রাজধানী | The Daily Ittefaq

রাজধানীর উন্নয়ন নিয়ে নাগরিক অসন্তোষ

রাজধানীর উন্নয়ন নিয়ে নাগরিক অসন্তোষ
আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদন
আলাউদ্দিন চৌধুরী১৫ জুলাই, ২০১৮ ইং ০৪:২৬ মিঃ
রাজধানীর উন্নয়ন নিয়ে নাগরিক অসন্তোষ
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন রাস্তা ও নর্দমা উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা কমছে না, বরং বেড়েছে। ফুটপাতগুলোর উন্নয়নের ফলে হাঁটার রাস্তা বাড়লেও সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয় বলে মনে করেন বেশিরভাগ নাগরিক। নর্দমা তৈরির পরেও বেড়েছে মশার উপদ্রব। নিম্নমানের কাজ আর সমন্বয়হীনতার কারণে বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অংশে উন্নয়নের কাজ সারাবছর ধরেই চলে। 
২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে অবিভক্ত সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রভাব নিয়ে করা এক জরিপে ৮৮ ভাগ নাগরিক জানিয়েছেন, নর্দমা নির্মাণের পরও প্রকল্পভুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না তারা। ৭৯ ভাগ বলেছেন, বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং কমপক্ষে দুই-তিন ঘণ্টা এবং কোনো কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ চারদিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। 
 
৭২ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, নর্দমা নির্মাণের পর জলাবদ্ধতার পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। মাত্র ১০ ভাগ জানিয়েছেন, তাদের অঞ্চলে জলাবদ্ধতা আগের চেয়ে কমেছে। বেশিরভাগ (৬১%) উত্তরদাতার মতে, রাজধানীতে শব্দ দূষণের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে ধূলাবালির পরিমাণও (৫৪%)। শুধু তাই নয়, ৩৫ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তাদের এলাকায় রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে।
 
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই সমীক্ষা করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন  বিভাগ (আইএমইডি)। একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। সেইসাথে নিম্নমানের কাজেরও অভিযোগ করা হয়েছে। 
 
এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১১ সালের জুলাই হতে ২০১৪ সালের জুলাই মেয়াদে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও নর্দমা সংস্কার ও নির্মাণের কাজ করে। যানজট নিরসন, পথচারী চলাচলের অসুবিধা ও জলাবদ্ধতা দূর করা ছাড়াও পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো।  
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নর্দমা নির্মাণের পরেও পরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি। বরং মশার উপদ্রব বাড়ছে। রাস্তা, নর্দমা, ফুটপাতের উন্নয়নের ফলে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে সুবিধা হলেও তা ব্যাপকভাবে এলাকার পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২৭৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৬ কিলোমিটার বিটুমিনের রাস্তা, প্রায় ১০৮ কিলোমিটার কংক্রিটের রাস্তা, ৪৬ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৭৬ কিলোমিটার নর্দমার কাজ করা হয়েছে। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টি ওয়ার্ডে দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপটি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি ওয়ার্ডে ৪০জন করে ১৩শ’ জনের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে।
 
সমীক্ষার প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে উত্তরদাতারা নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার না করা (২৮%), নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা (২৭%), অপর্যাপ্ত নর্দমা (২২%), পুকুর, নদী-নালা ভরাট (৯%), ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকা (৭%), নর্দমার ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনসহ (৪%) আরও নানা কারণের কথা জানিয়েছেন। ৮৫ ভাগ জানিয়েছেন, নর্দমা তৈরির পরেও তাদের এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। 
 
সমীক্ষায় অধিকাংশ (৭০%) উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, ফুটপাত নির্মাণের ফলে তা দিয়ে মানুষের হাঁটা-চলার পরিমাণ বেড়েছে। দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মতে অধিকাংশ লোকাল রাস্তায় কোনো ফুটপাত নেই এবং যেগুলো আছে সেগুলোও চলাচল উপযোগী নয়। ফুটপাতের অধিকাংশই প্রভাবশালীদের দখলে। এছাড়া ফুটপাতগুলোতে ভাসমান দোকানদার, ভাঙা স্লাব, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ময়লার স্তূপ, ফুটপাত দখল এবং ফুটপাতে নির্মাণাধীন কাজের সরঞ্জাম রাখা হয় বলে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
 
ইত্তেফাক/কেআই 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬