মরমি শিল্পী আবদুল আলীম
মুস্তাফা মাসুদ২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
মরমি শিল্পী আবদুল আলীম
আর কত কাল ভাসব আমি দুখের সারি গাইয়া; সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোর কাছে শুধাই; কল কল ছল ছল/ নদী করে টলমল; হলুদিয়া পাখি সোনার বরণ/ পাখিটি ছাড়িল কে; আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে; রূপালি নদী রে, রূপ দেইখা তোর হইয়াছি পাগল; পরের জা’গা পরের জমি ঘর বানাইয়া আমি রই; আল্লাহু আল্লাহু/ তুমি জাল্লে জালালুহু;  নবী মোর পরশমণি/ নবী মোর সোনার খনি; চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি—এসব গান শোনেনি, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর গায়ক আবদুল আলীম কার না প্রিয়? চাষি, জেলে, মাঝি, কামার-কুমোর তথা গণমানুষের একান্ত আপনজন তিনি।

আবদুল আলীমের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। সংগীতই ছিল তাঁর ভালোবাসা। কলের গান বা যে কোনো গায়কের গান তিনি মন দিয়ে শুনতেন আর অতি সহজেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেগুলো ধারণ করতেন নিজের কণ্ঠে। তাঁর গানের গলা এত মিষ্টি আর ভরাট ছিল যে, অল্প দিনেই তিনি গানের জাদুতে সারা দেশ মাতিয়ে তুললেন। শুধু দেশেই নয়—চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, কোরিয়া, ভারত, বার্মা (মিয়ানমার) প্রভৃতি দেশে লোকসংগীত পরিবেশন করে অগণিত শ্রোতা-দর্শকের মন জয় করেন।

জন্মসূত্রে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হলেও পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশের নদীনালা, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, মাঠ-ঘাট, নয়নাভিরাম বনবনানী, পাখির গান— এসবের সঙ্গে তিনি একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তো তাঁর কণ্ঠে-সুরে প্রাণময় হয়ে উঠত নদীর কল্লোল, বাংলার মাঠঘাট-প্রকৃতির অপরূপ মাধুরী। পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, মারফতি, লালনগীতি প্রভৃতি তিনি সমান দক্ষতায় গেয়েছেন। তাঁর উচ্চারণ এত বিশুদ্ধ এবং জড়তামুক্ত ছিল যে, এক পরিপূর্ণ পরিশীলন তাঁর গাওয়া গানকে ভিন্নমাত্রিকতায় পৌঁছে দিত।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন