কবিতা
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
স্বপ্নের চোরাবালি

অসীম সাহা

 

স্বপ্নের ভেতরে আছে চোরাগলি, গুপ্ত পথ,

অন্ধকার পথের নিশানা। বোমা-বারুদের গন্ধ।

চোরাগুপ্তা আক্রমণ। আকস্মিক মৃত্যুর ফাঁদ।

চোরাগলি বেদনার সমপ্রসারণ জানে, অসুখের নির্ণয় জানে না।

আমি তাই স্বপ্নের ভেতর থেকে আর্তুর রাঁবোর মতো

অসম্পূর্ণ সৃষ্টির বেদনার ভার নিয়ে শিল্পের জগত্ থেকে নির্বাসন চাই।

আদর্শলিপির পাঠ ভুলে যাবো। শিখবো না ব্যাকরণ।

ছন্দের বারান্দা থেকে যতোটা সম্ভব আমি দূরে সরে যাবো।

স্বরবৃত্ত ছেড়ে দিয়ে অক্ষরবৃত্তেই আমি গড়ে নেবো

নিহিত জীবন। ব্ল্যাকবোর্ড থেকে আমি ডাস্টারে মুছে নেবো

ধ্বনি ও অক্ষর। বাজারে বাঁধানো খাতার বদলে আমি কিনে নেবো

রিম রিম অলেখা কাগজ। পৃথিবীর মুদ্রণযন্ত্রে কোনোদিন আর

ছাপাই হবে না কোনো আদ্যাক্ষর-ধ্বনির প্রলাপ!

সাক্ষী থেকো রাজপথ, সাক্ষী থেকো পুলিশের গাড়ি।

সাক্ষী থেকো জলকামান, বিজিবির টহলের চোখ।

সাক্ষী থেকো গণজাগরণ মঞ্চ, সাক্ষী থেকো সচিবালয়ের গেট

সাক্ষী থেকো ছবিহাট, সাক্ষী থেকো দূরপাল্লার পথ।

আমি আর লিখবো না দীর্ঘ রাত্রিব্যেপে প্রণয়-কবিতা।

প্রণয়-সন্ত্রাস নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হোক।

আইনজীবী দাঁড়াক এজলাশে। রিমান্ডে নেয়া হোক যতোদিন খুশি।

প্রয়োজনে হাতকড়া পরানো হোক। দুই পায়ে দেয়া হোক বেড়ী।

আদর্শলিপির বদলে লেখা হোক জেলারের দীর্ঘবিবরণী

স্বরধ্বনির বদলে সব পাতা ভরে যাক ব্যঞ্জনধ্বনিতে।

শুধু ঋ ও ৯-এর মতো হূদয়ের বর্ণপরিচয় থেকে

বিলুপ্ত হয়ে যাক ম-নামক মহাপ্রাণ ধ্বনি।

ম-বর্ণ বিলুপ্ত হলে লেখা যায় মহাকাব্য—মিলনের বাণী?

উপেক্ষা নামক এক নতুন শব্দ তবে সংস্কৃত ভাষা থেকে

ধার করা হোক। আর জগতের সকল আনন্দযজ্ঞে

স্বরবর্ণে প্রেরিত সব আমন্ত্রণপত্র এই মুহূর্তে কুরিয়ার সার্ভিস থেকে

তুলে নিয়ে ফেলে দেয়া হোক এক পেপার-বাস্কেটে।

এইভাবে প্রায়শ্চিত্ত হোক তবে অভিশপ্ত জীবনের

ব্যর্থ কালিতে লেখা সাফল্যের সর্বশেষ গাথা।

 

===

 

শোনো প্রতিবাদ

নাসির আহমেদ

 

ফাল্গুনে আগুনলাগা প্রতিবাদী ওই কৃষ্ণচূড়া কী রকম ফুঁসে যাচ্ছে ক্ষোভে

অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে অগণিত বই তীব্র প্রতিবাদে আজ

নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে রেক থেকে নিচে। তুমি সেই

প্রতিবাদী ভাষা যদি বুঝতে তা হলে নিশ্চয়ই লজ্জিত হতে।

 

তুমি তো পাথর, তাই বধির তোমার শ্রুতি, শোনে না কিছুই

তোমার লোভের অগ্নি পোড়াচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশ

শিশুদের, মায়েদের আর্তনাদে, কেঁদে ওঠে বার্ন ইউনিটের ইটকাঠও

অথচ তোমার কোনো অনুভূতি নেই! তুমি এমনই পাষাণ।

 

পাথরের চাওয়াপাওয়া থাকে! তা হলো কী করে

দগ্ধ করে যাচ্ছো এই শহিদের রক্তস্নাত বাংলাদেশ।

মানুষের অবয়বে নিষ্ঠুর পাথর, অভিশাপে তুমি ধ্বংস হবে

মানুষের ঘৃণা আর ক্ষোভে তোমার বিনাশ হবে জানি।

 

মৃত্যুর ভেতর থেকে জন্ম নেয়া লাখো শহিদের এই দেশ

আবার জেগেছে দেখো প্রতিবাদে প্রতিরোধে হত্যার বিরুদ্ধে

জঙ্গীবাদী হিংস্রতার দানব তোমার শক্তি যদি

তা হলে নিশ্চিত জেনো ধ্বংস হবে একাত্তরের সব পশু।

 

স্বপ্নের সবুজ নিয়ে আবার রচিত হবে প্রগতির জয়

পাশবিকতার দিন শেষ হবে, মুছে যাবে এই অন্ধকার

কান পেতে শোনো তুমি প্রতিবাদ নিসর্গেও ধ্বনিত এখন

নৈরাজ্যর প্রতিবাদে বাংলার প্রতিটি নদী করছে গর্জন।

 

শহিদ মিনার সাক্ষী, সাক্ষী এদেশের শত শত বধ্যভূমি

একাত্তরের খুনিদের পক্ষে এসে আজ দাঁড়িয়েছো তুমি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন