ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব
এজিএম ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে
রেজাউল হক কৌশিক২২ মে, ২০১৭ ইং
দিন যত যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পাচ্ছে। একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মিডিয়াতে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কার কতটা যোগাযোগ তারও একটা রিহার্সেল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত গড়িয়েছে এ ঘটনা। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দ্বন্দ্ব নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো ভূমিকা নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে— এ কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় তো এখন মারামারি চলছে। তবে এটা বোর্ডের বিষয়। এ ব্যাপারে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এর বিদেশি পার্টনার আইডিবি যদি সরকারের কাছে অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করবে বলে জানান তিনি। সৌদি আরবের জেদ্দায় আইডিবির সম্মেলন থেকে ফিরে এসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এ তথ্য জানান।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকদের পরিস্থিতি যখন এমন উত্তেজনাকর তারই মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা। আর সুষ্ঠুভাবে তা বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবস্থাপনার মধ্যে আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। এখন ব্যাংকের সব কাজই এজিএম কেন্দ্রিক। অন্যান্য সব ধরনের সভা-আয়োজন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বার্ষিক সভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে আর্মি গল্ফ ক্লাবের মিলনায়তনে। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে প্রতিবছর বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করতে হয়। সেখানে বার্ষিক রিপোর্ট পেশ ও অনুমোদন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, মুক্ত আলোচনা, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা ও পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে উপস্থাপন ও অনুমোদন নিতে হয়।

প্রতিবারই সুষ্ঠুভাবে এজিএম সম্পন্ন হলেও এবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে চিন্তিত হয়ে পড়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ ব্যাংকটিতে দুই ডজনের বেশি রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকর্তা রয়েছেন বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরপর গত ১৩ মে গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান গত ১৮ মে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আহসানুল আলম মিথ্যাচার করেছেন। সর্বশেষে ২০ মে আহসানুল আলম নয় পরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, পরিচালক পদ থেকে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করলে আরো নয় পরিচালক ব্যাংক ছেড়ে চলে যাবেন।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের নেতৃত্বে পরিচালকদের একটি অংশ আহসানুল আলমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এজন্য এজিএমে হট্টগোল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ব্যাংকটির কয়েকজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা এজিএমএ না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজিএমে সবধরনের শেয়ারহোল্ডার আসবেন। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এ দ্বন্দ্বের বিষয়টি অবশ্যই সেখানে আলোচনায় উঠবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বড়ধরনের হট্টগোল বেধে যেতে পারে। তাই অপমানজনক অবস্থা থেকে বাঁচতে সাধারণ সভায় যোগ না দেওয়াই উচিত বলে মনে করছি।

অবশ্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডির সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকেও পরিচালকদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে সভায় অংশগ্রহণের জন্য। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকানোর জন্য রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এজিএমের সময় গল্ফ ক্লাবের মিলনায়তনে প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এজিএমে অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যেককে তল্লাশি করে সভাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হবে। সাধারণ সভা যতদ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য এজেন্ডা ও আলোচনার সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। মিলনায়তনে কয়েকটি ক্যামেরা বসানো হবে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও করার জন্য। ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড ও কর্মচারীদের বড় একটি অংশকে উপস্থিত রাখা হবে।

এজিএমে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। গতকাল ‘ইত্তেফাক’কে তিনি বলেন, এজিএমে কত শতাংশ ডিভিডেন্ট দেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত তো বেশ আগেই হয়েছে। আর কবে কোথায় এজিএম হবে সেটিও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

তবে ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এজিএম নিয়ে আমরা চিন্তিত আছি। এবার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে, যা শেয়ারহোল্ডাররা মেনে নিতে পারেনি। এরপর ব্যাংকের শেয়ার ৪৮ টাকা থেকে ৩২ টাকা করা হয়েছে, যাতে শেয়ারহোল্ডারদের ৫০ শতাংশ পুঁজি হাওয়া হয়ে গেছে। ব্যাংক দুই হাজার কোটি মুনাফা করেছে অথচ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের তোপের মুখে পড়ব কিনা সে বিষয়ে চিন্তিত আছি। দ্বন্দ্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক বেসিক হতে যাচ্ছে এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি বলে আমরা মুখ খুলছি। তিনি বলেন, এখন পরিচালকরা আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। এছাড়াও বেশকিছু বিষয় নিয়ে পরিচালকদের একাংশ চিন্তিত বলে জানিয়েছেন সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ। তিনি বলেন, আইটি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা চলে যায় সেটা নিয়ে ডাইরেক্টররা চিন্তিত। তখনতো অন্যদের খুুঁজে পাওয়া যাবে না আমাদের মতো পরিচালকদেরই দুদকের কাছে লেফট রাইট করতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন