চট্টগ্রামে আজ থেকে শুরু ট্রাফিক সপ্তাহ
গণপরিবহনে নৈরাজ্য থামছে না
গণপরিবহনে নৈরাজ্য থামছে না
পরিবহন ব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সোমবার থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে শুরু হচ্ছে ট্রাফিক সপ্তাহ। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে বরাবরই জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সেবার প্রতিশ্রুতি দেয় সিএমপি। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও চট্টগ্রামে পরিবহন ক্ষেত্রে নৈরাজ্য রোধ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বিআরটিএ’র হিসাবে বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করার কারণেই চলাচলের অনুপযোগী গাড়ি রাস্তায় নামার সুযোগ পাচ্ছে। বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলেন, এর জন্য এক শ্রেণির পরিবহন মালিকও সমানভাবে দায়ী। সরকারি ট্যাক্স পরিশোধ না করে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে তারা রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন। ফলে সরকার যেমন বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় তেমনি রাস্তায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে প্রকাশ্যেই চলছে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি। অলংকার মোড়, বারিক বিল্ডিং মোড়, নিউমার্কেট, জিইসি মোড়, বন্দর নিমতলা, বহদ্দারহাটসহ নগরীর ৩০টি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজি করে। আগে কনস্টেবলকে দিয়ে চাঁদা নিতেন সার্জেন্টরা। বর্তমানে দালাল দিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। ‘টেন্ডল’ নামের এই দালালরা সারাদিন চাঁদা তোলার পারিশ্রমিক হিসেবে দৈনিক ৬০০ টাকা পায়।

জানা গেছে, নানা কারণে যানবাহন চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নেয় পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির ফিটনেস না থাকা, অবৈধ স্থানে পার্কিং, দিনের বেলা শহরে ট্রাক, কভার্ডভ্যান চলাচল করা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনো, মিটার ছাড়া সিএনজি অটোরিকশা চালানো, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার, গাড়িতে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করা, ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করা ইত্যাদি। এছাড়া অবৈধ পণ্য পবিহনের অজুহাতে ট্রাক, কভার্ডভ্যানে তল্লাশির নামেও চাঁদা নেয়া হয়।

জানা গেছে, চাঁদাবাজির কারণে সরকার রাজস্ব হারালেও ট্রাফিক পুলিশের অসাধু কিছু সদস্য রাতারাতি প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়ে গেছেন। এদের বৈধ আয়ের সাথে জীবন-যাত্রার কোনো সামঞ্জস্য নেই। একজন সাধারণ কনস্টেবলেরও দুই-তিন লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেল রয়েছে। সিএমপির একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শহরে সিএনজি অটোরিকশা মিটারে না চলার অন্যতম কারণ হচ্ছে অনেক অটোরিকশারই মালিক বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্য। এছাড়া অনেক পুলিশ মাইক্রোবাস ব্যবসাতেও জড়িত রয়েছে। ফলে ট্রাফিক পুলিশ এসব সিএনজি অটোরিকশা বা মাইক্রোবাস কখনোই আটক করে না।   

সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মোটরযানের সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই লাখ। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাসের ফিটনেস নেই। ৩০ শতাংশ টেম্পু এবং ১৫ শতাংশ হিউম্যান হলার এবং ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রাইভেট কারের ফিটনেস নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলকারী ৬০ শতাংশেরও বেশি যানের ফিটনেস নেই। তবে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে পুলিশ প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করলেও এসব অভিযানকে ‘লোক দেখানো’ কাজ বলে মনে করেন নগরবাসী।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন