নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের দ্বন্দ্ব বাড়ছে
আল জাজিরা ও বিবিসি২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের পরস্পর বিরোধী বাক্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব বাড়ার আভাস পাওয়া গেছে। সমপ্রতি নেতানিয়াহু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কিন্তু তার এই অভিমত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

এরকম টানাপোড়েনের মধ্যেই রিপাবলিকান নেতাদের আমন্ত্রণে আগামী মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুকে ভাষণ দেয়ার জন্য রিপাবলিকান নেতাদের এই আমন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ করেছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের অবনতির জন্য রিপাবলিকানদের ভূমিকার বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইসও নেতানিয়াহুর সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে অবনতির দিকে নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।

রাইসের এ মন্তব্যের পরপরই নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা এটা মেনে নিয়েছে যে, ইরান কয়েক বছরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্মান করি। কিন্তু এ ধরনের অবশ্যম্ভাবী ব্যাপারে ইসরাইলের প্রতি বৃহত্ হুমকি প্রতিরোধে আমি সবকিছুই করব।’ অপরদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় যুক্ত থাকা জন কেরি বলেছেন, নেতানিয়াহু সম্ভবত ভুল অবস্থানে রয়েছেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক শুনানিতে কেরি বলেন, ‘তার একটি মতামত থাকতে পারে, তবে এখানে তা ঠিক বলে মনে হচ্ছে না।’ এর পাশাপাশি মঙ্গলবার কংগ্রেসে নেতানিয়াহু কী বলেন তা শোনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন কেরি। কেরি বলেন, ‘জর্জ বুশের আমলে ইরাক দখল করার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে সামনে থেকে প্ররোচণা চালিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। সেই সিদ্ধান্তের ফল কী হয়েছে আমরা সবাই জানি।

এছাড়া, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন আর্নেস্ট, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে দলীয় রাজনীতির বিষয়ে পরিণত না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন, এটি ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে রিপাবলিকান ও লিকুদ পার্টিও সম্পর্কে পরিণত হতে দেয়া যায় না।’ উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুকে কংগ্রেসে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে প্রথা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামা বা কংগ্রেসে ডেমক্রেট দলীয় সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি রিপাবলিকানরা। অপরদিকে, ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন কাছাকাছি- এই যুক্তিতে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ওবামা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন