টিয়া খানমের ‘ব্রেইন ইকুয়েশন’
টিয়া খানমের ‘ব্রেইন ইকুয়েশন’
সম্প্রতি আমরা ‘ব্রেইন ইকুয়েশন’ নামে একটি শিক্ষামূলক অ্যাপ তৈরি সম্পন্ন করি। ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির কথা আমরা সবাইকে জানাই। আমাদের তৈরি প্রথম অ্যাপটি গত ৪ মে ন্যাশনাল মোবাইল অ্যাপলিকেশন অ্যাওয়ার্ড জিতে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়া সে প্রোগ্রামে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আমাদের পুরস্কার তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, সাহিত্যিক আনিসুল হক প্রমুখ। বলছিলেন বাংলাপাজেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিয়া খানম।

 ব্রেইন ইকুয়েশন অ্যাপটি অনেকটা সুডোকুর মত। তবে বিশ্বে সরল অঙ্কের আইডিয়া নিয়ে তৈরি করা প্রথম অ্যাপ। ব্রেইন স্টর্মিং করতে আগ্রহী প্রত্যেকে আনন্দের সাথে অ্যাপটি খেলতে পারবে। আবার যারা সরল অঙ্কে নিয়ে সমস্যায় ভুগে কিংবা গণিত শিখতে ভয় পায়, তারাও মজা করে খেলতে পারবে। ঢাকা শহরে যানজট সবার নিত্যসঙ্গী। সবসময় ফেসবুকিং করতে ভালো লাগে। এরকম সময়েও অ্যাপটি কাজে দিবে। আমরা চাই, সবাই অ্যাপটি খেলে যেন বিনোদন পায়। তাই অ্যাপে আমরা সহজ থেকে কঠিন বিভিন্ন রকম ধাপ রেখেছি। প্রত্যেক ধাপেই একটি খেলা কম সময়ে এবং কম ভুল করে সমাধান করতে পারলে পরের গেমটি খেলতে পারবে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, শিক্ষামূলক বিনোদনের খোরাক হিসেবে ১৬৮টি গেম উপকারে আসবে।

অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার ২০ দিনের মধ্যে জাতীয় পুরস্কার পেলেও আমরা কাজ করেছি সাত মাস ধরে। ডিজাইন, কোডিং, গেমিং কোথাও যেন ত্রুটি না থাকে, দেখতে যেন আকর্ষণীয় হয়, সে বিষয়ে নজর দিয়েছি। গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি দেয়ার এক মাস আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক গেমগুলো খেলে দেখেছেন। ছোটখাট ত্রুটিগুলো সমাধান করেছেন। আগামী বছর মার্চ মাসে অস্ট্রিয়ায় ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড সামিট অনুষ্ঠিত হবে। সে সামিটে অ্যাপটি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। জটিল সরল অঙ্ককে সহজভাবে উপস্থাপন করে অ্যাপটি তৈরি করায় আমরা সেখান থেকেও পুরস্কার ছিনিয়ে আনতে পারব বলে মনে করি। বিশ্বে মোবাইল অ্যাপের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জনসংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম হলেও অ্যাপ ডাউনলোডের হারের দিক থেকে ৩০ তম! বাংলাদেশের তরুণেরা বিশ্বের অন্যান্য তরুণদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখে। আমরা নিজেরাও ব্রেইন ইকুয়েশনের মত সুন্দর সুন্দর অ্যাপ উপহার দিতে চাই। এ অ্যাপগুলোর মধ্যে আমরা কিছু অ্যাপ বাংলা ভাষায় তৈরি করতে চাই। কাজটি সহজ করে করার জন্য আমরা ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে বিজনেস মডেল দাঁড় করিয়ে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। এ লক্ষ্যে বাংলাপাজেল নামে একটি কোম্পানি চালু করেছি। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে আমরা এ বছর বাংলাভাষায় ১০টি ও ইংরেজি ভাষায় ১০টি বিশ্বমানের অ্যাপ তৈরি করতে চাই। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে আমরাও ভূমিকা রাখতে চাই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন