প্রবাসী ক্রীড়াবিদদের জন্য বাংলাদেশের দরজা বন্ধ
স্পোর্টস রিপোর্টার২২ মে, ২০১৭ ইং
প্রবাসী ক্রীড়াবিদদের জন্য বাংলাদেশের দরজা বন্ধ
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। এখন তারা বুঝতে পারছে, না জেনে-শুনে কোনো প্রবাসী ক্রীড়াবিদকে আন্তর্জাতিক গেমসে পাঠানো ঠিক না। গেমসে পাঠাতে হলে তার সম্পর্কে সব কিছু জেনে-শুনে বুঝে দায়িত্ব নিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আলীদা সিকদার গেমসে গিয়ে খেলায় অংশ না নিয়ে চলে গেছেন। তার জন্য দুইটি ইভেন্ট ছিল। একটিতেও তিনি অংশগ্রহণ করেননি। আর সেকারণে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

হোঁচট খেয়ে বুদ্ধি এসেছে মার্কিং মুল্লুকে জন্ম নেয়া প্রবাসী অ্যাথলেট আলীদা সিকদারের ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশগ্রহণ নিয়ে। উনিশ বছরের এই ক্রীড়াবিদ গেমসের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং লং জাম্পে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছিল বিওএ। স্বপ্ন দেখেছিল সোনার পদক তুলে আনবেন। বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। দেশের বাইরে অনেক ক্রীড়াবিদ রয়েছেন যারা সেখানকার ক্রীড়াঙ্গনে বেড়ে উঠেছেন। উন্নত পরিবেশে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছেন। তারা যদি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে তাহলে সোনার পদক আসবে। এই সব কান কথায় বিশ্বাস করে বিওএ নিজেদের যোগ্য ক্রীড়াবিদদের বাদ দিয়ে প্রবাসী ক্রীড়াবিদদের সুযোগ করে দেয়। বাকু গেমসের জন্য বিওএ আলীদা সিকদারকে দরজা খুলে দিয়েছিল। এই ভুল আর করবে না বলে বিওএর উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু জানিয়েছেন। আলীদা সিকদার প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে মিকু জীভকাটেন। এরপর বললেন, ‘ভাই আর না। আমরা আর কোনো প্রবাসী ক্রীড়াবিদকে বললেই আন্তর্জাতিক গেমসে পাঠিয়ে দেব না। আমাদের মহাসচিবের (সৈয়দ শাহেদ রেজা) সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনিও না করে দিয়েছেন। এভাবে আর কোনো ক্রীড়াবিদকে আমরা পাঠাবো না।’  তিনি বলেন, ‘আলিদাকে নির্বাচন করা ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার দেশের মেয়েটি বঞ্চিত হয়েছে।’

আলীদা সিকদার গেমসে গিয়ে হিটেও অংশগ্রহণ করেননি। কেন করেননি তাও বলতে পারছেন না কেউ। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু গতকাল বিকালে আলীদা সম্পর্কে জানিয়েছেন তার জেটল্যাক হয়েছিল। পেটের পীড়া হয়েছিল। আরো ভালো বলতে পারবেন দলের শেফ দ্যা মিশন।’

ঢাকা থেকে গেমস কাভার করতে যাওয়া একটি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে- আলীদা গেমসে গিয়ে নিজের রুম থেকেও বের হননি। একদিন অনুশীলনে গেলেও সেটা বাংলাদেশ দলের কাউকে জানাননি। এমনকি দলের সঙ্গে থাকা কোচ ফরিদ খান চৌধুরীকেও জানাননি। একটি টেলিভিশনকে ফরিদ খান জানিয়েছেন তিনি আলীদা সিকদারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেন খেলতে চান না সেটা বার বার জিজ্ঞেস করেছিলেন। দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন সুলতানাকে বাদ দিয়ে আলীদা সিকদারকে নেয়া হয়। ফরিদ খান টেলিভিশনে বলেন, ‘শিরিন বলেছিল একটা ট্রায়াল নিলে ভালো হতো। আমাকে ট্রায়ালে না নিয়ে বাদ দেয়া হয়েছে।’

আলীদা সিকদার গেমসের হিটেও অংশ না নেয়ায় বাংলাদেশকে জরিমানা দিতে হতো। একটা অসুস্থ সার্টিফিকেট জমা দেয়ার কারণে বাংলাদেশকে জরিমানা গুনতে না হলেও লজ্জায় পড়েছে, তা সহজেই বলা যায়।

হাত আলীদার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিওএর দরজা বন্ধ হয়ে গেল। তবে আগামীতে প্রবাসী ক্রীড়াবিদ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাইলে তার ট্রায়াল নেয়া হবে। তবে শুধু ট্রায়াল না নিয়ে জাতীয় পর্যায়সহ অন্যান্য ঘরোয়া খেলায় অংশগ্রহণ করার শর্ত জুড়ে দেয়া হতে পারে। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন