রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৯ হাজার কোটি টাকা
চলতি অর্থ বছরের সাত মাসের চিত্র
রিয়াদ হোসেন২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও  রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে রাজস্ব আদায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব কম আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৯২ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অবশ্য গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। যদিও এবার রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এনবিআরের ‘পারফরমেন্স’ এবার অতীতের তুলনায় ভালো। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন হবে না বলে আশঙ্কা তাদের। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, “শুরুতেই বলেছিলাম, এ লক্ষ্যমাত্রা ‘অতি উচ্চাভিলাষী’। আমি নিশ্চিত, এটি আদায় হবে না। গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এনবিআরের এবারের আদায়ের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। তা সত্ত্বেও এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। অর্থবছর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে।”

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে রাজস্ব আদায়ে।

অবশ্য এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান মনে করছেন, অর্থবছরের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব হবে। ইত্তেফাককে তিনি        বলেন, ‘আগামী মাসগুলোতে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়নের হার বাড়বে। এর সঙ্গে বকেয়া আদায় ও এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। অন্যদিকে করদাতাও বাড়ছে।’ তিনি বলেন, সরকারি কয়েকটি সংস্থার কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়ে গেছে। এসব অর্থ আদায় জরুরি।

চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। অথচ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত তিন বছর যাবত্ এমন বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা মাঝপথে কমাতে হয়েছিল। এবার লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে কমিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী মাস নাগাদ এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হওয়ার পাশাপাশি করদাতাদের মধ্যে কর পরিপালনের (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) মানসিকতা গড়ে না ওঠাকেও কম রাজস্ব আদায়ের জন্য দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, করদাতাদের মধ্যে এ ধারণা জন্মেছে যে  ফাঁকি দিলে বড় শাস্তি হয় না।

এদিকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে  অস্বস্তিতে রয়েছে আয়কর, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ও শুল্ক অফিসগুলো। সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নানামুখী চেষ্টা চালিয়েও তাদেরকে দেওয়া লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে।

বাড়তি এ লক্ষ্যমাত্রার কারণে ব্যবসায়ী পর্যায়ে হয়রানি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ী নেতাদের। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মোতালেব ইত্তেফাককে বলেন, “রাজস্ব কর্মকর্তারা তাদের দেওয়া ‘টার্গেট’ পূরণের জন্য ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। দোকানে এসে খাতাপত্র নিয়ে যাচ্ছে। দৈনিক দুই হাজার টাকা বিক্রি করে - এমন দোকানেও ২৮ হাজার টাকা ভ্যাট দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরাতে পণ্যবাহী ট্রাক আটক করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। হানা দিচ্ছে ছোট ছোট মুদি দোকানেও।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে ভ্যাট। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভ্যাট আদায় কম হয়েছে ৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৪০ হাজার ২৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। ৩৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। এ বিবেচনায় শুল্ক আদায়ে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুল্ক আদায় কম হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন