রাজনীতি | The Daily Ittefaq

সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের চিন্তা ঐক্যফ্রন্টের

সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের চিন্তা ঐক্যফ্রন্টের
আনোয়ার আলদীন০৬ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ০৩:১৮ মিঃ
সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের চিন্তা ঐক্যফ্রন্টের
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আগামীকাল বুধবার সকালে ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সীমিত পরিসরে সংলাপে বসবেন। দ্বিতীয় দফার এই সংলাপে তাদের দাবির তালিকা ছোট আকারে তুলে ধরবেন। ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবিগুলোর সাংবিধানিক ও আইনগত যৌক্তিকতা তুলে ধরবে। সিদ্ধান্তের ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেবেন। ফ্রন্টের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,তাদের মুখ্য দাবি থাকবে-সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণ,নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো থেকে মন্ত্রী করে তাঁদের স্বরাষ্ট্র বা জনপ্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি ও তাঁর ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাজা স্থগিত করা।
 
সংলাপে সংবিধানের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেবেন নেতারা। এই রূপরেখা তৈরির জন্য রবিবার মতিঝিলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে আইন বিশেষহজ্ঞদের বৈঠক হয়।
 
ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপির নেতারা ঘোষনা দিয়েছেন,সরকারের সাথে সংলাপ ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। সাত দফাকে সরকার পতনের এক দফায় রুপান্তরিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে তারা ঢাকা ও ফাকার বাইরে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুক্তফ্রন্টের একজন নেতা বলেন, প্রথম দফার সংলাপ ব্যর্থ হবার পর আমরা প্রতিদিন বৈঠক করছি। কোন কোন দিন নিজেদের মধ্যে ও ফ্রন্টের নেতারা একাধিকবারও বৈঠক করছি। সেখানে সংলাপের ফলাফল ও আন্দোলনের কৌশল-গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের মৌলিক দাবি মানেন তাহলে আর আন্দোলনের দরকার পড়বে না। আমরাও কিছু ছাড় দিতে রাজি আছি। সরকার সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়ার দাবি মানলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিষয়টিতে আমরা ছাড় দিবো। তবে সরকার যদি আলোচনার পথ রুদ্ধ করে ৫ জানুয়ারী মাকর্্া নির্বাচন করতে চায় তা হলে দফা হবে একটাই- সরকার পতন। কর্মসূচির বিষয়ে গতকাল সোমবার রাতে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়েছে।
 
জানা গেছে,আগামীকাল দ্বিতীয় দফা সংলাপের মধ্য দিয়ে সমঝোতা হলে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামবেন। আর সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনে।
 
এই প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,আমরা আন্দোলন নয়,চাচ্ছি সমঝোতা। সেটা সরকারকে বলেছি। সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। সেই আন্তরিকতা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পুর্ন মিথ্যা-সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে জবরদস্তি করে জেলে রেখেছে। উনার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করছি। এখন যদি সংলাপে সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয় তা হলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। আর দাবি না মানলে আমরাতো বসে থাকতে পারবো না।
 
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,সংলাপ যদি সফল না হয় তাহলে যা করার তাই করা হবে। আমরা সরকারের কাছে যা চাচ্ছি তাতো অন্যায্য কিছু নয়। সংবিধানের মধ্যে থেকেও আমরা যা চাচ্ছি তা আদায় করা যাবে। কিন্তু সরকার যদি না চায় তা হলে তো সম্ভব নয়। সমঝোতা হলে তো আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না।
 
সোহরাওয়ার্দীর জনসভা থেকে ঐক্যফ্রন্টের
 
কর্মসূচি ঘোষণা হবে: ফখরুল
 
আজ মঙ্গলবারের জনসভা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত্ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার রাতে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত্ কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, আজকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার দল ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছি এবং তাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে ৭ তারিখে সংলাপের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সে বিষয়গুলো আজ স্পষ্ট করা হবে। এছাড়া সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে, আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। রংপুরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের উপর পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় যে আচরণ করা হয়েছে তার নিন্দা জানানো হয় এবং মঈনুল হোসেনকে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯