প্রবল আবেগ নিয়ে মেলায় আসেন প্রবাসীরা
আসিফুর রহমান সাগর২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
বইমেলা নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে আবেগের তীব্রতা কেমন তা বোঝা যায় প্রবাসী বাঙালিদের দেখলে। যারা বই ভালোবাসেন এমন প্রত্যেক বাঙালির কাছেই বইমেলা প্রাণের মেলা। কিন্তু প্রবাসীদের কাছে তা ভিন্ন রকম। সেই আবেগ ঠিক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

ফেব্রুয়ারি এলেই অনেক প্রবাসীও চলে আসেন দেশে। কেউ বই প্রকাশ করার জন্য, কেউবা আড্ডা দেওয়ার জন্য। বইমেলাকে কেন্দ্র করে এ বইমেলা হয়ে ওঠে মিলনমেলা। বইয়ের প্রতি ভালোবাসায় সবাই আসেন মেলায়। কিন্তু প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বইমেলা এক দুনির্বার আকর্ষণের নাম। প্রবাসী অনেক লেখকের বইও প্রকাশিত হয় মেলায়। এই লেখকদের পাঠকরা দেখা না পেলেও তাদের লেখার মাধ্যমেই অনেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ বছরও মেলায় অনেক প্রবাসী লেখকের বই এসেছে।

প্রতিবছর এক মাসের জন্য কানাডা থেকে মেলায় চলে আসেন ছড়াকার লুত্ফর রহমান রিটন। চ্যানেল আইয়ের ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠান শেষ করে আড্ডা দেন বাকি সময়। বললেন, এ আবেগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বইমেলার সময় বিদেশে মন টেকে না। বাংলা সাহিত্যের মান বিশ্বের অন্য দেশের সাহিত্যের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। কিন্তু মানসম্পন্ন অনুবাদ না হওয়ার কারণে তা বিশ্বের পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সেই আক্ষেপ ঝরল আরেক প্রবাসী লেখক ইকবাল হাসানের কণ্ঠে। তিনিও প্রায় প্রতিবছরই চলে আসেন এই ফেব্রুয়ারিতে। অনেকে আসতে পারেন না কিন্তু মন পড়ে থাকে এখানে। অনেক প্রবাসী লেখকের বই বের হয় মেলায় স্টলে স্টলে তাদের সেসব বই বাঙলা সাহিত্যের নতুন সংযোজন, ভাষায় নতুন প্রাপ্তি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, প্রবাসী লেখকদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।  বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি মানুষ বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব অঞ্চলে বাঙালিরা ছড়িয়ে পড়ায় সেসব অঞ্চলের কথা, জীবনযাত্রা আমাদের উপন্যাসে উঠে আসছে। যা সাহিত্যে এক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল সৃষ্টি করছে।

মেলায় বইয়ের মোড়ক

উন্মোচন করতে দুই মন্ত্রী

গতকাল মেলায় এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। তারা বইমেলা ঘুরে দেখেন। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এদিকে, গতকাল মেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে দৈনিক মানবকণ্ঠ সম্পাদক আনিস আলমগীরের ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বইয়ের’ মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, কলামিস্ট বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৮২টি। এর মধ্যে অন্যপ্রকাশ এনেছে রাবেয়া খাতুনের মুক্তিযুদ্ধের বাছাই গল্প, শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে তসলিমা নাসরীনের সকল গৃহ হারানো যার, আদর্শ এনেছে আনিস আলমগীরের ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, মূর্ধন্য এনেছে কাদের মাহমুদের বারে বারে আসে স্বাধীনতা, হাতেখড়ি এনেছে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, কোয়ান্টাম এনেছে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ভাঙো দুর্দশার চক্র, ঐতিহ্য এনেছে ড. সন্জীদা শাহরিয়ারের মনোদৈহিক প্রভাব, সৈয়দ আবিদ রিজভীর মোগল সম্রাট শাহজাহান, পাঞ্জেরী এনেছে আনিসুল হকের আমার একটা পোষা দৈত্য আছে, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র এনেছে হারুন অর রশিদের স্বাধীনতার সংলাপ প্রভৃতি।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান

বিকেল গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি : বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক জিনাত হুদা অহিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোঃ আবুল কাসেম এবং ড. শাহিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

সভাপতির বক্তব্যে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপস্থিতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষিতে খুবই জরুরি।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক শফিউল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’র সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, তপন মাহমুদ, শামা রহমান, মহিউজ্জামান চৌধুরী, নীলোত্পল সাধ্য এবং শিখা আহমাদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন এনামুল হক ওমর (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)। 

আজকের অনুষ্ঠান

আজ মেলায় বিকালে মূলমঞ্চে রয়েছে আলোচনা। বিষয়- অনুবাদ সাহিত্য : সাহিত্যের অনুবাদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনা করবেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ, কবি শামীম আজাদ এবং সাদাফ সায।  সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন