রাজনীতি | The Daily Ittefaq

আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে: মির্জা ফখরুল

আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে: মির্জা ফখরুল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮:১৭ মিঃ
আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে: মির্জা ফখরুল
প্রতীকী অনশন চলাকালে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল ও তার মুক্তির দাবিতে ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে গণঅনশন করেছেন নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত এই প্রতীকী অনশন চলাকালে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায় করা হবে। আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোট দিয়ে পছন্দের সরকার নির্বাচন করবে। কিন্তু সরকার পরিস্থিতিকে জটিল করছে। আমাদের চেয়ারপারসনের সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হলো। বিষয়টি নেত্রীকে জানানোর পর তিনি বলেছেন, সাজা যত দেয়ার দিক। তবুও মাথা নত করবো না।
 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বন্ধুগণ, আমরা মাথা নত করবো না। আমরা নিজেদের অধিকারের আন্দোলন ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তা আদায় করবো আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার। ১৯৭১ সালের যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম, সেই অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবোই করবো। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করবো।
 
তিনি বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে এখন বিচার ব্যবস্থা চলছে। তার প্রমাণ গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার মামলার রায় হয়ে গেছে। সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে দেশ আর গণতান্ত্রিক দেশ নেই, স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।গণতন্ত্রের সঙ্গে খালেদা জিয়া ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছেন।গণতন্ত্র মানেই খালেদা জিয়া। তাই আজকে তার মুক্তির দাবিতে অনশন করছি।
 
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলে ব্যাপকভাবে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করছে, অন্যদিকে আমাদের নেত্রীর সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করেছে। এগুলো আমাদের কাছে ভালো আলামত বলে মনে হচ্ছে না’।
 
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের নেত্রী খালাস পাবেন। কিন্তু যা হয়েছে সেটি নজিরবিহীন। আমরা এটা গ্রহণ করি না’। দলের নেতাকর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আন্দালনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বানও জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু স্লোগান দিলে কি আমাদের নেত্রীর মুক্তি হবে’? এসময় নেতাকর্মীরা ‘না’ সূচক উত্তর দেন। ‘তাহলে কী করতে হবে?’ নেতাকর্মীরা ‘আন্দোলন আন্দোলন’ বলে স্লোগান দেন।যতদিন পর্যন্ত আমাদের নেত্রীর মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে’।
 
গণঅনশনে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো উড়ে যাবে।মান্না বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। নতুন করে আরেকটি মামলায় ৭ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। এসব টিকবে না।
 
সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। সংলাপের নামে কোনো ধাপ্পাবাজি চলবে না।
 
বিকাল সোয়া তিনটায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। এমাজ উদ্দিন বলেন, আমরা বাংলাদেশের তরুণ-তরুণী ও জনগণের মধ্যে আজকে যে উন্মাদনা লক্ষ্য করছি, এই রকম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তাকে মুক্ত করার কোনো বিকল্প এদেশে নেই। তার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে, সেই প্রস্তুতিকে আরও দ্বিগুণ করা, তিন-চারগুণ করা প্রয়োজন। আন্দোলনের মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। এটা অনুভব করে আমাদের অগ্রসর হওয়া দরকার। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা তৈরি থাকেন, যখনই প্রয়োজন হবে আন্দোলনের জন্য আত্মত্যাগ করার প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের অগ্রসর হওয়া দরকার। একথা বলে আমি সবাইকে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক,আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আব্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
 
গণঅনশনে বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, শ্রমিকদল কৃষকদল, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও শাখার হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক যোগ দেন।তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং সাজা বাতিলের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে নেতাকর্মী-সমর্থকরা মহানগর নাট্যমঞ্চের সামনের চত্বরে অনশন পালন করেন।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯