পিতা যখন বন্ধু সবার
অথির চক্রবর্তী১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
পিতা যখন বন্ধু সবার
প্রিয় কচি-কাঁচা বন্ধুরা, ভালোবাসা নাও। আগামী ১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আমাদের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। রেহাই পায়নি ছোট্ট সোনা শেখ রাসেলও। বঙ্গবন্ধু  মায়ের মতো ভালোবাসতেন দেশকে। তাঁর জন্যই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।

 বঙ্গবন্ধু এক অবিস্মরণীয় নেতার নাম, আমাদের বুকভরা গর্বের আর অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম।

 আমরাও তাঁর মতো দেশকে ভালোবাসব

টুঙ্গিপাড়া খুব সুন্দর একটি গ্রাম, এর গাছপালা, পাখি, নদী সবকিছু মাউন্টবোর্ডে আঁকা ছবি যেন! আর এই সুন্দর গ্রামটিতে বিশাল এক সুন্দর হূদয় নিয়ে জন্মেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একদিকে মধুমতি আর অন্যদিকে ঘাগোর নদীর থৈ থৈ পানি গ্রামটিকে ভালোবেসে শুধু বয়েই চলেছে। আর সেই নদীতে যখন বড় বড় পাল ওড়ানো পানসি, কেরায়া নৌকা ও ভেঁপু বাজানো স্টিমার চলতে থাকত, সেটা তখন হতো এক মুগ্ধ বালকের রোজকার বিনোদন। সেই বালকই পরবর্তীকালে হলেন পৃথিবী কাঁপানো অবিস্মরণীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ডাকনাম ছিল যাঁর খোকা। আর সেই খোকার নিজের গ্রাম, দেশ ও মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা ছিল তা আজও প্রবাদ হয়ে আছে!

পাখিদের মধ্যে তিনি দোয়েল ও বাবুই খুব পছন্দ করতেন। তাদের মনের ভাষাও যেন তিনি নিমিষে বুঝে ফেলতেন। যেমন বুঝতেন শোষিত, নিপীড়িত মানুষকে। বাড়িতে পুষতেন কথাবলা পাখি শালিক ও ময়না। যেন বোবাদের মুখে ভাষা ফোটাবার জন্য তাঁর জন্ম হয়েছিল! শুরু থেকেই উর্বর আবহাওয়া তাঁর শৈশব ও কৈশোরকে করেছে সমৃদ্ধ। সেই ছোট থাকতেই বড় বড় নেতাদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি। বড় হওয়ার আগেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুঠি শক্ত করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়। একবার তাঁর মিশন স্কুলে এলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সহপাঠীদের যেখানে এত বড় মানুষের সামনে কথা বলা দূরের কথা, বুক দুরু দুরু অবস্থা, সেখানে বঙ্গবন্ধু একাই হলেন একশ’। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছে মিশন স্কুলের ছাত্রাবাসের অসুবিধাগুলো বয়সের তুলনায় অধিক তেজ ও সাহসের সঙ্গে তুলে ধরলেন। তখনই তাঁর সাহসের প্রশংসা না করে পারেনি কেউ। সোহরাওয়ার্দীরও দৃষ্টি আর্কষণ করে নিয়েছিলেন তখনই। বঙ্গবন্ধুর সাহসের এরকম আরো অসংখ্য গল্প আছে। তখন মোটামুটি সবাই একটু একটু করে বুঝে যাচ্ছিল যে এই ছেলের ওপরই ভবিষ্যতে দেশ ও  জাতির জন্য বড় ধরনের কিছু একটা অপেক্ষা করছে। ভালোবাসার শক্তি নিয়ে যে মানুষ এগিয়ে চলেন, মানুষ তাঁকে ভালো না বেসে পারে? ছোটদের জন্যও এক অসীম ভালোবাসা বুকে পুষে রাখতেন। তাই তো তিনি ছোট-বড় সব বয়সীদের বঙ্গবন্ধু! তিনি ছিলেন ভাইবোনদের মধ্যে তৃতীয় এবং একটু ব্যতিক্রম তো বটেই। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। সব বিষয়ে তিনি পড়ে গেছেন। তিনি জানতেন—না পড়লে জীবনকে ভালো করে বোঝা যায় না। দার্শনিক-লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন তাঁর প্রিয় লেখক। তিনি প্রায়ই ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা থেকে পড়ে শোনাতেন। বার্ট্রান্ড রাসেলের নাম শুনে তোমাদের নিশ্চয়ই শেখ রাসেলের কথা মনে পড়ছে? হ্যাঁ রাসেলের নামকরণের কারণ কিন্তু ওই প্রিয় দার্শনিকই। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর এই রাসেলের প্রতি মুগ্ধতার কারণে ছেলের নাম রাখলেন রাসেল। এই রাসেলের কিন্তু ছিল তখন ঠিক তোমাদের মতোই বয়স। কত আর দশ কি এগারো। পড়ত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ওর ছিল কবুতর পালার শখ। বাবার মতো পাখিপ্রেম রাসেলকেও প্রকৃতির খুব কাছাকাছি টেনে নিয়ে যেত। প্রতিদিন কবুতরকে নিয়ম করে খাওয়ানো ছিল তার রোজকার রুটিন। আর তার প্রিয় কুকুর টমির প্রতিও যেন ছিল বন্ধুর মতোই ভালোবাসা। তার নিজের খাবার থেকেও টমি পেত ভাগ!

আর সবার ছোট বলে, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যেন ছিল তার পরিবারের অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভাব। বাবার চশমা কখনো তার ছোট নাকে ঢলঢল করত! বঙ্গবন্ধুও ছিলেন ছেলে ন্যাওটা। সুযোগ পেলেই মেঘের মতো ভরাট কণ্ঠে ডেকে উঠতেন রাসেল, রাসেল বলে। রাসেল দৌড়ে এলেই বুকে জড়িয়ে ধরতেন। শরতে ফোটা শিউলিফুলের মতো বাবার বুকের জমিন ভরে উঠত ভালোবাসায়!

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হলে কী হবে, রাসেল ঠিকই জানত এই বুক শুধু তাকেই আগলে রাখেনি—আগলে রেখেছে একইসঙ্গে সারা বাংলাদেশ।

কিন্তু তারপর এল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত। কালরাত এই জন্য যে, এই রাত বাবা ও ছেলেকে চিরতরে আলাদা করে দিয়েছে। শত্রুপক্ষ সবার ওপর গুলি ছুড়েছে! কাউকে বাঁচতে দেয়নি! এই জন্য আগস্ট খুব নিষ্ঠুর একটি মাস। কিন্তু ভালোবাসাকে কি আলাদা করা যায় কখনো? তোমাদের মধ্যেই বেঁচে আছে সেই ফুটফুটে রাসেল। আর বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু যে আলাদা কিছু নয় যে—এটাও তো সবাই জানে!

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন