সময়টা কাজে লাগুক
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
সময়টা কাজে লাগুক
জীবনের জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঠিক ব্যবহার না জানলে নানাবিধ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে মানসিক বা শারীরিক সমস্যা। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারি না। তারুণ্যের ভালোলাগার অশেষ প্রহরে যে ঢেউ ভাঙে, সেখানে শৃঙ্খলাই আগামীর স্বপ্ন পূরণে সংযোজন করতে পারে নতুন অধ্যায়। ইচ্ছে আর নিয়মের মেলবন্ধনের মাঝে তারুণ্যের অধ্যয়ন, স্ফূর্তি আর মননের কথা নিয়ে লিখেছেন

রিয়াদ খন্দকার

 

আগামীর স্বপ্ন আর ভালোলাগার ছবি যে তারুণ্যকে কেন্দ্র করে রচিত হয়, তারা সময়কে কে কেমন করে উপলব্ধি করেন—জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মারুফ বলেন, ‘সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। আমরা বেশিরভাগ তরুণই ইলেভেনথ আওয়ারে গিয়ে কাজ করি। মাঝে মাঝে পারি, মাঝে মাঝে পারি না। তখন হতাশা আসে। তাই সময়কে যথাযথ ব্যবহার করা উচিত।’ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তামান্না বলেন, ‘আসলে তারুণ্য এমন একটা সময়, যেখানে সময়কে পারফেক্টলি ব্যবহার করা কখনোই হয় না। কেন হয় না, তার ব্যাখ্যা হয়তো মিলবে, কিন্তু তারপরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাওন জাহিদুর রহমান বলেন, ‘কালক্ষেপণ কেউ জেনেশুনে করতে চায় না, তারপরও হয়ে যায়। আমরা তো চেষ্টা করি নিজের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে গড়তে। সেখানে হয়তো অনেক সময়ই নিজের অজান্তে সময়কে ব্যবহার করতে পারি না।’

পড়াশোনা আর ভাবনা-চিন্তায় মাঝেই মাঝেই তালগোল পাকিয়ে যায়। স্বপ্ন আর দ্রোহের মাঝে তারুণ্যের মানসপটের ছবি সময়ের আহ্বানেই কখনো হয় অহেতুক আবেগী আবার কখনো বা শক্ত পায়ে দাঁড়াতে শেখায় বাতাসের বিপরীতে। শৈশব থেকে আজন্ম লালিত স্বপ্ন, তারুণ্যের প্রহরে এসে যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তা শুধু সময়কে সদ্ব্যবহার না করার জন্যই। জীবনে অধ্যয়ন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি মানসিক পরিতৃপ্তি। কৈশোরের রঙিন স্বপ্নময় জীবন ডিঙিয়ে তারুণ্যের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সময়ে এসে পড়াশোনায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য যেমন প্রয়োজন অধ্যবসায়, তেমনি প্রতিনিয়ত আগামীর জন্য নিজেকে তৈরি করাও আবশ্যক। কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পরিমণ্ডলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে জানতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, সেমিনার কিংবা লাইব্রেরি ওয়ার্ক যেমন একাডেমিক সাফল্য এনে দিতে পারে, তেমনি আসতে পারে একঘেয়েমি। তাতে ঘটতে পারে ছন্দপতন। আক্ষরিক অর্থেই অধ্যয়ন আর অধ্যবসায়ই শিক্ষাজীবনের সাফল্যের মূল চাবি। কিন্তু অধ্যয়নের মাঝেও মনকে প্রফুল্ল রাখার জন্য দরকার বন্ধুদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল আড্ডা। মাঝে মাঝেই বন্ধুদের সঙ্গে এই করমর্দন পড়াশোনায় এনে দিতে পারে নতুন সঞ্জীবনী শক্তি। অহেতুক আড্ডা নয়; পরিশীলিত প্রাণোচ্ছ্বল আড্ডা নতুন ভাবনা খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তারুণ্যের প্রহরজুড়ে অহেতুক আবেগের যে কাব্য রচিত হয়, তার নাম প্রেম। ব্যাখ্যাতীত ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও তারুণ্যেই প্রাপ্ত বয়সের মার্জিত রুচির বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। সেখানেও সময়ের নির্দিষ্টতা আবশ্যক, তা যে কেউই স্বীকার করবে। কখনো অশ্রু আবার কখনোবা হাসি, অহেতুক আবেগের ভালোবাসায় অনেক তরুণপ্রাণই হয়েছে বিপর্যস্ত। নিজেকে তৈরি করে নিয়ে সময়ের প্রয়োজন মিটিয়ে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে সাঁকো রচনা করতে পারলেই তারুণ্য হয় আরও হাস্যোজ্জ্বল। অন্যদিকে সেমিনার বা লাইব্রেরি ওয়ার্ক বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার মাঝেও থাকে আগামীর সম্ভাবনা। ক্লাস শেষে নির্দিষ্ট সময়ে সেমিনার আবার তারপর লাইব্রেরি ওয়ার্ক এবং পরবর্তীতে নিজস্ব অধ্যয়ন সবকিছুর সম্মিলিত যোগসূত্রই এনে দিতে পারে সাফল্য নামের শব্দটি। ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রেও তরুণ বয়সে নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। শুধু নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝে পড়াশোনাই নয়; সংস্কৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বও জরুরি। নাটক পাড়া, গান আর কবিতার আসরে তারুণ্যের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে জীবনে আসে নতুন বোধ। নাটকের সংলাপে সংলাপে জীবনের যে ভাবনা আসে, খুলে যায় যে মনের জানালা, সেই জানালায় আনন্দ-জোছনায় অবগাহন করতে পারাটা তারুণ্যের জীবন অধ্যায়ের নতুন উপলব্ধি। রাতজাগা গান আর বেদনাবিধুর ভালোবাসার মাঝেও নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ করাটা তারুণ্যের ব্যস্ত পঞ্জিকাতেও থাকা বাঞ্ছনীয়। শেষ সময়ে কাজ করে ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করার প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। আমাদের তারুণ্যে যে হতাশা আজ বাসা বেঁধেছে, তার মূলে রয়েছে সময়ের সদ্ব্যবহার না করাটা। পড়াশোনা, সংস্কৃতি আর আড্ডা যাই হোক না কেন, সময়ের কাজটা সময়মতো করা জরুরি। তা না হলে জীবনে আসবে অহেতুক ব্যথার শ্রাবণ। নাগরিক আটপৌঢ়ে জীবনে তারুণ্যের সময় যেমন অতিবাহিত হয় শহুরে ব্যস্ততায়, তেমনি মফস্বলের স্নিগ্ধতায় সারল্যময় জীবনে গ্রাম্য তরুণের সময় কেটে যায় সকাল থেকে সন্ধ্যার আবর্তনে। শহর কিংবা গ্রাম যে প্রেক্ষিতই হোক না কেন, সময়মতো সময়ের কাজ করাটা যে কারো জন্যই আবশ্যক। তা না হলে সৃষ্টি হয় মাত্রাতিরিক্ত সংঘাত আর বিপর্যয়। সৃষ্টিশীল তারুণ্য পতিত ফলের থেঁতলে যাওয়া বীজেও তৈরি করে স্বপ্নের সৃজনচেতনার মহীরূহ।

 

এ বা র  ক য়ে ক টি  টি প স

l প্রথমে সময়ের গুরুত্ব বুঝতে হবে, তবেই আপনি সঠিকভাবে সময়ের ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি কাজকেই প্রয়োজনীয় মনে করবেন। কাজ ফেলে রাখবেন না। কারণ দিনের শেষে গিয়ে হয়তো দেখবেন এই একটি কাজের জন্যই আপনাকে রাত জাগতে হচ্ছে আর ঠিকমতো টাইম ম্যানেজ না করতে পারার খেসারত দিতে হচ্ছে।
l কী কী কাজ আছে তার একটি তালিকা বানিয়ে ফেলুন, তারপর গুরুত্ব অনুযায়ী কাজগুলো সাজিয়ে নিন। কোন কাজে কতটা সময় লাগতে পারে তা ভেবে নিন। সব থেকে ভালো হয় যদি পুরো মাসের একটা অগ্রিম তালিকা বানিয়ে ফেলতে পারেন। অন্তত যে কাজগুলোর জন্য আপনাকে কারো ওপর নির্ভর করতে হবে না সেসব কাজ নির্দিষ্ট করে নিন। প্রথমে মনে হতে পারে, এত কাজের লিস্ট বানানো সম্ভব নয়। আসলে সবটাই অভ্যাসের ব্যাপার। প্রথম দিকে অসুবিধা হলেও পরে দেখবেন এই অভ্যাসই আপনাকে সময়মতো কাজ করতে সাহায্য করবে।
l একসঙ্গে বেশি কাজ করার চেষ্টা করবেন না। হাতের কাজ শেষ না করে অন্যটি শুরু করবেন না। তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ শেষ করতে যাবেন না। এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
l কাজের ফাঁকে ব্রেক নেওয়াটাও সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্টের একটা অঙ্গ। একটানা কাজ করলে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। খানিকটা বিরতি আপনাকে আবার উদ্দীপ্ত হতে সাহায্য করবে। নতুনভাবে কাজ শুরু করতে উত্সাহ পাবেন। তবে ইচ্ছামতো বিরতি নিলে কিন্তু চলবে না। আগে থেকে ঠিক করে নিন কতক্ষণ বিরতি নেবেন, ৫, ১০ কি ১৫ মিনিট এবং সেই মতো নিজের রুটিন সাজান।
l অনেক সময় সব কাজ নিজে করতে গিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ে যাই। সুতরাং যেসব কাজ অতটা জরুরি নয়, সেগুলো শেষ করার দায়িত্ব অন্য কাউকে দিয়ে দিন। অফিসে সহকর্মী বা জুনিয়রদের সাহায্য নিন। একইভাবে বাড়ির কাজ অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। এভাবে সব কাজ শেষও হয়ে যাবে এবং আপনার ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না।
l মনে রাখবেন কাজ আপনাকে করতেই হবে। এ থেকে পালানোর কোনো উপায় না। আর চেষ্টা করলে আপনারই ক্ষতি। তাই যত দ্রুত কাজ সময়মতো করার চেষ্টা করবেন, তত দ্রুত ফল পাবেন।
l কাজকে বোঝা মনে করা বাদ দিন। প্রতিটি কাজকে নিজের মনে করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি কাজই আপনার জীবনের অংশ। এ কাজগুলো না করলে আপনার সময় বাঁচবে না। বরং আপনার ক্ষতি হবে।
এভাবেই সময় আর কাজকে একত্রে মিলিয়ে সুন্দর একটি টাইম টেবিল তৈরি করে ফেলুন। দেখবেন আপনার সকল কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে। আপনি আপনার সফলতার মাপকাঠি পূর্ণ করতে পারছেন। আর সেইসঙ্গে আপনার শরীর বা মনের ওপর চাপও কম পড়ছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন