পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য তিন তরুণের উদ্ভাবন
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য তিন তরুণের উদ্ভাবন
ছাইফুল ইসলাম মাছুম

পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য হোম অটোমেশন ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ। হোম অটোমেশন ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে প্রবীণ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী কিংবা স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম মানুষদের কথা মাথায় রেখে। এই যন্ত্রটির সাহায্যে যেকোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এর মাধ্যমে চোখের পলকের সাহায্যে একজন রোগী খুব সহজেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এমনকি জরুরি সেবার জন্য সেবকের সাহায্যও চাইতে পারবেন। প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অমিতাভ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তিন শিক্ষার্থী রানা কায়সার বিভু, দ্বীপ বোস, তানভীর মাহমুদ শোভন হোম অটোমেশন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন  স্নাতকোত্তর থিসিসের অংশ হিসেবে এ প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছেন। প্রজেক্টির নাম ‘হোম অটোমেশন উইথ আই ব্লিঙ্ক ফর প্যারালাইসিস পেশেন্ট’।

এই প্রজেক্টের শুরুর গল্প জানতে চাইলে প্রজেক্টের টিম লিডার রানা কায়সার বিভু বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণার মাধ্যমে আজকের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা হোম অটোমেশনের সাহায্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবন আরও আরামদায়ক ও সহজ করতে পারি। মূলত মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং ডিজিটাল যন্ত্রের উপর আমাদের গবেষণা থেকে বুঝতে পারি এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে হোম অটোমেশনের সাহায্যে আমরা সাধারণ জীবনযাপনের বাইরেও প্যারালাইসিস রোগীদের জন্য জীবনযাপন সহজতর করার ব্যবস্থা করতে পারি। এতে তাদের মানবেতর জীবনযাপন কিছুটা সহজ হবে, যা আমাদের এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করায় উত্সাহিত করেছে।’

হোম অটোমেশন ডিভাইসটি তৈরি করতে উদ্যোক্তাদের খরচ পড়েছে সব মিলিয়ে তিন হাজার টাকা। পরবর্তী সংস্করণে ডিভাইসটির তৈরি মূল্য আরও কম হবে বলে জানান তারা।

প্রজেক্টের সুপার ভাইজার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘জীবনমান উন্নয়ন ও পক্ষাঘাত মানুষের সহযোগিতায় এটি একটি সময়োপযোগী গবেষণা। এটি সহযোগিতার পাশাপাশি সময় বাঁচাবে এবং বিদ্যুত্ অপচয় রোধ করতে সহায়তা করবে। আমাদের দেশে হোম অটোমেশন নিয়ে প্রচুর কাজ হলেও প্রতিবন্ধী কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য এই ধরনের কাজ এটাই প্রথম। এই সেক্টরে আরও প্রচুর কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’

তিন সদস্যের এই তরুণদল ভবিষ্যতে হুইল চেয়ার নিয়ন্ত্রণ, বার্তা কম্পোজ করে এসএমএস পাঠানো ছাড়াও রোগীর শাররিক বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে ডাক্তারকে ইমেইল করার মতো কাজগুলো নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন