আদালত | The Daily Ittefaq

‘নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় খালেদা ও তারেকের বিচার পাওয়া সম্ভব নয়’

‘নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় খালেদা ও তারেকের বিচার পাওয়া সম্ভব নয়’
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৯:০৩ মিঃ
‘নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় খালেদা ও তারেকের বিচার পাওয়া সম্ভব নয়’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা। ছবি: ইত্তেফাক
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে বিভিন্ন দলের নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলেছেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা বর্তমানে সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত বিচারকরা সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একটি মামলায় খালাস দানকারী বিচারকের দেশত্যাগ এবং তাদের পেছনে পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) লেলিয়ে দেয়ার ঘটনায় এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরকম নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ কারোরই ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
 
রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
 
সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও গায়েবি মামলার যোগসূত্র রয়েছে। আমার ৬৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন শুনিনি-ঘটনা ছাড়া মামলা হতে পারে। কী অদ্ভুত! বিষয়টিকে হাল্কাভাবে দেখার অবকাশ নেই। এর পেছনে গভীর দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে। ৫ জানুয়ারির মতো আবারও একাই নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে এসব গায়েবি মামলা। তবে সরকারের এই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হবে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে দেয়া হবে না। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনগণ এবার পরিবর্তন আনবে। 
 
তিনি বলেন, সরকার সমাজে বিভক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করছে। সবক্ষেত্রে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে এসেছে সেখানে কিসের গণতন্ত্র! কিসের আইনের শাসন! গণতন্ত্র শেষ। আইনের শাসন নিশ্চিহ্ন। ব্যক্তির অধিকার হারিয়ে গেছে। 
 
যুক্তফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ব্যাংক থেকে শুরু করে দেশের সবকিছু লুট হয়ে গেছে। বাকি আছে শুধু দেশের মাটি ও মানচিত্র। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- খাল কেটে কুমির ঢুকাবেন না। 
 
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, দেশের প্রধান বিচারপতিকে যদি এভাবে ঘরে বন্দি রেখে দেশছাড়া করতে পারে তাহলে অন্যরা তো ভয়ে থাকবেনই। ঐক্য প্রক্রিয়া সফল না হলে সবার কপালে আরও দুর্ভোগ আছে। কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা অক্টোপাসের মতো লেগে আছে। সরকার, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র আজ লুটপাট সমিতিতে পরিণত হয়েছে।
 
সেমিনারে যুক্তফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি মনে করি এই দুঃশাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বিচারবিভাগের যদি স্বাধীনতা থাকতো তাহলে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ এই অবস্থায় থাকতে হতো না। তারেক রহমানের ওপরও আরেকটি আঘাত আসার উপক্রম হতো না। 
 
গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পরির্বতন সম্ভবত আসছে। কারণ এই ধরনের শাসন থেকে জনগণ মুক্তি চায়। 
 
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, সবার রোগের ওষুধ আজ এক জায়গায়, রাজপথে নামুন-সব রোগের প্রতিকার পাবেন। 
 
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে প্রহসনমূলক কিছু করা হলে আইনজীবীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় সেমিনারে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ/এমআই
 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৩০ মার্চ, ২০২০ ইং
ফজর৪:৩৭
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩০
সূর্যোদয় - ৫:৫৩সূর্যাস্ত - ০৬:১২