ইয়েল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য
আমাদের চারপাশে এমন অনেক শিশু আছে, যারা বয়সে সমসাময়িকদের তুলনায় একটু মানসিকভাবে পিছিয়ে। ভুল করে হয়তো আমরা তাদের ডিজঅ্যাবল বলি। আর এ কারণে অনেক সময় সমবয়সীদের সাথে তাদের মিশতে দিই না। অনেক সময় শিক্ষার সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়। অথচ এসব শিশুরা সঠিক পরিচর্যা ও শিক্ষার সুযোগ পেলে স্বাভাবিক শিশুদের মতোই বড় হয়ে দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবে। সেইসব মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এমনি এক প্রতিষ্ঠানের কথা জানাচ্ছেন বনি আমিন

বয়সে সমসাময়িকদের তুলনায় যারা একটু মানসিকভাবে পিছিয়ে, তাদের পড়াশোনার জন্য উন্নতমানের ব্যবস্থা নিয়ে গড়ে উঠেছে ইয়েল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক অথচ সাশ্রয়ী এক ভিন্ন ঘরানার ইংরেজি মাধ্যমের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্লে’ গ্রুপ থেকে ও’ এবং এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়ার সুযোগ। মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে থাকার লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালের শুরুর দিকে উত্তরায় শুরু হয় সময়ের আলোকিত এ বিদ্যাপীঠ। যেখানে গুণগতমানের উন্নত শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে মানবীয় গুণাবলি অর্জনের আদর্শিক তথা নৈতিক শিক্ষা। কয়েকজন মাত্র ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শুরু করা এই স্কুলে এখন একাধিক ভবনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বোর্ড পরীক্ষায় প্রতি সেশনেই ভালো ফলাফল করছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের অবাধ সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার বাইরেও সমৃদ্ধ হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক বাস্তবভিত্তিক সৃজনশীল শিক্ষায়। বর্তমানে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের যোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। খোলামেলা পরিবেশে পাঠদানের লক্ষ্যে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে প্লে-গ্রুপসহ সিনিয়র সেকশনের পৃথক একাডেমিক ভবন এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণে সজ্জিত শ্রেণিকক্ষ। পাশাপাশি শ্রেণিভেদে গড়ে তোলা হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আধুনিক সায়েন্স ও কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি এবং যাতায়াতের জন্য রয়েছে স্কুল বাস।

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কৌশল শিক্ষার্থীদের মাঝে গড়ে তোলে পাঠের আগ্রহ তথা কৌতূহল। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি, শিক্ষাসফর তথা শিক্ষামূলক কার্যক্রম। বিশেষ করে শিশু শ্রেণিতে আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে খেলাচ্ছলে পড়ার এক ভিন্ন পরিবেশ এখানে সৃষ্টি করা হয় এবং ইংরেজি কারিকুলামের পাশাপাশি রয়েছে বাংলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অবাধ সুযোগ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এখানে কিছু স্পেশাল শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ভুলবশত যাদের ডিজঅ্যাবল বলা হয়। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কী? উত্তরে ব্যারিস্টার হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এদেরকে কখনোই ডিজঅ্যাবল বা অস্বাভাবিক বলা যাবে না। কারণ, ম্যাচিউরিটির দিক থেকে এরা কিছুটা পিছিয়ে, এতটুকুই! তবে এরা আর দশটা বাচ্চার সাথে যত মিশবে, ততই উন্নতি ঘটবে এবং স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতোই বেড়ে উঠবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অজ্ঞতাবশত এদেরকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয় না, যা অমানবিক। যে কাজটি এই স্কুলে হয় না, বরং আমরা এদেরকে সাদরে গ্রহণ করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল পরিচালনায় এসে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি যে, এ ধরনের শিশুরা অন্য স্বাভাবিক শিশুদের সাথে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে এটা কোনো সমস্যাই না। কারণ একজন স্বাভাবিক সহপাঠীর চলাফেরা, কথোপকথন তথা সার্বিক ব্যবহার তাকে দ্রুত প্রভাবিত করে এবং সে তা অনুসরণ করে। ফলে এদেরকে পৃথক স্কুলে দিয়ে বা ঘরে রেখে কখনোই স্বাভাবিক বাচ্চাদের পর্যায়ে আনা সম্ভব নয়। তাই আমরা অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এদেরকে ভর্তি নিয়ে সমান তালে এগিয়ে নিচ্ছি।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৬
যোহর১১:৫৭
আসর৪:২৫
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন