মানিকগঞ্জে কৃষি শ্রমিকের সংকট, লোকসানে কৃষক
মানিকগঞ্জে কৃষি শ্রমিকের সংকট, লোকসানে কৃষক
মানিকগঞ্জে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাকা ধান মাঠে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে দ্রুত তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। যে কোনো মুহূর্তে শিলা বৃষ্টি বা ঝড়ে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষি শ্রমিকের অভাবে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র, চাকরিজীবী এমনকি পীরের মুরিদানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ধান কাটতে মাঠে নেমে পড়েছেন।

এবার জেলায় ধানের ভাল উত্পাদন হলেও বর্তমানে ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াইয়ের কাজে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যে কজন খোরাকি কামলা (প্রতি দিন ৩ বেলা খাবারসহ) পাওয়া যাচ্ছে তাদের প্রত্যেকের মজুরি দিনে ৬৫০ টাকা খেকে ৭০০ টাকা। বাজারে ধানের এখন যা দাম তাতে উত্পাদন খরচও উঠছে না। প্রতিমণ ধান উত্পাদনে খরচ হচ্ছে ১১০০ টাকা আর বর্তমান বাজার মূল্য ৯০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা। অপরদিকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। যদিও সরকারি প্রতিকেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা। সে হিসেবে প্রতিমণ ধানের দাম দাঁড়ায় ৯৬০ টাকায়। বেশির ভাগ সময় কৃষকদের কাছ থেকে  সরাসরি এ ধান ক্রয় করা হয় না। কেনা হয় দালাল-ফরিয়াদের কাছ থেকে। এতে তারাই লাভবান হয়।

জেলার সদর উপজেলার ভাটভাউর গ্রামের ধানচাষি মো. আমীর আলী জানান, কামলা খরচ বেশি। আর বর্তমানে যে বাজার দর তাতে আমার চালান উঠবে না। শিবালয় উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের চাষি মো. লুত্ফর রহমান বলেন. আমি ৫৪ শতাংশ অর্থাত্ ২ পাখি জমি ১ বছরের জন্য লিজ নিয়েছি। জমির মালিককে আমার ২০,০০০ টাকা দিতে হবে। ২ পাখিতে আমার খরচ হয়েছে ৪৭,০০০ টাকা। বর্তমানে ধানের যে বাজার দর তাতে আমার প্রায় ৯০০০ টাকা লোকসান হবে।

ভাটভাউর গ্রামের ধানচাষি মো. শাহিদ আলী বলেন, ধানকাটা শ্রমিকের যে মজুরি তাতে অর্ধেক ধান তাদের দিয়ে দিতে হয়। সরকার থেকে আধুনিক ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মেশিন সরবরাহ করা হলে আমাদের অনেক উপকার হতো। সারা চক ভরা পাকা ধান; কিন্তু শ্রমিকের অভাবে আমরা ধান ঘরে তুলতে পারছি না। শিবালয় উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের মো. সমেজ উদ্দিন বলেন, আল্লাহ না করুন যদি শিলা বৃষ্টি বা ঝড় হয় তাহলে আমাদের সব শেষ। সরকারিভাবে ধান কাটার মেশিন সরবরাহের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই মেশিন দিলে  আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবো।

সরকারি ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম সংক্রান্ত ব্যাপারে জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম বলেন, এ বছর জেলায় ২৯১ মেঃ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তবে এখনো ধান সংগ্রহের কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। কৃষি শ্রমিক সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া বলেন, এ বছর জেলায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪ মে. টন হিসেবে এবার জেলায় ধান উত্পাদন হবে ১ লাখ ৭৬ হাজার মে. টন। তিনি বলেন, জেলায় এখনো ৭০ শতাংশ ধান মাঠে রয়েছে। শুধু এক বিঘা ধান কাটার জন্যই কৃষকদের খরচ হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এটা আসলেই তাদের জন্য অত্যন্ত বেশি। তবে সরকার ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করার কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কৃষকদের মাঝে সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ৭ লাখ টাকা; কিন্তু সরকার তা অর্ধেক দামে অর্থাত্ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় কৃষকদের প্রদান করবে। এ মেশিনের মাধ্যমে  দিনে ১০০ একর জমির ধান কাটা সম্ভব। এতে প্রতি বিঘার কৃষকের খরচ হবে মাত্র ২০০ টাকা। জেলার ধান চাষিদের দাবি, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে তাদের ধান কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন