রাজধানী | The Daily Ittefaq

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র :মার্কিন উপ-সহকারী মন্ত্রী

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র :মার্কিন উপ-সহকারী মন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০১:২৫ মিঃ
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র :মার্কিন উপ-সহকারী মন্ত্রী
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মুখ্য উপ সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস বলেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র, কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে নয়। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। যার মাধ্যমে এদেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের আটক ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  উপ সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস শুরুতে বলেন, বিভিন্ন কারণেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অতুলনীয়। তবে ভবিষ্যত্ সফলতার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা জরুরি। আমরা বাংলাদেশকে বাক্ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে আসছি। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, একটি সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ড. কামাল হোসেন ও তাদের নতুন জোটকে সমর্থন দিচ্ছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে অ্যালিস ওয়েলস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো দল, জোট বা ব্যক্তিকে সমর্থন দিচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমর্থন করি। একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া জরুরি।
 
তিনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের পাশে আছে এবং থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চায়। তাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতেও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, এই সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি। রাখাইনে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সচেতন। এ ব্যাপারে আগামীতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
 
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও উদ্বেগ রয়েছে। গণতন্ত্র চর্চার প্রধান শর্ত হচ্ছে মত প্রকাশের অধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা। সদ্য প্রণীত আইনটি মত প্রকাশ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সরকারের সংলাপ অব্যাহত রাখবে এবং আইনটিকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে উদ্যোগ আসবে।
 
আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের আটকের বিষয়ে বলেন, বিশ্ব জুড়েই তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, শহীদুল আলমের বিষয়ে যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে সেখানে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক পরিকল্পনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যালিস ওয়েলস বলেন, এটি এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাপরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় বিপুল বিনিয়োগ হবে ভবিষ্যতে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১