লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

বিষণ্ণতা এক নীরব ঘাতক

বিষণ্ণতা এক নীরব ঘাতক
ডা. তানজিয়া নাহার তিনা০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ০৮:২৫ মিঃ
বিষণ্ণতা এক নীরব ঘাতক
ছবি: সংগৃহীত
ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা হলো এক ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি। একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গ্রাস করতে পারে এই বিষণ্ণতা। এটি এমন এক সমস্যা যা মানুষের জীবনে এনে দেয় একাকীত্ব। নানা কারণে মানুষের মন খারাপ হতেই পারে। সুস্থ মানুষের জীবনে দুঃখবোধ হওয়া বা মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক ঘটনা; কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন বলতে যা বোঝায় তা মন খারাপের চেয়ে বেশি কিছু। কোনো কোনো সময় এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। বিষণ্ণতার মূল লক্ষণ হিসেবে খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
 
দুঃখবোধের মতো সাধারণ কোনো অনুভূতি যখন দীর্ঘ সময় এবং তীব্রভাবে কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে রাখে তাকেই আমরা বিষণ্ণতা বলি। এতে মস্তিষ্কে ‘সেরোটনিন’ জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের গুণগত ও পরিমাণগত তারতম্য ঘটে। পুরুষের তুলনায় নারীর বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে (জাপান) শতকরা ৩ জন, আবার কোনো দেশে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে) শতকরা ১৭ জন মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছেন। বাংলাদেশে শতকরা ৪.৬ শতাংশ নারী-পুরুষ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতার হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া যারা বিভিন্ন দীর্ঘ মেয়াদি যেমন- ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি রোগে ভুগছেন তাদের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া দারিদ্র্য, বেকারত্ব, একাকিত্ব, পারিবারিক সমস্যা, গর্ভকালীন এবং পরবর্তী সময়, বিবাহ বিচ্ছেদ, প্রবাসজীবন ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেও বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে।
 
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষণ্ণতা নিয়ে চিকিত্সকগণের পরামর্শ নেওয়ার হার খুবই কম; কিন্তু সঠিক চিকিৎসার অভাবে কর্ম বিমুখতা সৃষ্টি হচ্ছে। কমে যাচ্ছে উৎপাদনশীলতা। তাই এটি নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিষণ্ণতার রয়েছে নানা ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি। সাধারণত কিছু এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ এবং সাইকোথেরাপি বা বিহেভারিয়াল থেরাপির পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। বিষণ্ণতা দূর করার জন্য সর্বোপরি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের সহযোগিতাও একান্ত প্রয়োজন।
 
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১০ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১১