হাত ধোবেন যেভাবে
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
হাত ধোবেন যেভাবে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চর্চার মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাত ধোয়ার অভ্যাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চর্চার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। নিয়ম ও সময়মতো হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস, ডায়রিয়া, কৃমিরোগসহ আরও অনেক জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

l হাত ধোয়া অবশ্যই জরুরি। হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য সহজ এবং অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। আমরা যখন হাত দিয়ে নানা কাজ করি, এটা-সেটা ধরি, তখন অসংখ্য জীবাণু হাতে লেগে যায়। এক মিলিমিটার লোমকূপের গোড়ায় প্রায় ৫০ হাজার জীবাণু থাকতে পারে। আর একটা আংটির নিচে ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। এসব জীবাণু খালি চোখে দেখা যায় না। এরপর যখন আমরা সেই হাতে খাবার, মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ করি, তখন আমরা সংক্রমিত হই। অন্যকে স্পর্শ করে তাকেও আমরা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত করতে পারি।

l খাওয়ার আগে ও পরে, খাবার-দাবারে হাত দেওয়ার আগে, পায়খানার পরে, কাঁচা মাছ, গোশত, ডিম বা শাকসবজি স্পর্শ করার, শিশুদের ডায়াপর পরিবর্তন করার, ময়লা আবর্জনা স্পর্শ করার, হাত দিয়ে নাক ঝাড়ার এবং হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেয়ার পরে অবশ্যই হাত ধুতে হবে। ছাড়া হাত যখন দেখতে ময়লা দেখাবে, তখন তো ধোবোই। হাত না ধুয়ে কখনোই তা দিয়ে মুখের ভেতর স্পর্শ করা যাবে না।

l হাত ধোয়ার কিছু নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো অনুসরণ না করলে হাত ধোয়া সঠিক হবে না। প্রথমে পানি দিয়ে হাত ভেজাতে হবে। তারপর সাবান নিয়ে দুই হাতে মেখে ফেনা করতে হবে। দুই হাতে সেই ফেনা ব্যবহার করে দুই হাতের উভয় দিক, আঙুলের ফাঁকগুলো, নখের নিচে এবং কিনারে, বুড়ো আঙুলের গোড়া এবং কবজি খুব ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে। তারপর ট্যাপের প্রবহমান পানিতে হাত ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। ট্যাপটি বাম হাতে বন্ধ করতে হবে। পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা দিয়ে হাত শুকিয়ে নিতে হবে। খাওয়ার আগে মোছার প্রয়োজন নেই।

l সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান কিন্তু জীবাণু মারে না। সাবানের ফেনা হাতে লেগে থাকা ময়লা, চর্বি ও জীবাণুগুলোকে হাত থেকে আলগা করে ফেলে। আর তখন পানি দিয়ে সেগুলোকে সহজেই ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা যায়। শুধু পানি দিয়ে যতই ঘষা হোক ময়লা, চর্বি ও জীবাণু কখনই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।

l যেকোনো সাধারণ সাবান দিয়েই হাত ধোয়া যাবে। ছোট সাবান বড় সাবানের চেয়ে ভালো। কারণ তা ঘন ঘন বদলানো যায়। সাবান রাখতে হবে পানি ঝরে যায় এমন সাবানদানিতে। তরল সাবান সাধারণ সাবানের চেয়ে ভালো, তবে খরচ বেশি। তরল সাবানের কনটেইনার আবার ভরতে চাইলে তা আগে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

l হাত ধোয়ার সময় আমরা সচরাচর কিছু ভুল করে থাকি। যেমন, হাতের দুই দিক সঠিকভাবে মাজি না, আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করি না, নখের নিচে বা কিনারে পরিষ্কার করি না এবং বুড়ো আঙুলের গোড়ার দিক মাজি না। অনেক সময় এক হাতে সাবান নিয়ে হালকা করে কচলিয়ে নেই।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৬
যোহর১১:৫৭
আসর৪:২৫
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন