পাঠককে ভাবনা-চিন্তায় বাধ্য করা; পাঠক তার পঠন-পাঠন, প্রজ্ঞা, বিচারবোধ, রুচি ও পরিশীলন ইত্যাদির আশ্রয় নিয়ে নিজেই সমাধান আবিষ্কার করবেন—এমন স্বাধীনতা তো লেখক নিশ্চিতভাবেই পাঠকের ওপর ন্যাস্ত করতে চান; এতে পাঠকের ওপর লেখকের শ্রদ্ধাবোধ প্রমাণিত হয়। অধ্যাপক সরকার আবদুল মান্নানের লেখায় তার কোনো কমতি নেই। লেখক নিজে ভাবছেন, কেবল পাঠককে তার ভাবনার সঙ্গী হতে বলছেন। কোনো সিদ্ধান্ত তিনি পাঠকের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন না, এই শোভন আচরণ চোখ এড়াবার মতো নয়। লেখকের মনোগত বাসনা আমার বিবেচনায় সেটিই—ভাবনার বিষয়গুলো, হে পাঠক আপনিই ভাবুন; আমি শুধু আপনার ভাবনার খেই ধরিয়ে দিচ্ছি। পাঠকের নিকটে লেখকের মিনতি এটুকুই। লেখকের অভিপ্রায় ব্যর্থ না-হলেই এ বই সার্থক।

=============

 

অনন্য আজাদ

সতীত্ব বনাম বহুগামিতা

সতীত্ব বনাম বহুগামিতা

অনন্য আজাদ

প্রকাশক :শব্দশৈলী

মূল্য : ২০০ টাকা

n মাসুদুজ্জামান n

 

তরুণ ভাবুক এবং রাজনীতির তীক্ষ সমালোচক অনন্য আজাদ।  গণজাগরণ মঞ্চ এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। এবারই প্রথম তার বই প্রকাশিত হলো— ‘সতীত্ব বনাম বহুগামিতা’। এই বইটির মাধ্যমেই লেখক হিসেবে অনন্যর অভিষেক ঘটলো। বইটি আমাদের অবশ্যপাঠ্য বইয়ের তালিকায় যুক্ত হওয়ার মতো চমত্কার একটা বই। বলা বাহুল্য, কবি-ভাবুক-লেখক হুমায়ুন আজাদের পুত্র অনন্য তার স্পষ্টবাদিতা আর তীক্ষ বিশ্লেষণী দক্ষতার গুণে লেখক হিসেবে ইতিমধ্যে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন। এই বইতেও নারীর যে নিজস্ব সত্তা আছে, নারীর বেঁচে থাকার পথে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে কী ধরনের বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হয়, কোথায় তাদের আসল প্রতিবন্ধকতা, চারপাশে প্রবহমান নারীর জীবন থেকে দৃষ্টান্ত তুলে এনে এসবই বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন অনন্য।

গ্রন্থটিতে সংকলিত হয়েছে বারটি প্রবন্ধ। এর মধ্যে কয়েকটি প্রবন্ধ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য — ‘সিদ্ধান্ত নারীর : সে কি নিজেকে উন্মুক্ত রাখবে নাকি ঢেকে রাখবে’, ‘পণ্য শুধু নারী নাকি পুরুষও পণ্য’, ‘নারীর সতীত্ব বনাম পুরুষের বহুগামিতা’, ‘নারীবাদ : নারীমুক্তির একমাত্র পন্থা’। লক্ষ করলে দেখা যাবে, খণ্ডিতভাবে নয় কিংবা নারীর একক কোনো সমস্যা নিয়ে নয়, অনন্য নারীর জীবন যেসব দিক থেকে বিপন্ন হয়ে পড়ে, তার সবগুলো দিক নিয়েই আলোচনা করেছেন।  নারী ও পুরুষের সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। 

পাঠক হিসেবে আমি খুব খুশি হয়েছি এটা দেখে যে বিখ্যাত বাবা হুমায়ূন আজাদের কথা অনন্য একবারও এই বইতে উল্লেখ করেনি। নিজের যোগ্যতায় তিনি লেখক-ভাবুক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছেন। এই বইটি প্রকাশের পর একটা সাক্ষাত্কারে অনন্য এই কথাটি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখও করেছেন। বলেছেন, তিনি পিতাকে অনুসরণ করে নয়, নিজের মতো করে লিখে যাবেন। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পেরুনো অনন্য যে ভাবুক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সূচনা ঘটালেন আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে তিনি যে একজন ভাবুক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছেন তার বীজ এই বইতেই রয়ে গেল। প্রথম বই প্রকাশ উপলক্ষে অনন্যকে উষ্ণ অভিনন্দন।

=============

 

মোশতাক আহমেদ

হিমালয়ে রিবিট

হিমালয়ে রিবিট

মোশতাক আহমেদ

প্রকাশক : অনিন্দ্য প্রকাশ

মূল্য : ২০০ টাকা

n আজহারুল হক ফরাজী n

 

মোশতাক আহমেদ উপন্যাস, ভৌতিক, প্যারাসাইকোলজি ও সায়েন্স ফিকশনসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করেন। তবে সায়েন্স ফিকশন লেখক হিসেবে ইতিমধ্যে পাঠকের হূদয় জয় করে নিয়েছেন। কিশোরদের কাছে তাঁর লেখা রিবিট সিরিজটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এ বছরও রিবিট সিরিজের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে ‘হিমালয়ে রিবিট’। পুরান ঢাকার আজিমপুরে একটি নয়তলা বিল্ডিং ধসে পড়েছে। সেই ফ্ল্যাটে ৬৪টি পরিবার থাকে। সেই বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ ফ্লোরে থাকে শাহানা। সে এক ফোঁটা পানি বলে হাহাকার করছে। তার মনে হচ্ছে, এক ফোটা পানির জন্য সে জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিতে পারবে। মৃত্যুর আগে যেভাবেই হোক এক ফোঁটা পানি তার চাই, কিন্তু কীভাবে? সে আটকা পড়ে আছে ধসে পড়া হিমালয় নামক নয়তলা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে। তার বর্তমান অবস্থা সর্ম্পকে কেউ জানে না। অন্ধকার আন্ডারগ্রাউন্ডে তাকে তিলে তিলে ভয়ানক কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এরকম ভাবতেই তার গা শিউরে উঠছে।  শেষ পর্যন্ত রিবিট কি উদ্ধার করতে পেরেছিল শাহানাকে?

=============

 

গাজী তানজিয়া

কালের নায়ক

কালের নায়ক

গাজী তানজিয়া

প্রকাশক : অ্যাডর্ন

মূল্য :৫৪০ টাকা

n সুদীপ্ত হান্নান n

 

বাংলাদেশের জন্ম-বিকাশের নানা প্রেক্ষিত এ দেশে খোলসা হওয়ার পথটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এটি ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক চক্রান্ত। সাহিত্যেও যে বাংলাদেশের জন্ম-বিকাশ নিয়ে কাজের প্রযত্ন-চর্চা হয়েছে তা বলা যায় না। বরং সমাজের অপরাপর শাখার মতো সাহিত্যে এক ধরনের হালকা কাজের পৃষ্টপোষতার পাল্লাই ভারী। আহমদ ছফার মতো একজন শতভাগ দেশপ্রেমিক সাহিত্যিককেও ‘নৈঃশব্দ্যের-চক্রান্তে’ বন্দি থাকতে হয়েছে। মৃত্যুর পর অপেক্ষাকৃত তরুণদের মাঝে আহমদ ছফা-চর্চার ধারাটি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০১ সালে তিনি শরীরী বিদায় নেন। অল্প সময়ের মধ্যে আহমদ ছফাকে নিয়ে ১০টি বই লিখিত হয়। বাংলা সাহিত্যের জন্য বেশ তাত্পর্যজনক বিষয় হলো, আহমদ ছফার সামগ্রিক জীবনের ওপর তরুণ প্রজন্মেরই এক প্রতিনিধি ‘গাজী তানজিয়া’ একটি উপন্যাস লিখেছেন। উপন্যাসটির নাম ‘কালের নায়ক’। তিনি সমাজতাত্ত্বিকের দৃষ্টিকোণ থেকে টোটাল আহমদ ছফাকে প্রথম মস্তিষ্কের সীমায় নিয়েছেন। অতপর আহমদ ছফার নানামুখী জীবনকে একটি কাহিনির ফ্রেমে এনেছেন। জীবিত থাকাকালীন আহমদ ছফাকে নিয়ে এ দেশের কথিত প্রতিষ্ঠিতরা তেমন কিছু না লিখলেও মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে ২০টির মতো ক্রোড়পত্র এবং বই প্রকাশিত হয়েছে। ওই ২০টি বইয়ে আহমদ ছফাকে নিয়ে যত তথ্য এবং মূল্যায়ন রয়েছে গাজী তানজিয়া তাঁর উপন্যাস ‘কালের নায়কে’ সেসবের সমাবেশ করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন। জীবনীমূলক উপন্যাস লেখার যে প্রাক-প্রস্তুতি থাকতে হয় ঔপন্যাসিক গাজী তানজিয়া সেই প্রস্তুতির অধিকাংশটুকু মাথায় নিয়েই উপন্যাসটি লিখেছেন।

=============

 

জব্বার আল নাঈম

তাড়া খাওয়া মাছের জীবন

তাড়া খাওয়া মাছের জীবন

জব্বার আল নাঈম

প্রকাশক : শুভ্র প্রকাশ

মূল্য : ১২০ টাকা

n আল মাহমুদ n

 

তরুণ কবি জব্বার আল নাঈমের ‘তাড়া খাওয়া মাছের জীবন’ নামক কাব্যগ্রন্থ থকে কিছু কবিতা আমাকে পাঠ করে শোনানো হয়েছে। আমার কাছে এই তরুণ কবির কবিতা সহজবোধ্য এবং আন্তরিক কাব্যপ্রয়াস বলে ধারণা হয়েছে। ‘তাড়া খাওয়া মাছের জীবন’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা শুনে বুঝলাম কবি জব্বার আল নাঈম আমার বিবেচনায় সতেজ ও সাহসী কবিপ্রাণ। এই ধরনের কবিরাই কাব্যসৃষ্টিকে বহমান রাখেন। দুঃসময়কে ঠেলে দিয়ে তারাই কাব্যের দিক বিজয় ঘোষণা করেন। আমি কবি জব্বার আল নাঈম-এর অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানাই। জব্বার আল নাঈমের কবিতা আমার কাছে কৌতূহলের কারণ বলে মনে হয়েছে। আমি সময় ও সুযোগমতো এই তরুণের কবিতার স্বাদও আস্বাদন করতে আগ্রহী হয়েছি। এটা সামান্য কথা নয়। জব্বার আল নাঈমের মতো তরুণরা এটা একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করলে আমি সত্যিই আনন্দিত হব। ‘তাড়া খাওয়া মাছের জীবন’ কাব্যগ্রন্থে ভালো লাগার মতো রয়েছে অনেক কবিতা।

 

=============

দ্রাবিড় সৈকত

কদাচিত্ কুত্রাপি

কদাচিত্ কুত্রাপি

দ্রাবিড় সৈকত

প্রকাশক :পাঠক সমাবেশ

মূল্য : ২৮০ টাকা

n মহিম সন্ন্যাসী n

 

বাংলা কবিতায় ‘কুত্রাপি’ নামক নতুন ছন্দের আবির্ভাব ঘটল ‘কদাচিত্ কুত্রাপি’র মাধ্যমে। গোটা কবিতার বইটি কুত্রাপি ছন্দ অনুসরণে লিখিত। দ্রাবিড় সৈকতের উদ্ভাবিত বিশেষ এই ছন্দরীতি বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধি দেবার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আর কবিতার অচেনা স্বাদ উদ্বেলিত করে তুলবে সুচারু পাঠকদের নন্দনচেতনাকে, নাড়া দেবে কাব্যবোধের প্রতিটি শাখায়। এরই সাক্ষ্য বহন করে এই পঙিক্তমালা—‘ঘোরতর কও ভাষা ভাসা ভাসা ডালিমের টসটসে দানা / খসখসে জানাগুলো চৌচির/ রাস্তায় পড়ে আছি চৈত্রের পোড় খাওয়া ভাঙামন সত্ত্বায়/ বউঝির।’ পাশাপাশি অলঙ্কারের দুর্দান্ত ব্যবহার সবকটি কবিতাকে করে তুলেছে দারুণভাবে উপভোগ্য। অনুপ্রাসের সবগুলো ঘর থেকে উপাদান নিয়ে ঋদ্ধ হয়েছে এর আঙ্গিক—‘ক্ষত ক্ষমাবতী / যত রমা সতী/ একসাথে একাকার এলাচির যেন মিঠা ক্ষীর/ সামনে পিছনে দেখো জলযান, খোকা হয়ো না অধীর, খোলো আগুন পালক।’ আর পাঠকের জন্য ধ্বনিমাধুর্যের বহুবর্ণ পালকগুলো মেলে ধরেছেন কবি দ্রাবিড় সৈকত, স্বতঃস্ফূর্ত নন্দনকৌশলে।

‘অনুনাসিকের চঁদ/ সাধ হলে এসো, বেসো ভালো সাদাকালো সন্ধ্যায়’—এমন উচ্চারণে কুত্রাপি ছন্দে রচিত বহুমাত্রিক অনুভূতির প্রায়শ অস্থির কবিতাগুলো আমাদের ছায়াসুনিবিড় আতিথেয়তার আহ্বানের ভেতর দিয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে সমস্ত একঘেয়েমির বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমাদের মগজে বাসা বেঁধে বসে আছে যেসব কবিতাসদৃশ বোধ, সেগুলোকে টেনে বের করে ব্যক্তিগত সৃজনজিজ্ঞাসা অথবা আবহমান নন্দনভাবনার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবার চেষ্টা এ কবিতাগ্রন্থ? ‘কদাচিত্ কুত্রাপি’র কবিই তো বলে ফেলেছেন—‘দেখ নাই শেষ ভোর নদী বয়/ তন্দ্রায় তন্দ্রায়/ চন্দ্রায়/ খই ফোটা সকালের দই গোটা রং/ এবং বিলুপ্ত ইতিহাস আছে বহু শোনাবার।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন