চয়ন
বড়র পিরিতি বালির বাঁধ
কাজী নজরুল ইসলাম২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
বড়র পিরিতি বালির বাঁধ
তখন আমি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাজকয়েদি। অপরাধ, ছেলে খাওয়ার ঘটা দেখে রাজার মাকে একদিন রাগের চোটে ডাইনী বলে ফেলেছিলাম।...

এরি মধ্যে একদিন অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলার এসে খবর দিলেন, ‘আবার কি মশাই, আপনি ত নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন, আপনাকে রবিঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ নাটক উত্সর্গ করেছেন।’

আমার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আরো দু’একটি কাব্য-বাতিকগ্রস্ত রাজকয়েদি। আমার চেয়েও বেশি হেসেছিলেন সেদিন তাঁরা। আনন্দে নয়, যা নয় তাই শুনে।

কিন্তু ঐ আজগুবি গল্পও সত্য হয়ে গেল। বিশ্বকবি সত্যিসত্যিই আমার ললাটে ‘অলক্ষণের তিলক-রেখা’ এঁকে দিলেন।

অলক্ষণের তিলক-রেখাই বটে, কারণ, এর পর থেকে আমার অতি অন্তরঙ্গ রাজবন্দী বন্ধুরাও আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। যাঁরা এতদিন আমার এক লেখাকে দশবার করে প্রশংসা করেছেন, তাঁরাই পরে সেই লেখার পনেরবার করে নিন্দা করলেন। আমার হয়ে গেল ‘বরে শাপ!’

জেলের  ভিতর থেকেই শুনতে পেলাম, বাইরেও একটা বিপুল ঈর্ষা-সিন্ধু ফেনায়িত হয়ে উঠেছে। বিশ্বাস হল না। বিশেষ করে যখন শুনলাম, আমারই অগ্রজ-প্রতিম কোনো কবি-বন্ধু, সেই সিন্ধু-মন্থনের অসুর-পক্ষ ‘লীড’্ করছেন। আমার প্রতি তাঁর অফুরন্ত স্নেহ, অপরিসীম ভালবাসার কথা শুধু যে আমরা দুজনেই জানতাম, তা নয়, দেশের সকলেই জানত তাঁর গদ্যে-পদ্যে কীর্তিত আমার মহিমা-গানের ঘটা দেখে।

সত্য-সুন্দরের পূজারী বলে যাঁরা হেঁইয়ো হেঁইয়ো করে বেড়ান, তাঁদের মনও ঈর্ষায় কালো হয়ে ওঠে,— শুনলে আর দুঃখ রাখবার জায়গা থাকে না।

এ-খবর শুনে চোখের জল আমার চোখেই শুকিয়ে গেল। বুঝতে পারলাম শুধু আমি, বাইরের এই লাভে অন্তরের কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমার। মনে মনে কেঁদে বললাম, ‘হায় গুরুদেব! কেন আমার এত বড় ক্ষতিটা করলে?’... (অংশ)

সূত্র: নজরুল রচনাবলী (বাংলা একাডেমি, ১৯৯৩)

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন