শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

ফের ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁস!

ফের ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁস!
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৭:৪৭ মিঃ
ফের ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁস!
বামে মূল প্রশ্ন, ডানে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। ছবি: ইত্তেফাক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এ বছরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অনেক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষা শুরুর ৪৩ মিনিট আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তরসহ হাতে লেখা প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। এই হাতে লেখা প্রশ্নের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
 
শুক্রবার বেলা ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষার পূর্বে বেলা ৯টা ১৭ মিনিটে অনেক ভর্তিচ্ছুর হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারে সাদা কাগজে উত্তর লেখা সম্বলিত প্রশ্ন আসে। তারা এই উত্তরসহ প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষা দিতে যান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
 
এদিন বেলা ১০টা ৩০মিনিটে ১৪টি পৃথক কাগজে হাতেলেখা প্রশ্ন সাংবাদিকদের কাছে আসলে তারা সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক সোহেল রানাকে দেখান। কিন্তু সে সময় তিনি পদক্ষেপ নেননি। পরে ভর্তিচ্ছুরা পরীক্ষা দিয়ে বের হলে ওই হাতে লেখা প্রশ্নের সঙ্গের অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্ন মিল পেলে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী এটি ডিজিটাল জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেন।
 
সাংবাদিকদের কাছে আসা প্রশ্ন যাচাই করে দেখা গেছে বাংলা অংশে ১৯টি, ইংরেজি অংশে ১৭টি, সাধারণ জ্ঞান অংশে ৩৬টিসহ (বাংলাদেশ বিষয়াবলি ১৬ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ২০) মোট ৭২টি প্রশ্নের উত্তরপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
 
প্রসঙ্গত, ‘ঘ’ ইউনিটে বাংলা ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান নিয়ে মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকে। প্রতি প্রশ্নের মান ১.২।
 
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনও নির্ভরশীল সূত্র থেকে প্রশ্নফাঁসের তথ্য নিশ্চিত হতে পারিনি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রশ্নফাঁসের কোন সুযোগ নেই। তবে যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি প্রশ্নফাঁস নয়, ডিজিটাল জালিয়াতি।
৯টা ১৭ মিনিটে ভর্তিচ্ছুর হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারে সাদা কাগজে উত্তর লেখা সম্বলিত প্রশ্ন। ছবি: ইত্তেফাক
বিষয়টি প্রমাণিত হলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সেটি পরের বিষয় বলে মন্তব্য করেন।
 
এই বিষয়ে ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে আমি কিছু জানি না। আমার কাছে কেউ কোনও অভিযোগ নিয়ে আসেনি। যে সূত্র দাবি করছে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সে সূত্র আমাদের জানার অধিকার আছে। তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সে পথে এগিয়ে যাবে। আমাদের এখন নৈতিক দায়িত্ব রেজাল্ট তৈরি করা আমরা সে দিকে এগোচ্ছি।’
 
এর আগের বছরও ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটাকে ডিজিটাল জালিয়াতি বলে আখ্যায়িত করেছিল। তুমুল সমালোচনার মুখে তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও গত এক বছর কমিটির কোনও প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
 
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
 
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে ১৬১৫টি (বিজ্ঞানে- ১১৫২টি, বিজনেস স্টাডিজে- ৪১০, মানবিকে- ৫৩টি) আসন রয়েছে। এর বিপরীতে  ৯৫ হাজার ৩৪১জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৫
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪০