বিআইডিএসের সেমিনার
প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রভাব নিয়ে গবেষণার তাগিদ
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
কোন প্রকল্প গ্রহণের আগে জাতীয় অগ্রগতিতে কোন ধরনের প্রকল্প কী পরিমান অবদান রাখবে, সেসব বিষয় গবেষণা করা অপরিহার্য উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের জন্য আতংকজনক নয়। ২০৩০ সাল হবে ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ এবং আমাদের অর্থনীতি হবে জ্ঞানভিত্তিক। গতকাল ঢাকায় একটি হোটেলে প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন গতিশীলতা বিষয়ক বিআইডিএস আয়োজিত সেমিনারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিআইডিএসের ২০১৬ সালের কয়েকটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। গতকাল ৪টি সেশনে শ্রম বাজার ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাতভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি, সোলার হোম সিস্টেম ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর গবেষণা উপস্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার ৭টি বিষয়ের ওপর আলোচনা হবে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। 

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এসডিজি অর্জনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। নতুবা সুফল প্রাপ্তিতে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়বে। অন্যদিকে মেগা প্রজেক্ট হাতে নেয়ার পূর্বে পরিবেশগত দিকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ‘খাতভিত্তিক দক্ষতা ঘাটতি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসে মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদ। ‘পেট্রোলিয়াম আমদানি: বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক গবেষণাপত্রের উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। সঞ্চালনা করেন বুয়েটের পেট্রোলিয়াম এবং মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম। মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হযেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। সে হিসেবে বছরে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করছে বিপিসি। বলা হচ্ছে, পুঞ্জিভূত লোকসান পুষিয়ে নিতে তেলের দাম কমানো হচ্ছে না। অন্যদিকে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফার্নেস ওয়েল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে তেল কিনছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী বেশি দামে সরকারের কাছে বিদ্যুত্ বিক্রি করছে। এর সুফল জনগণ সরকার উভয়ের কেউ পাচ্ছে না। শুধু মুনাফা পাচ্ছে বিদ্যুত্ উত্পানদকারী কোম্পানিগুলো। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, বিপিসিতে স্বচ্ছতা নেই। দাতাসংস্থা আইএফসি বাজেট সহায়তার শর্ত হিসেবে বিপিসিকে অডিট করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারের তেলের দর নির্ধারণ করা উচিত।

দশ বছরে শ্রমশক্তির আকার বাড়বে ৭৮ শতাংশ:

এদিকে শ্রমশক্তি নিয়ে বিআইডিএসের করা আলাদা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী দশ বছরে দেশে শ্রমশক্তির আকার বাড়বে ৭৮ শতাংশ। বিআইডিএস বলছে, দেশে এখন শ্রমশক্তির সংখ্যা (১৫ বছরের ঊর্ধ্বে) ছয় কোটি ৪৮ লাখ। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ এটি বেড়ে আট কোটি ২৯ লাখে উন্নীত হবে। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম শ্রমবাজার ও দক্ষতার ঘাটতির শিরোনামে গবেষণাটি করেন। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, দেশে আগামী দশ বছরে শ্রমশক্তির আকার বাড়লেও সে হারে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা যাচ্ছে না। ফলে দেশে ও দেশের বাইরে তারা ভালো চাকুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিআইডিএস বলছে, আইটিতে যথেষ্ট দক্ষ জনবলের অভাব আছে। এছাড়া জাহাজ ভাঙ্গা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, নির্মাণ শিল্পতেও দক্ষ শ্রমিকের অভাব আছে। এসব খাতে প্রশিক্ষণ বাড়াতে সরকারের প্রতি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন