টিনএজারদের নিয়ন্ত্রণে
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
টিনএজারদের নিয়ন্ত্রণে
সবকিছুতেই বাধা, খালি খবরদারি কারই বা ভালো লাগে। তার উপর যদি বয়সটা হয় ১৫-১৬, তাহলে তো কথাই নেই। এই বয়সটা তো বাঁধনছাড়া উল্ল­াসে মত্ত হতে চায়। আবার এই সময়ই তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বেশ একটা বড় বড় ভাব দেখা যায় তাদের মধ্যে। আশপাশের মানুষজন ছোট হিসেবেও দেখছে না, আবার কেউ পূর্ণবয়স্ক হিসেবে মেনেও নিচ্ছে না। কিন্তু এই বয়সে একটু অন্যরকম হতে চাওয়া, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকডেটেড বন্ধুদের চেয়েও নিজেকে স্মার্ট ও আপডেটেড প্রমাণিত করার তাগিদে ছেলেদের হাতে আসে গিটার, মাথায় ব্যান্ডানা, থুঁতনিতে সযত্নে বেড়ে উঠা দাড়ি, ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিত্যনতুন কমেন্টসের আধিপত্য। আর মেয়েরা সবসময় ব্যস্ত থাকেন নিজের সৌন্দর্য নিয়ে—তাকে কি অন্যদের চেয়ে সুন্দর লাগছে, সে কি অন্যদের চেয়ে ভালো কোনো ড্রেস পরতে পেরেছে। এই বয়সে যেন সবাই ছুটে চলেছে এক মোহন রাজত্বে। তার মানে কি বাবা-মা তাদের সন্তানরা যা চাইবে তাই করতে দেবেন? তা নয়, প্রয়োজন সঠিক ব্যালান্সের। নিজেদের পারিবারিক প্রেক্ষাপট, লাইফস্টাইল এবং সন্তানের মানসিকতা অনুযায়ী এমন রাস্তা বেছে নিতে হবে যাতে সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে সন্তানের জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।

প্রতিদিন কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের জন্য সময় বের করার চেষ্টা করুন। আপনার সঙ্গে সন্তানের মানসিক বন্ধন দৃঢ় করার চেষ্টা করুন। সব সময় বকাঝকা না করে হেসে কথা বলুন এবং ভালোবাসা প্রকাশ করুন। এতে আপনার সন্তান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কে বন্ধুত্বও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সন্তানের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখুন। সন্তানের মধ্যে একটা নির্ভরতার জায়গা তৈরি করুন। সন্তানের যেন সবসময় মনে হয় যেকোনো সমস্যা বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আপনি তার পাশে আছেন। সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দিন। ওরা ছোট হলেও নিজস্ব একটা সত্তা আছে। ওদের ব্যক্তিগত মতামতের মর্যাদা দিন। জীবনের বিভিন্ন পরাজয় সহজভাবে মেনে নিতে শেখান। কাজ যতই কঠিন হোক না কেন চেষ্টা করলে সে সফল হবেই এই আত্মবিশ্বাস গেঁথে দেওয়া দরকার ওর মনের মধ্যে। ছোট-বড় যেকোনো কাজেই সন্তানকে সময়ানুবর্তিতার শিক্ষা দিন। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় সবক্ষেত্রেই সঠিক সময় বজায় রাখতে শেখান। ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দিন; যেমন—মিথ্যা কথা না বলা, বড়দের সম্মান করা, কারও ক্ষতি না করা ইত্যাদি। কারণ এই শিক্ষাগুলোর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ভবিষ্যত্ জীবন। প্রয়োজনে সন্তানকে শাসন করুন। তবে খুব কঠোর হবেন না। পরিষ্কার করে সন্তানের দোষ বুঝিয়ে বলুন। নিজের রাগকে সংযত করুন। ভালো বাবা-মা হয়ে ওঠার পেছনে প্রবলেম শেয়ারিং একটা জোরালো ভূমিকা পালন করে। এতে সন্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে। আপনার সন্তানের যে কোনো ভালো কাজের জন্য তাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন। সেটা যতই ছোট হোক না কেন। মনে রাখবেন প্রশংসা করা মানে কিন্তু মাথায় তোলা নয়। পরিবারের কারও সম্পর্কে সন্তানের কাছে নিন্দা প্রকাশ করবেন না। বাড়ির সবার ভালোবাসা নেওয়ার মতো স্বভাব তৈরি করে দিন। সন্তানকে সবসময় নিজের অধীনে রাখার চেষ্টা করবেন না। প্রত্যেকের জীবনবোধ আলাদা। দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। বন্ধুর মতো মেশার চেষ্টা করুন। তবে কখনোই ভুলতে দেবেন না যে আপনি তার অভিভাবক। কখনো সন্তানকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে তো উত্সাহ দেয়ই না বরং ডিপ্রেশন ও কনফিডেন্সের অভাব জাগিয়ে দিতে পারে। কখনো ধৈর্য হারাবেন না। বড়দের থেকে ছোটরা বেশি মুডি হয়। যেমন পড়াশোনার ক্ষেত্রে সন্তান বুঝতে না পারলেও ধৈর্যহারা হবেন না। নিজেদের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন। ছোটরা যা দেখে তাই শেখে। তাই নিজের আচরণের প্রতি সজাগ থাকুন। নিজেদের কথা এবং কাজের প্রতি সংযত হোন। সন্তানের সামনে কখনোই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন না। এতে সন্তানের ওপর খুবই খারাপ প্রভাব পড়ে। সন্তানের কাছে আপনারা দুজনই সমান প্রিয়। আপনাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে আপনার সন্তানও ভালো থাকবে। নিজেদের জন্য কিছুটা সময় হলেও বের করুন। নিজেরা তরতাজা থাকলে তবেই সন্তানকে মানুষ করতে উত্সাহ পাবেন। সন্তানের সমস্যাগুলো আরও ভালো করে হ্যান্ডেল করতে পারবেন। যারা বাইরে কাজ করেন, তারা সন্তানকে ছোট থেকে বোঝাতে চেষ্টা করুন যে আপনার একটা কাজের জগত্ আছে। সন্তানের দেখাশোনা করা যেমন আপনার দায়িত্ব, তেমনি আপনার কাজের ক্ষেত্রেও আপনাকে প্রয়োজনমাফিক সময় দিতে হবে। বাড়িতে আপনি যতটা সময় পাবেন সেটা আপনার পরিবার বিশেষ করে আপনার সন্তানের জন্যই রাখুন। এতে আপনার সন্তান বুঝতে পারবে তার পাশে তার মা-বাবা সবসময় আছে, তেমনই সে আপনার কাজের জগতকেও সম্মান করতে শিখবে।

মডেল মুমতারা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৬
যোহর১১:৫৭
আসর৪:২৫
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন