জাতীয় | The Daily Ittefaq

‌‘বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পাচ্ছে’

‌‘বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পাচ্ছে’
বিশেষ প্রতিনিধি০৬ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২১:৫২ মিঃ
‌‘বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পাচ্ছে’
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের ওষুধ ও সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্ক এবং সাভারে ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি (ট্যানারি শিল্প নগরী) উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০৯ সাল থেকে একটানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পাচ্ছে। দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে ও মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, এটাই আমরা চাই।’ 
 
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের ওষুধ ও সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্ক এবং সাভারে ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি (ট্যানারি শিল্প নগরী)  উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। 
 
সরকার সারাদেশে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের কর্মসংস্থানের উপর আমরা নজর দিচ্ছি। বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বিনিয়োগ যাতে হয়, দেশি-বিদেশি সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’ 
 
সাভারে চামড়া শিল্পনগরী গড়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারীবাগে ট্যানারি- এক সময় ঢাকা ছোট ছিল, সেটা গ্রামের দিকেই ছিল। আস্তে আস্তে ঢাকা শহর বাড়তে থাকে। ট্যানারি বর্জ্য নিয়ে রাজধানীর মানুষ খুব কষ্টের জীবন যাপন করত। এটাকে সরিয়ে আমরা সাভারে শিল্পনগরী গড়ে তুলছি।’ 
 
প্রায় একশটি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওষুধের কাঁচামাল তৈরির জন্য একটা ব্যবস্থা করা দরকার, কারণ আমাদেরকে কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট তৈরির ব্যবস্থা দরকার, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল যাতে আমরা দেশের উত্পাদন করতে পারি। সেজন্য আমরা মুন্সিগঞ্জে শিল্পনগরী করে দিচ্ছি।’ 
 
প্রতিটি জেলায় বিসিক শিল্পনগরী করার আইন বঙ্গবন্ধু করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নব্বই ভাগের মতো দেশের চাহিদা সেখান থেকে মেটে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, উত্পাদনে দেশের চাহিদা মিটবে, বিদেশে রপ্তানি হবে, কর্মসংস্থান হবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’ পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, সেজন্য বর্জ্য দূষণ থেকে রক্ষার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সকলে এটা অনুসরণ করবেন।’ 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে বিদেশের বাজারে। বাংলাদেশ বিশ্বের একশ’র বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। 
 
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অর্থায়নে প্রিজম প্রকল্প থেকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) শিল্পপার্ক ও শিল্পনগরী নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। প্রিজম প্রকল্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। শিল্পায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে বিসিকের আওতায় এটিই সবচেয়ে বড় শিল্পপার্ক। ৪০০ একর জায়গার উপর ৬২৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় নির্মিত এ শিল্পপার্কে ৮২০টি শিল্প প্লট দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যাতে থাকবে ৫৭০টি রপ্তানিমুখী আমদানি বিকল্প এবং দেশজ শিল্প ইউনিট। এর মাধ্যমে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে প্রিজমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অন্যদিকে ২০০ একর জমিতে দেশের প্রথম ওষুধ শিল্পপার্ক অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্ক গড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায়। এ শিল্পপার্কে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এখান থেকে দেশের ওষুধের চাহিদা শতভাগ পূরণের পর রপ্তানিও করা হবে। এ প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮১ কোটি টাকা। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে ২০০৮ সালে সরকার এই শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে শুরু হয় চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি। কিন্তু সে প্রকল্পের কাজ ১৫ বছরেও শেষ করা সম্ভব না হওয়া এবং ট্যানারিগুলো সরিয়ে নিতে মালিকদের অনাগ্রহের ফলে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। তিন দফা প্রকল্প সংশোধনের পর ২০১৯ সালে হাজারীবাগের ট্যানারি সরানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পরে হাজারীবাগে গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানি বন্ধ করে দিয়ে ট্যানারি মালিকদের সাভারমুখী করে সরকার। 
 
ট্যানারি সরানোর কাজটি বড় রকমের চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব আবদুল হালিম ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর ভিডিও কনফারেন্সের সময় তিনটি জেলায় বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২২