রোম যখন পুড়ছিল...
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
রোম যখন পুড়ছিল...
ইকবাল খন্দকার

 

রোম যখন পুড়ছিল, তখন নিরো কী করছিল মনে আছে? জি, বাঁশি বাজাচ্ছিল। কাজটা সে কেন করছিল? কারণ, তখন মোবাইল ছিল না। যদি মোবাইল থাকত, তাহলে বাঁশি বাজানোর টাইম পেত না। কী করত? মোবাইলে গেম খেলত। আবার ভিডিও-টিডিও দেখতে পারত। এখন মোবাইলের আমল। এই আমলের নিরোরা কী করে, তা তো আপনারা টেরই পাচ্ছেন। দুনিয়া কেয়ামত হয়ে যাক, কিন্তু তারা মোবাইল দেখায় বিরতি দেবে না। দেখতেই থাকবে, দেখতেই থাকবে। যার অল্পতম একটা নজির পাওয়া গেছে ক’দিন আগে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের পিছনে আক্রমণকারী দাঁড়ানো, পাশেই দাঁড়ানো একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। কিন্তু তার যেন কোনোদিকেই কোনো খেয়াল নেই। সব খেয়াল মোবাইলের দিকে। কী মনোযোগ দিয়ে মোবাইল দেখছিলেন তারা। যেন ঐশ্বরিয়া কিংবা ক্যাটরিনা টাইপের কেউ একজন বা দুজন ইনবক্সে নক করেছিল তাদের। নিতান্তই ‘নক’-এর জবাব না দিয়ে পারা যাচ্ছিল না, তাই তারা দিচ্ছিল। পুলিশ জনগণের বন্ধু। এই জন্যই বোধহয় পুলিশের এই আচরণের প্রভাব আজকাল সারাদেশের লোকজনের মধ্যেই দেখা যায়। মোবাইল আছে অথচ এই মোবাইল নিয়ে কমবেশি সময় অপচয় করছেন না, এমন পাবলিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেন?

কেন সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে? এই অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে আমার এক ছোটভাই বলল, ‘মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকাটাই তো যুক্তিযুক্ত। টিঅ্যান্ডটি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকলে এটা কেমন দেখা যায় না! শত হলেও তো এটা ঠিক যে, টিঅ্যান্ডটি ফোনে মেসেজও পাঠানো যায় না, ফেসবুকও চালানো যায় না। আচ্ছা, টিঅ্যান্ডটি ফোনে কি কখনো ফেসবুক দেখার সিস্টেম চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে?’

আমি জবাব দিলাম না।

সঙ্গেই ছিল তার এক বন্ধু। সে বলল, ‘মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকার বিশেষ একটা কারণ আছে। এতে আঙুলের ব্যায়াম হয়। যদি আমরা এই আঙুলের ব্যায়ামটা না করি, তাহলে আমাদের আঙুলগুলো স্লিম থাকবে না। মোটা হয়ে যাবে। আর আঙুল যদি মোটা হয়ে যায়, তাহলে বিয়ের খরচ বেশি পড়ে যাবে। মোটা আঙুলের জন্য বড় সাইজের বিয়ের আংটি বানাতে বেশি স্বর্ণ খরচ হবে কি না!’

 

আমার এক প্রতিবেশী বলল, ‘আমার ছেলেমেয়েরা মোবাইলের প্রতি সাংঘাতিকরকম আসক্ত। আর এই জন্যই প্রায়ই আমাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তির কারণে মাঝেমধ্যে অফিসে যেতে পর্যন্ত দেরি হয়ে যায়।’

আমি প্রতিবেশীর কথার মর্মার্থ বুঝতে না পেরে তাকে বললাম বুঝিয়ে বলার জন্য।

সে বুঝিয়ে বলল, ‘আসলে হয়েছে কী, আগে চশমা ব্যবহার করতাম আমি আর আমার বউ। এখন বেশি বেশি মোবাইল দেখার কারণে আমার সব বাচ্চাকাচ্চার চোখেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদের সবার জন্য চশমা কেনা হয়েছে। এখন বাসায় এত বেশি চশমা যে, কার চশমা যে কোনটা, এটা নিয়ে লেগে যায় ঝামেলা। ফলে প্রতিদিনই একটা কেওয়াজ লাগে। বড় যন্ত্রণায় আছি গো!’

 

আমার এক বড়ভাই বললেন, ‘সারাদিন মাথা নিচু করে মোবাইল দেখার কারণে এই প্রজন্মকে কেউ কেউ বিনয়ী প্রজন্ম বলছে। তবে আমি চিন্তা করছি অন্যভাবে। সারাদিন মাথা নিচু করে মোবাইল দেখতে থাকার কারণে যদি রগ বাঁকা হয়ে যায়! তাহলে তো এই প্রজন্মকে বলা হবে ‘ঘাড়ত্যাঁড়া প্রজন্ম’!’

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন