শেয়ারহোল্ডারদের কোনো টাকাই দেয়নি ১১১ কোম্পানি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১১১ কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড ইল্ড) শূন্য। কোম্পানিগুলো ২০১৬ সাল শেষে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে কোনো টাকাই দেয়নি। এর মধ্যে ৬৭টি কোম্পানি বোনাস শেয়ার দিয়েছে। আর ৪৪টি কোম্পানি বছর শেষে বোনাস শেয়ারও দেয়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো আমাদের পুঁজিবাজারেও বোনাস শেয়ারকে প্রকৃত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, কোম্পানিগুলোর মুনাফা নগদ লভ্যাংশ হিসেবে দিলে শেয়ারহোল্ডাররা সরাসরি টাকা পান। আর নগদ টাকা না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়। ফলে একদিকে নগদ লভ্যাংশও পাওয়া যায় না, অন্যদিকে শেয়ারের দামেও লোকসান গুণতে হয় শেয়ারহোল্ডার-দেরকে। তবে কোম্পানিতে মূলধন বাড়ানো হলে আরও মুনাফা করা যাবে, এমন সম্ভাবনা থাকলে কোম্পানির পর্ষদ নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিতে পারেন। মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, দুয়েকবার বোনাস শেয়ার দেয়া যায় কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যেসব কোম্পানি বোনাস শেয়ার দিচ্ছে তাদের মুনাফা বাড়ার পরিবর্তে কমতেও দেখা গেছে। এদিকে ৪৪টি কোম্পানি বছর শেষে শেয়ারহোল্ডারদেরকে কোনো লভ্যাংশই দিচ্ছে না। এ কোম্পানিগুলো মুনাফা করতে না পারায় তারা নগদ বা শেয়ার কোনো লভ্যাংশই দিচ্ছে না। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, এসব কোম্পানি বাজারে আসার সময় ভালো মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে, এখন তারা লোকসান করছে। ফলে শেয়ারহোল্ডাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য যারা কাজ করেছে তাদেরকে এ ব্যাপারে ধরা উচিত। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা না হলেও বারবার লোকসান করা হলে সেখানে প্রশ্ন করাই উচিত। ড. আবু আহমেদ আরও বলেন, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এক তৃতীয়াংশ কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশই যদি শূন্য হয়, এতেই বুঝা যায় শেয়ারবাজারের অবস্থা কী? এ ধরনের কোম্পানিগুলোর জন্য গোটা বাজারের আস্থাই কমে যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নেন ভালো মুনাফা পাওয়ার জন্য। তাদের মুনাফা অনেকটাই নির্ভর করে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফা ও লভ্যাংশের উপর। কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করলে এবং ভালো লভ্যাংশ দিলে শেয়ারের দাম বাড়ে, ফলে তারা লাভবান হন। কোম্পানিগুলো যদি ভালো মুনাফা করতে না পারে তখন ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। দেশের পুঁজিবাজারে ভালো মুনাফা করে এমন কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া মুনাফা করেও বছর শেষে নগদ লভ্যাংশ দেন এমন কোম্পানির সংখ্যা আরও কম।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫টি কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশের পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া ৪৭টি কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশ ৫ শতাংশের বেশি। ১৫৯টি কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশ ৫ শতাংশের মধ্যে। আর ১১১টি কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশের পরিমাণ একেবারে শূন্য। প্রকৃত লভ্যাংশের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংকও রয়েছে তালিকার শীর্ষে।

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এক সময় পুঁজিবাজারে হুজুগের উপর এবং গুজবের ভিত্তিতেই বেশি বিনিয়োগ হতো। ২০১০ সালে ধসের পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। ফলে তারা বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফা ও আয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু ভালো মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানির সংখ্যা কম। এ অবস্থায় বাজারের গভীরতা ও গতিশীলতা বাড়াতে হলে পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন ও মুনাফামুখি কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে।

মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, বাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে লোকসান করছে। ফলে তারা কোনো লভ্যাংশই দিচ্ছে না। এ কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনে লোকসান করছেন বিনিয়োগকারীরা। এদের ব্যাপারে কোনো ধরনের পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা। প্রয়োজনে তাদের পর্ষদে দক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে যুক্ত করে মুনাফামুখি করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে বাজার নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন