যক্ষ্মা রক্ষায় মাসুদ রানা
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
যক্ষ্মা রক্ষায় মাসুদ রানা

বিশ্বজিত্ দাস

খুক খুক করে কাশলেন মন্ত্রী।                                           এসি চলছে তবু তার টাক মাথায় ঘাম জমেছে। টিস্যু পেপার দিয়ে ঘাম মুছলেন তিনি।

‘কিছু বুঝলে খান?’ ফ্যাঁসফেঁসে গলায় জানতে চাইলেন মন্ত্রী।

তার সামনে বসা বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বা বিসিআই চিফ মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারলেন না মন্ত্রী ঠিক কী জানতে চাইছেন।

খুক খুক করে আবার কাশলেন মন্ত্রী।

‘কাশিটা ভালো মনে হচ্ছে না।’ বললেন রাহাত খান।

‘যক্ষ্মা।’ বিড়বিড় করে বললেন মন্ত্রী।

‘যক্ষ্মা! তোমার যক্ষ্মা হয়েছে। কই পেপারে তো আসেনি?’

‘যক্ষ্মা আমার হয়নি বন্ধু। হয়েছে আমার মন্ত্রণালয়ের।’

‘মানে?’

‘দাতা সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমার মিনিস্ট্রিকে বেশকিছু অর্থ ডোনেট করেছিল। গ্লোবাল মনে করে একটি চক্র সেই টাকা মেরে দিয়েছে। আর চোর অপবাদ পেয়েছি আমরা।’

‘তো তুমি সেই চক্রকে ধরছ না কেন?’

‘চিনলে না ধরব। সেজন্যই তো তোমাকে ডেকে এনেছি। যেভাবে পার এই যক্ষ্মার হাত থেকে আমাকে রক্ষা কর প্লিজ।’

 

দুই.

খুক খুক করে কাশল শ্রীমান মাসুদ রানা।

বুড়ো রাহাত খানের সামনে বসে আছে সে। নতুন অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার ভয়ে সিঁটকে আছে ভিতরে ভিতরে। পরশু থেকে মালয়েশিয়া ট্যুরের প্ল্যান করে রেখেছে সে আর সোহানা। দুজনেই ঠিক করেছে অফিস থেকে ছুটি নেবে না। তাহলে অফিসে কানাঘুষাও হবে না।

বুড়ো ডেকেছে শোনার পর থেকেই ভয়ে সিঁটকে আছে রানা। এই বুঝি সমস্ত ট্যুর প্ল্যান ভেস্তে গেল ওদের।

আবার খুক খুক করে কাশল রানা। ‘যা বলার তাড়াতাড়ি বল রে বাবা,’ মনে মনে বলল রানা।

‘অত কাশছ কেন? যক্ষ্মা-টক্ষ্মা হয়নি তো?’

আঁতকে উঠল রানা।

তোতলাতে তোতলাতে বলল, ‘না, না স্যার। আমি ঠিক আছি।’

‘অবশ্যই তোমার যক্ষ্মা হয়েছে। তুমি আজই যাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে। এই নাও ফাইল। এতে সব লেখা আছে।’

‘আ...মা...র যক্ষ্মা রিপোর্ট এ...খা...নে!’

‘তোমার যক্ষ্মার রিপোর্ট এটা।’

‘ত...তবে?’

‘যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে গ্লোবাল ফান্ড নামক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিছু টাকা দান করেছিল। সেই টাকা কারা যেন মেরে দিয়েছে। তুমি ওই প্রতিষ্ঠানে যক্ষ্মা রোগী সেজে যাবে এবং খুঁজে বের করবে কে এই অর্থ আত্মসাতকারী। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে রক্ষা করতে হবে তোমার, বুঝেছ?’

জবাবে খুক খুক করে কাশল রানা।

 

তিন.

খুক খুক কাশল গিলটি মিয়া।

ও এখন দাঁড়িয়ে আছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বহিরাগত রোগী দেখার কামরায়। মাসুদ রানা স্যার কোথায় যেন বেড়াতে গেছেন। যাওয়ার আগে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের জন্য একটা কাজ দিয়ে গেছেন। সেই কাজেই এসেছে গিলটি মিয়া।

‘ডিডিমণি?’

‘কী বলছেন?’ মাথা নিচু করে লিখতে লিখতে বলল তরুণী ডাক্তার।

খুক খুক করে কাশল গিলটি মিয়া।

‘যক্কা টেস্ট করাতে চাই।’

‘দেখছেন না আমি ব্যস্ত। আপনি বসেন।’

‘ডিডিমণি, আপনি একডু যদি চেক করতেন?’

জবাবে মেয়েটি চোখ তুলে তাকাল।

সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প হলো গিলটি মিয়ার হূদয়ে।

 

চার.

কুয়ালামপুর।

কাশতে কাশতে বিছানায় উঠে বসল মাসুদ রানা। সোহানা পাশে ঘুমাচ্ছে। ঘড়ি দেখল সে। রাত তিনটা। এতরাতে ঘুম কেন ভাঙল!

মোবাইল টিং করে শব্দ করে বুঝিয়ে দিল ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ এসেছে।

বুড়ো মেসেজ পাঠিয়েছে। অনেকগুলো কাশির ইমো।

কাশির ইমো!

বুড়ো পেল কই!!

কী মনে হতে গিলটি মিয়াকে ফোন করল রানা। একবার দু’বার নয়। দশ বারের বার ফোন ধরল গিলটি মিয়া।

‘গিলটি মিয়া, তোমাকে যে একটা তদন্তের কাজ দিলাম, সেটার কাজ কতদূর?’

‘ছার, তদন্তে এসে আমি নিজেই কাবু হইয়া পড়ছি।’

‘কী হয়েছে?’

‘ছার, খাইলে ক্ষিদা লাগে না, ঘুমাইলে চোক্কে দেখি না, সবসময় বুকডা ধরপর ধরপর করে। সারাক্ষণ শুধু কাশি আর কাশি।’

‘তুমি এখন কোথায়?’

‘আমি ছার যক্কা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে আচি। মনে হয় আমার যক্কা হইচে। এইখানে যে ডিডিমণি আচে সে আমাকে খুব ভালোমতোই দেখাশোনা করে। তাই আমি ডিডিমণির নিজেস্ব যক্কা ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে আচি। যক্কা আমাকেও রক্কা দেয়নি কো ছার। আপনি যেই যক্কা রোগে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্চেন, আমিও এই বয়সে সেই যক্কা রোগে পড়েচি ছার। বুঝচেন?’

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন