রূপালী ব্যাংকের এমডি
আগে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গোপন করা হয়েছিল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাতের রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। কারণ আগে অনেক খেলাপি ঋণকে নিয়মিত দেখানো হয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি রেখেও আয় দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা হিসাবায়ন করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের প্রকৃতচিত্র যেমন লুকানো হয়েছে, তেমনি মুনাফা থেকে কর দিয়ে আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এবার সবগুলো শাখা থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তা তুলে ধরায় সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ ধরনের অনিয়ম আর হবে না। অনিয়মর ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।

গতকাল বুধবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্যাংকের আগের এমডি এম ফরিদউদ্দিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৮ আগস্টে আতাউর রহমানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। গতকাল তার মেয়াদের ১০০ দিন অতিক্রম উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ব্যাংকের ডিএমডি দেবাশীষ চক্রবর্তী, জিএম কায়সুল হক ও বিষ্ণুপদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি এটা সত্য। তবে এ ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেশি হলেও দেশের শিল্প গড়ে উঠেছে সরকারী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই। তবে খেলাপি ঋণের হার সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি থাকা উচিত নয়। রূপালী ব্যাংকের এমডি আরও বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং বা কোর ব্যাংকিং সল্যুশন (সিবিএস) চালু করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। নভেম্বর পর্যন্ত ৫৬১টি শাখার মধ্যে ৩৭৪টি সিবিএসের আওতায় এনেছি। আগামী মার্চের মধ্যে সবগুলো শাখা এর আওতায় চলে আসবে। সবগুলো শাখা অনলাইনে আসার পর জালিয়াতি অনেক কমে আসবে। এতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কমে যাবে। তিনি বলেন, ফেনীর এক ব্যবসায়ীকে ১৫৩ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৭৮ কোটি টাকা বৈধভাবে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৫ কোটি টাকা ঋণ শাখার ব্যবস্থাপনা দিয়েছে অনিয়ম করে। এতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংকের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ঋণ ছড়িয়ে দেওয়া। কেন্দ্রীভূত ঋণ কমিয়ে ঋণের বিকেন্দ্রীকরণ করা।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৯ কোটি টাকা; যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। গত জুনে যা ছিল ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা; যা ঋণের ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন