‘নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই ঈদের পর ডিএফএ অর্থ পাবে’
বাফুফের নির্বাচনের এখনও তিন বছর বাকি। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচরাণা শুরু হয়ে গেছে। জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল সভাপতিদের ডেকে এনে বৈঠক করা হয়েছে। হোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা, সঙ্গে অর্থ উপহার দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলার কর্মকর্তা জানান, কিছু একটা তো দেবেই। এটা নিয়ে আলোচনার কি আছে। মতবিনিয়ম সভা ডাকা হলেও মূলত আসল উদ্দেশ্য ছিল বাফুফের নির্বাচন।

মূল আকর্ষণ ছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। তিনি ফুটবলের পৃষ্ঠপোষক। আর যারা ক্রীড়াঙ্গনে বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ বছর ধরে সংগঠক হয়ে আছেন তাদের কণ্ঠে রুহুল আমিনের প্রসংশায় মুখে ফেনা উঠল। মঞ্চে বসে প্রশংসার বাণী শুনতে শুনতে মুচকি মুচকি হাসছিলেন রুহুল আমিন। প্রত্যেকের বক্তব্যে একটাই ইঙ্গিত রুহুল আমিন বাফুফেতে নির্বাচন করবেন। আর রুহুল আমিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই। নির্বাচন না করেও কাজ করা যায়। আমরা দুই লাখ টাকা করে জেলাগুলোকে দেবো। সেই সঙ্গে লিগ আয়োজনের জন্য মনিটরিং কমিটিও করে দেবো। লিগের ট্রফি ফুটবল আমরা দেবো।’ জেলা ফুটবলের প্রসার ও উন্নয়নের জন্য আহবান করা মত বিনিময় সভায় ৪৮ জন অংশগ্রহণ করেন। বলা হয়েছিল চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির থাকবেন। গতকাল দিনভর ঢাকায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আসেননি তিনি। একটি সূত্রের দাবি, নাসিরকে পাশ কাটিয়ে এই সভার আয়োজনটার সঙ্গে একমত নয় নাসির। জেলাগুলো নিয়ে যিনি বেশি সোচ্চার সেই সামছুল হক চৌধুরী এমপি আসেননি। বাফুফের অধীনে থাকা জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যে সভাপতিরা এসেছিলেন তাদের অনেকই একটু বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাফুফের কর্মকর্তারাও মতবিনিয়ম সভায় ছিলেন। প্রধান অতিথি বাফুফের সদস্য হারুনুর রশিদ, বাফুফের সহ সভাপতি বাদল রায় বক্তৃতা দেন। বাদল রায় বলেন,‘কিংবন্তি ফুটবলার আছেন সালাহউদ্দিন, সালাম, নাবিল বড় ব্যবসায়ী তারা থাকতে ফুটবল চলছে না। আপনারা  (জেলাগুলো) দাবি জানাতেই পারেন। যেখান থেকে খেলোয়াড় উঠে আসবে সেটা অবজ্ঞা করে ফুটবল পরিচালনার সুযোগ নেই।’ বাদল রায়ের বক্তব্য শুনে জামালপুরের রেদওয়ান আহমেদ মুখোশ খুলে দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কাড়িকাড়ি টাকা, বস্তাভরা টাকা, সেই টাকা ফুটবলে লাগান।’ তিনি বলেন, ‘বাদল দা অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে পার পাবেন না। ফুটবলের জন্য প্ল্যান করেন। বয়স ভিত্তিক খেলা শুরু করুন। ঢাকার ক্লাবগুলো মাঠ নেই তারা বি লিগ খেলে। আর জেলায় মাঠ আছে খেলা নাই।’ দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা একজন কর্মকর্তা বাদল রায়ের উদ্দেশে মন্তব্য করে বলেন, ‘উনি চোরকে চুরি করতে বলেন, আর গেরস্তকে সজাগ থাকতে বলেন।’

চট্টগ্রামের সিরাজউদ্দিন আলমগীর হোসেন বলেন,‘যেসব জেলায় সাধারণ সম্পাদক দক্ষ সেখানে ফুটবল খেলাটা ভালোভাবে হচ্ছে। বাফুফে একা সালাহউদ্দিনের ভাইয়ের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বাকি যারা আছেন তারা দায় এড়াতে পারেন না। তারাতো কমিটিতে বসে কি করছেন। উনারা কেন পদত্যাগ করছেন না।’

সব শেষে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘যেখানে ৫ টাকা দেয়ার লোক নেই। সেখানে চার বছরের জন্য উনার (রুহুল আমিন) মতো স্পন্সর পেয়ে আমি হারাতে পারি না। যদি উনি কাজ করেন উনার সঙ্গে আছি।’     

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন