চলছে ২০ বছরের পুরনো বাস
মালিকদের দাবি সবই নতুন
পিনাকি দাসগুপ্ত২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
চলছে ২০ বছরের পুরনো বাস
রাজধানীতে গণপরিবহন (বাস-মিনিবাস) নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- গণপরিবহনের সিংহভাগই লক্কড়-ঝক্কড় এবং ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরনো। ঈদ আসলেই এসব পুরনো বাস-মিনিবাসে রঙ লাগিয়ে নতুনভাবে সাজানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও বিআরটিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব পুরনো গণপরিবহন চলছে নগরীতে। সম্প্রতি মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আগামী ১ মার্চ থেকে বিভিন্ন অফিসের স্টাফ বহনকারী বাসসহ সকল ধরনের ২০ বছরের পুরনো বাস চলতে দেওয়া        হবে না। তবে পরিবহন মালিক সমিতি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০ বছরের অধিক পুরনো কোনো বাস চলাচল করছে না।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সারা দেশে চলাচলরত বাস-মিনিবাসের অন্তত ৩০ শতাংশ ২০ বছরের বেশি পুরনো লক্কড়-ঝক্কড়। আর ৬১ শতাংশের বয়স ১০ বছরের ওপরে। সারা দেশে বাস-মিনিবাসের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৯টির। এরমধ্যে ৪০ হাজার ৮২২টি বাস-মিনিবাস ১০ বছরের পুরোনো। ২০ বছরের পুরনো বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫৪টি। রাজধানীতে অনুমোদিত বাসের সংখ্যা সাত হাজার ৩৬২টি। তবে ১৬৭টি রুটে চলাচল করছে পাঁচ হাজার ৪০৭টি । এরমধ্যে বাস দুই হাজার ২৮১টি ও মিনিবাস তিন হাজার ১২৬টি।

বাংলাদেশ  সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ  বলেন, আমাদের জানা মতে রাজধানীতে ২০ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো গাড়ি নেই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মেয়র যে ঘোষণা দিয়েছেন আমরা তাতে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, মোটরযান আইন অনুসারে, যত দিন ফিটনেস থাকবে, তত দিন একটি গাড়ি চলতে পারবে। তবে নির্বাহী আদেশে রাজধানীতে বাসের ২০ ও ট্রাকের জন্য ২৫ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির একজন শীর্ষ নেতা ২০ বছরের অধিক পুরনো বাস চলাচলের কথা স্বীকার করে বলেন, আগে বাসের জন্য সময় সীমা ছিল ১৫ বছর। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সেখানে বাস চলাচলের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০ বছর করেছে; কিন্তু আইন কজন মানছেন। তিনি বলেন, চলালচলকারী বাসের ২৫ থেকে ৩০ ভাগই ২০ বছর অতিক্রম করেছে; কিন্তু বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি যাদের দেখার কথা তারাই এটি দেখেন না। মালিকরাও দেখছেন-  পুলিশ ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব বাস চালানো সম্ভব। ফলে তারা ম্যানেজের পথই বেছে নিয়েছেন। তবে এই পরিবহন সংগঠনের নেতা বলেন, এসব বাস দিনের চেয়ে রাতেই বেশি চলছে। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, দুইদিন আগে তিনি বিমানবন্দর থেকে একটি বাসে উঠে ছিলেন। কুড়িল আসার পরই বাসটি হঠাত্  বন্ধ হয়ে যায়। পড়ে ঠেলে ঠুলে গাড়িটি চালু করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিশ বছরের অধিক বাসের বিরুদ্ধে  মেয়র সাঈদ খোকন যে ঘোষণা দিয়েছেন তাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসলে এ অবস্থা আর চলতে পারে না।

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী একটি পরিবহনের মালিকও স্বীকার করেছেন যে, নগরীতে ২০ বছরের অধিক পুরনো বাস চলাচল করছে। তার দাবি এর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। তিনিও বলেছেন, পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব বাস রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলছে। তবে এসব বাস যে পুরনো বাইরে থেকে তা বোঝা মুশকিল। রঙ লাগিয়ে এসব গাড়ি নতুনের মতো সাজানো হয়। প্রত্যেক রুটে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশও বিষয়টি অবগত।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ২০ বছরের পুরনো বাসের রুট পারমিট দেওয়া হয় না। এমনকি নবায়নও করা হয় না। ২০ বছরের পুরনো বাস চলাচল করে বলে এমন অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ’র পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার বলেন, ২০ বছরের পুরনো বাস চলাচল করার কথা নয়। আগামী ১ মার্চ থেকে ২০ বছরের পুরনো বাসের বিরুদ্ধে বিআরটিএ, ডিএসসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযানে নামবে।

পুরনো বাস বন্ধে মেয়রের বৈঠক

মেয়র সাঈদ খোকন যানজট নিরসনকল্পে বাসগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনার লক্ষ্যে গত ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি নগর ভবনে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে তিনি রাজধানীর যানজট নিরসনে মার্চ থেকে ২০ বছরের পুরনো বাস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চলতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা, কম বয়সী চালকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বৈঠক শেষে মেয়র বলেন, বেশকিছু মৌলিক সমস্যা রয়েছে আমাদের এ শহরে। এরমধ্যে অন্যতম বড় সমস্যা হলো যানজট। যানজটের ভয়াবহতা নতুন করে বলার কিছু নাই, যানজট ঢাকার দুঃখ। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এ উদ্যোগ। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা, কম বয়সী চালকরা দুর্ঘটনাসহ সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে জানিয়ে মেয়র বলেন, বিআরটিএ’র আইন অনুযায়ী ন্যূনতম শিক্ষা যদি কোনো চালকের না থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, তাকে বাস চালাতে দেওয়া হবে না। বৈঠকে বিআরটিসি ও বেসরকারি স্টাফ বাসও রাস্তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, বিআরটিসির স্টাফ বাস যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের ডিপোতে চলে যাবে। ডিপোতে জায়গা না হলে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে চলে যাবে। বেসরকারি স্টাফ বাসগুলোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা হয়েছে। তারাও তাদের চিহ্নিত জায়গায় চলে যাবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন