সমাবর্তন
জাজাফী০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
সমাবর্তন

বেশ ক’দিন হলো মনটা আনন্দে ভরে আছে। রঙিন প্রজাপতির মতো ডানা মেলে আকাশে উড়তে ইচ্ছে করছে। এই দিনটার অপেক্ষা করেছি বিগত বছরগুলোতে। বন্ধুরা মিলে কিছু মধুর স্মৃতি ক্যামেরার চোখে ধারণ করব বলে কতটা প্রস্তুতি। ফ্রেমে ধরে রাখব এক সোনালি বর্তমান যা ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে স্মৃতি রোমন্থনের উপলক্ষ। সমাবর্তন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। আমরা হঠাত্ লক্ষ করলাম মেহরাব, তারিকুল আর হুমায়রা সমাবর্তনের ফি জমা দেয়নি! খুব অবাক হলাম। এই উপলক্ষ আমাদের জীবনে বারবার আসবে না। সুতরাং এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিকেলে কলাভবন থেকে বেরিয়ে অপরাজেয় বাংলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম মেহরাব বসে আছে। শূন্য দৃষ্টি। আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে। মনে মনে ভাবলাম, প্রিয়ভূমিকে বিদায় জানাতে তার মনে একরাশ বেদনার মেঘ জমেছে বলেই আজ এই শূন্য দৃষ্টি। কিন্তু মেহরাব কেন সমাবর্তনের ফি এখনো জমা দেয়নি তা জানা হয়নি। মেহরাব আমার ভালো বন্ধু। প্রথমবর্ষেই সে আমাকে একটা টিউশনি ম্যানেজ করে দিয়েছিল বলেই কৃষকের ছেলে হয়েও এই শহরে আমি টিকে থাকতে পেরেছি।

মেহরাব কখনো নিজের কথা বলত না। ওর পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম কালই তো সমাবর্তনের ফি জমা দেওয়ার শেষ দিন। তুই দিবি না? সে কোনো উত্তর দিলো না। অনেক জোরাজুরির পর জানতে পারলাম ওর আসলে সমাবর্তনের ফি দেওয়ার মতো টাকা নেই। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। যে বন্ধুর জন্য আমি এখনো এই শহরে টিকে আছি সে টাকার অভাবে সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছে না এটা ভাবা যায়! কিন্তু হায় আমারও তো কিছু করার ক্ষমতা নেই। সাড়ে আট হাজার টাকা ওকে দিতে পারলে আমার চেয়ে আনন্দিত আর কেউ হতো না, কিন্তু সাড়ে আট হাজার টাকা তো দূরের কথা আটশো টাকাও তো নেই আমার কাছে। সমাবর্তনে অংশ নেবো বলে প্রতিদিন দুপুরে না খেয়ে থেকে বছর ধরে টাকা জমিয়েছি। সেটাও তো সমাবর্তন ফি হিসেবে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি ওকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, চিন্তা করিস না, কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। রাতে তারিকুল আর হুমায়রার সাথেও যোগাযোগ করলাম। ওদেরও একই অবস্থা। সব বন্ধুরা মিলে সমাবর্তন করব—এই ছিল স্বপ্ন অথচ তিন জন সেই দলে থাকবে না—এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে। অন্য অনেকের সাথে কথা বললাম, কিন্তু দেখলাম কেউ তেমন গা করল না। এমনকি আমি সবাইকে বললাম, আমরা যদি প্রত্যেকে এক দুইশো টাকা করে চাঁদা দিই তাহলেও ওরা সমাবর্তনে সুযোগ পাবে। এই প্রস্তাবে দুই-চার জনের বেশি রাজি হলো না।

সেমিনার রুম ছেড়ে ওরা তিন জন তিন দিকে চলে গেছে। আমিও বেরিয়ে এলাম। একাকী হাঁটছি কলাভবন থেকে কার্জন হলের দিকে। মন থেকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না—আমার তিন বন্ধু আমার সাথে সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে না। মন বলছে আমিও না হয় বাদ দিই। যে সমাবর্তনে আমার বন্ধুরা অংশ নিতে পারছে না সেই সমাবর্তনে কেন আমি অংশ নেবো? মন খারাপ করে ফেসবুকে আমাদের গ্রুপে একটা স্ট্যাটাস দিলাম। অনেকে লাইক দিলো, অনেকে স্যাড রিঅ্যাক্ট করল, কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলো না।

পরদিন সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে হাজির হলাম। মনটা ভালো নেই। মেহরাবদের কাউকেই পেলাম না। ওদেরকে যে ফোন করব সেটাও হচ্ছে না। কোন মুখে ওদের ফোন করব। সেমিনার রুমে গিয়ে বসেছি। আমার ডিপার্টমেন্টের দুই-চার জন ছোট ভাই-বোনও তখন আছে। সবার মুখেই সমাবর্তন নিয়ে কিছু না কিছু আলোচনা চলছে। শুধু আমি নিশ্চুপ বসে আছি। কোনোদিকে খেয়াল নেই আমার। সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না কী করব। আজীবনের লালিত স্বপ্নের মুহূর্তের সাক্ষী হবো নাকি বন্ধুদের কথা চিন্তা করে জলাঞ্জলি দেবো। দ্বিধান্বিত আমি। এমন সময় অপরিচিত একজন আমার সামনের চেয়ারটা টেনে বসলেন। আমাকে বললেন, আবীর, তোমার মনটা বোধহয় খুবই খারাপ হয়ে আছে। অপরিচিত একজনের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে চমকে উঠলাম। তিনি বোধহয় সেটা লক্ষ করলেন। আমাকে বললেন, আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আমি তোমাদের এক সিনিয়র ভাই। একই বিভাগ থেকে পাস করে বেরিয়েছি। গ্রুপে আমিও আছি এবং তোমার স্ট্যাটাস দেখেছি আমি। সত্যিই বিষয়টি বেদনাদায়ক।

সিনিয়র ভাইয়ের কথা শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। ভাবলাম তিনি কি তবে আমার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে এসেছেন? আমি নিজেকে শান্ত রাখলাম। দেখতে চেষ্টা করলাম তিনি আর কতদূর যেতে চান। তিনি আমাকে বললেন, তোমার ওই তিন বন্ধু এখন কোথায়? আমি বললাম, ওরা কোথায় বলতে পারছি না। এখানে এসে ওদের পাইনি। তিনি বললেন, তাদের ফোন করে এখানে আসতে বলো। এই সিনিয়র ভাইয়ের নাম হাসান। হাসান ভাইয়ের কথা শুনে কিছুটা আশ্চর্যান্বিত হলাম। তবে আশান্বিতও হলাম। যেহেতু সিনিয়র ভাই তাই তিনি নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করবেন। আমি ফোন করলাম মেহরাবদের তিন জনকেই। বললাম, এক সিনিয়র ভাই এক্স স্টুডেন্ট এসেছেন তোদের সাথে দেখা করতে। ওরা বিষণ্ন মনে এসে হাজির হলো। হাসান ভাই ওদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন। তারপর বললেন, তোমাদের সমাবর্তনে অংশ নিতে হবে এবং আমি সব ব্যবস্থা করে দেবো।

আমার তিন বন্ধুসহ আমি নিজেও হাসান ভাইয়ের কথা শুনে বিস্মিত হলাম। জানতে চাইলাম, আপনি কেন ব্যবস্থা করে দিবেন? তিনি ছোট্ট করে বললেন, আমি চাই আমার ডিপার্টমেন্টের কেউ যেন কোনো সাধারণ কারণে সমাবর্তন মিস না করে। তিনি পকেট থেকে এক বান্ডিল টাকা বের করলেন। হয়তো পুরো বান্ডিল নয় তবে এমনভাবে গার্ডার দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা যে সাধারণভাবে এক বান্ডিলই মনে হয়। টাকাটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এটা নাও এবং এখনি গিয়ে জমা দিয়ে দাও। আমি কোনো দ্বিধা না করে টাকাটা নিলাম। ভাইকে রেখেই বেরিয়ে গেলাম টাকা জমা দিতে। যাওয়ার আগে শুধু বললাম, ভাই আপনি একটু থাকেন আমি যাব আর আসব।

ফিরে এসে দেখি ভাই আছেন। ওরাও তিন জন আছে। ওদের চোখে অবিশ্বাস! কেউ যে ওদের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার ফি দিয়ে দিচ্ছে তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। হাসান ভাইকে নিয়ে সেমিনার হল থেকে বেরিয়ে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াতে গেলাম। চেয়ারগুলোতে হাত বুলিয়ে হাসান ভাই যেন খুব আনন্দ পাচ্ছিলেন। একদিন নিশ্চয়ই এই সব চেয়ারের কোনো না কোনোটাতে তিনি বসতেন। কোনার দিকে একটা টেবিলে গোল হয়ে বসলাম আমরা পাঁচ জন। আমাদের মধ্যমণি হাসান ভাই। আমি প্রথম যেটা বললাম সেটি হলো, ভাইকে প্রশ্ন করলাম, হাসান ভাই, সমাবর্তনের অভিজ্ঞতা বলেন। হাসান ভাই চুপ করে থাকলেন। ভাবলাম শুনতে পান নাই। হুমায়রা বলল, ভাইয়া, আপনার সময়কার সমাবর্তনের গল্প বলুন। দেখলাম ভাই উদাস মনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছেন। ভাইয়ের কি কোনো কারণে মন খারাপ? ততক্ষণে চা চলে এসেছে। সাথে ছোট ছোট সিঙ্গাড়া আর সমুচা। ডাকসুতে সেলফ সার্ভিস, সুতরাং মেহরাবই সব নিয়ে এল। হাসান ভাই চায়ের কাপে চুমুক দিলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রথম যে কথাটি বললেন তা আমাদের বিশ্বাসই হলো না। তিনি বললেন, আমি সমাবর্তনে অংশ নিতে পারিনি! টাকা ছিল না! আমরা হাসান ভাইকে বললাম, সেই ঘটনাটা জানতে চাই। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসান ভাই সেই সব স্মৃতি হাতড়ে স্মৃতি রোমন্থন করতে শুরু করলেন।

বাবা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। সামান্য যে বেতন পেতেন তার এক বৃহদাংশই আমাকে দিয়ে দিতেন। বাবার বেতনের টাকায় আমাদের পুরো সংসার চলত। আমাকে দেওয়ার পর বাবার হাতে হয়তো দুই হাজার টাকা বাঁচত। এখন চিন্তা করি সেই দুই হাজার টাকা দিয়ে কী করে অত বড় সংসার চালাতেন বাবা। দেখতে দেখতে সমাবর্তন চলে এল। সব বন্ধুরা ফি জমা দিয়ে দিলো, কিন্তু আমি দিতে পারলাম না। সমাবর্তনে জমা দেবার মতো টাকা আমি কোথায় পাবো? টাকা ছিল না বলে দুই বেলা খেতাম সেখানে সমাবর্তন করাটা আমার কাছে বিলাসিতার মতো। বাবাকেও কোনোভাবে বলা সম্ভব নয় যে বাবা আমি সমাবর্তনে অংশ নেবো আমাকে কিছু টাকা দিন। বাবাকে বললে হয়তো যেকোনো মূল্যে তিনি টাকা জোগাড় করে দিতেন, কিন্তু কীভাবে দিতেন সেটা তো আমি জানি। নিশ্চয়ই তিনি ধার-কর্জ করতেন। কিন্তু সেই ধার কীভাবে শোধ করবেন? এটা ভেবেই আমি বাবাকে বলতে পারিনি। আর তাছাড়া সমাবর্তন জিনিসটা কী, সে সম্পর্কে বাবারও তেমন কোনো ধারণা নেই। আমি মন খারাপ করে বসে থাকলাম। আমার কোনো বন্ধু এটা নিয়ে কথা তুলল না। জানতে চাইল না, আমি কি সমাবর্তনে যোগ দিচ্ছি কি-না। জানতে চাইল না আমি সমাবর্তনে যোগ না দেওয়ার কারণ কী?

আমার মন খারাপের বিষয়টা খেয়াল করলেন হিরা আপা। হিরা আপা পলিটিক্যাল সায়েন্সের ছাত্রী, আমাদের চেয়ে সিনিয়র। তিনি জোরাজুরি করায় আমি বললাম, আপা, আমার টাকা নেই বলে সমাবর্তনে যোগ দিচ্ছি না। আমার কথা শুনে আপা খুব মর্মাহত হলেন। তিনি বললেন, আমি তোকে টাকা দিচ্ছি তুই সমাবর্তনে অংশ নে। আমি বললাম, আপা, কালকে জানাই। পরদিন জানানোর কথা থাকলেও আমি আর আপাকে জানালাম না। কেননা, রাতে রুমে বসে বসে চিন্তা করে দেখলাম, আমি যদি আপার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমাবর্তন করি তবে তো সেটা ধার নেওয়া হলো। সেই ধার আমি কী করে শোধ করব? তার চেয়ে বরং আমি সমাবর্তনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকি। তাহলে অন্তত ঋণে পড়তে হবে না।

পরদিন হিরা আপা বেশ কয়েকবার ফোন করল, আমি রিসিভ করিনি। সমাবর্তনের দিন টিভিতে দৃশ্যগুলো দেখে ভীষণ মন খারাপ হলো। কিন্তু কী আর করার। হিরা আপার বিয়ে হয়ে গেল। একদিন আপার বাসায় গেলে তিনি জানতে চাইলেন, কি রে, তোর না সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আমি না তোকে টাকা দিতে চাইলাম, তুই নিলি না কেন? আমি আমতা আমতা করে বললাম, আপা, আসলে ধার নিয়ে শোধ করার মতো ক্ষমতা আমার নেই বলে সেই ভয়ে টাকা নিইনি। ভেবেছি সমাবর্তনে অংশ না নিলে অন্তত ধার নিতে হবে না। আমার কথা শুনে হিরা আপার চোখ ছলছল করে উঠল। আপা বললেন, আরে বোকা, আমি কি তোকে ধার দিতে চেয়েছিলাম নাকি? টাকাটা বোন হিসেবে তোকে এমনিই দিতে চেয়েছিলাম। যা-ই হোক, এখন আর সেটা নিয়ে আক্ষেপ করে লাভ কী বল। আপার কথা শুনে আমিও সেটাই ভাবলাম। তবে আফসোস করলাম, যদি আগে বুঝতে পারতাম যে আপা আমাকে  টাকাটা ধার হিসেবে দিতে চায়নি তাহলে হয়তো সমাবর্তনে অংশ নিতে পারতাম। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলাম যখন আমার সামর্থ্য হবে তখন আমি চেষ্টা করব কেউ যেন টাকার অভাবে সমাবর্তনে যোগ দিতে ব্যর্থ না হয়। ফেসবুক গ্রুপে আবীরের পোস্ট দেখে ছুটে এলাম। আমি চাই না আমার মতো কেউ সামান্য কারণে সমাবর্তন মিস করুক। যে বেদনা আমি আজও হূদয়ে বহন করে চলেছি, সেই বেদনা আর কাউকে যেন বয়ে বেড়াতে না হয়। এ এক ক্ষত যা কোনো কালেও বন্ধ হবে না।

হাসান ভাইয়ের কথা শুনে আমাদের পাঁচ জনের চোখ ছলছল করে উঠল। হাসান ভাই বললেন, আরে বোকার দল, ছেলে মানুষের মতো এভাবে কাঁদে নাকি। মুখে হাসি রাখো আর আত্মবিশ্বাস রাখো। আগামী দিনে তোমাদের সফল দেখতে চাই। এই বলে হাসান ভাই উঠে দাঁড়ালেন। আমরা অনুরোধ করলাম, হাসান ভাই, সমাবর্তনের দিন আপনাকে অতি অবশ্যই টিএসসিতে দেখতে চাই। আমরা সমাবর্তনে প্রবেশের আগে এবং বেরিয়ে এসে আপনাকে দেখতে চাই। তিনি আসতে পারবেন না বলে জানালেন, কিন্তু হুমায়রা নাছোড়বান্দা। সে বলল, ভাইয়া, আপনি যদি না আসেন তবে আমরা সমাবর্তনে অংশই নেবো না। ওর কথায় কাজ হলো। সেদিন হাসান ভাই এলেন। এর মাঝেই আমরা পরিকল্পনা করে রাখলাম ভাই এলে ভাইকে গাউন পরাব এবং তার সাথে ছবি তুলব। ভাইকে গাউন দিলে তিনি সেটা পরতে চাইলেন না। আমরা জোর করলে তবেই তিনি পরলেন। ছাত্রজীবনে যে গাউন তিনি গায়ে দিতে পারেন নাই যে হ্যাট তিনি মাথায় পরতে পারেন নাই সেই অনুভূতিটুকু ফিরিয়ে দিতে পেরে আমাদের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেল। তখন টের পেলাম সমাবর্তন যে কত আনন্দের হতে পারে। সিদ্ধান্ত নিলাম হাসান ভাইয়ের মতোই আমরাও চেষ্টা করব—ভবিষ্যতে কেউ যেন আর্থিক সমস্যার কারণে সমাবর্তনে অংশ নিতে ব্যর্থ না হয়।

সমাবর্তন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর নীলক্ষেত থেকে আমরা পাঁচ বন্ধু হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পাসে ফিরলাম। হুমায়রার হাতে খবরের কাগজ দিয়ে পেঁচানো একটি ফ্রেম। সেই ফ্রেমে যে ছবিটি বাঁধাই করা সেটি বাঁধাই হতে পারত আরো বছর পনের আগে। ছবিতে মধ্যমণি আমাদের হাসান ভাই। তাকে ঘিরে আমরা পাঁচ জন দাঁড়িয়ে আছি। বিকেলে হাসান ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ছবিটি দিলাম। ছবিটা নিজ হাতে টাঙিয়ে দিলাম ড্রয়িংরুমের দেয়ালে। ছবিটার দিকে হাসান ভাই ছলছল চোখে অনেকক্ষণ অপলক তাকিয়ে থাকলেন। এই ছবিটা সমাবর্তনের। নিজ সমাবর্তনে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপের পনের বছর পর তোলা ছবিটির মাধ্যমে হাসান ভাইয়ের সেই কষ্টের কিছু অংশ দূর হয়েছে। মাসখানেক পর হাসান ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করলাম। তিনি জানালেন, রোজ খানিকটা সময় তোমাদের ভাইয়া সমাবর্তনের ছবিটার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে আর বলে, ছেলেগুলোর কাছে আমার কত ঋণ। তারা আমাকে হারানো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। আমি খুশি হই। মনে মনে বলি, হাসান ভাই, আপনি সমাবর্তন মিস করেছিলেন বলেই না আজ আমরা সমাবর্তন করতে পারছি, ভবিষ্যতেও আর কেউ সমাবর্তন মিস করবে না এই ওয়াদা করছি।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৯ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫২
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন