ধনীর চিড়া
আর আই সুমন১৩ জুন, ২০১৬ ইং
ধনীর চিড়া
যে চিড়ার খ্যাতি সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাদ আর গন্ধ জয় করেছিল ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়ার মন। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বারবাড়ীয়া গ্রামে পাওয়া যায় এই ধনীর চিড়া। স্থানীয় বাসিন্দা যতীন্দ্র সরকার জানান, আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে এ গ্রামের এক হিন্দু নারী এই চিড়া তৈরি করেন। তাঁর নাম ধনী রানি সরকার। গরিব পরিবারে তাঁর জন্ম। বিয়ের কয়েক বছর পর তাঁর স্বামী দুর্লভ সরকার দু সন্তান রেখে মারা যান। ফলে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছিল তাঁর। তিনি একবার বলিয়াদী জমিদার বাড়ি গিয়েছিলেন সাহায্যের জন্য। তখন জমিদার সাহেব সাহায্য স্বরূপ কিছু ধান দিয়েছিলেন। ধনী রানি ঢেঁকিতে সেই ধান ভেনে তার পর চিড়া কুটে রীতিমত বিস্মিত— এই ধানে এত  সুন্দর আর বড় চিড়া হয়, যা খেতেও খুব সুস্বাদু। ধনী রানি সব ধানের চিড়া না কুটে কিছু ধান বীজ বপন করেন এবং প্রতিবেশীদেরও কিছু ধানের বীজ দেন। এইভাবে পুরো বারবাড়ীয়া গ্রামে বিস্তার লাভ করে এই চিড়ার জাত। ধানের নাম ‘নয়াশাল ধান’। আর ধনী রানির নাম অনুসারে এই ধানের চিড়ার নাম হয়ে যায় ‘ধনীর চিড়া’।

১৮৮৬ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার জন্মদিনে তত্কালীন ঢাকার গভর্নর উপঢৌকন হিসেবে কয়েক মণ ধনীর চিড়া পাঠান। যে চিড়া খেয়ে অনুষ্ঠানের সকল অতিথি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পরবর্তী সময়ে রানি ভিক্টোরিয়া ধনীর চিড়া প্রস্তুতকারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানালে ধনী রানি ভয়ে যাননি। ভয়ের কারণ হলো ঢাকার মসলিন কাপড় যখন বিখ্যাত হয়েছিল, তখন ইংরেজরা মসলিনের কারিগরদের আঙুল কেটে দিয়েছিল— যাতে তারা আর মসলিন তৈরি করতে না পারে। দ্বিতীয়বার রানি ভিক্টোরিয়া ধনী রানিকে আমন্ত্রণ জানালে ধনী রানি শর্ত জুড়ে দেন যে, তিনি যাবেন যদি তাঁকে বিনা পয়সায় গয়াকাশি ও বৃন্দাবন যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তাঁর প্রস্তাব রানি ভিক্টোরিয়া গ্রহণ করেন এবং ১৮৮৭ সালে ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে ধনী রানি সরকার গয়াকাশি ও বৃন্দাবনসহ ভারত সফর করেন।

৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে এক কেজি ধনীর চিড়া বিক্রি হতো। দুজন লোক ঢেঁকিতে আধাবেলা কাজ করে ১০-১২ কেজি চিড়া কুটতে পারত। বর্তমানে আধুনিক মেশিন আসায় কেউ আর ঢেঁকিতে চিড়া কোটে না। ধনীর চিড়ার দাম বেড়েছে চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উত্পাদন বাড়েনি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন