স্বদেশ, স্বভাষা ও স্বাজাত্য
আহমদ শরীফ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
স্বদেশ, স্বভাষা ও স্বাজাত্য
বৃত্তি-প্রবৃত্তির অভিব্যক্তিই স্বভাব; আর মন-মননজাত কল্যাণ বুদ্ধিই হচ্ছে আদর্শবাদ। স্বভাবের স্বপ্রকাশ প্রায় অপ্রতিরোধ্য আর জীবনে আদর্শের রূপায়ণ ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও সাধনা সাপেক্ষ। তাই হাজার বছরেও সার্থক বা সফল হয়ে ওঠেনি আমাদের সমন্বয়-সাধনা, গড়ার  পরিমাণ হয়তো তবু বেশি, কিন্তু নগণ্য নয় ভাঙার পরিমাণও। কোরান-হাদিস আমাদের নিত্যসঙ্গী, তবু লৌকিক সংস্কার থেকে আমরা মুক্ত ছিলাম না কখনো। আজ লৌকিক সংস্কার ছেড়েছি আমরা; আমাদের কৃতিত্ব নেই এতে—নেই কোনো সিদ্ধির আত্মপ্রসাদ। কেননা তার বদলে ধর্মাদর্শকে দৃঢ় করে ধরিনি আমরা। আসলে ভোগেচ্ছা ছাড়া এ যুগে সবকিছুই ছাড়ছি আমরা; তাই ত্যাগ করেছি কুসংস্কারও। হয়তো আমাদের আরো বহু কল্যাণ বুদ্ধি লোপ পাবে যুগ প্রভাবে। কিন্তু স্বদেশ, স্বভাষা ও স্বজাতির প্রতি মমতা ছাড়তে পারব না কখনো। স্বদেশ তথা আবাস হচ্ছে নিশ্চিত নিবাস। একে বলা চলে জীবনবৃন্ত, আর ভাষা হচ্ছে জীবন-রস। যে ভাষার মাধ্যমে বোল ফোটে শিশুর, যে ভাষার অনুভূতি পায় অপরূপ অভিব্যক্তি, সে ভাষা—বলতে গেলে—জুড়ে থাকে জীবনের সবখানিই। এ তথ্যটি ভালোভাবেই জানতেন আগের যুগের বাঙালি মুসলমান। তাই তাঁরা স্বধর্ম ত্যাগ করলেও আঁকড়ে ধরে ছিলেন স্বভাষা। তাঁরা জানতেন, ভাষা ও সাহিত্য শুধু মহত্ প্রেরণার সহায়কই নয়, জীবনানুভূতির ভিত্তি বা জীবন-রসের উত্সও। তাঁরা বুঝতেন শব্দের নিজস্ব কোনো স্বরূপ নেই। মানুষের রস কখনো শব্দকে দেয় মূর্তি ও দান করে প্রাণ। শব্দের ব্যঞ্জনা, ভাব বা চিত্র—প্রতীকতা আর সামগ্রিক অভিধা বক্তার রস-চেতনা, বুদ্ধি, বোধ ও অভিপ্রায়-নির্ভর। বক্তার ভাবকল্পের দ্বারাই শব্দার্থ হয় নিয়ন্ত্রিত; শব্দার্থের দ্বারা পরিচালিত হয় না ভাব। তাই যেখানে অনুভূতির কথা, সেখান বোধির প্রকাশ, সেখানেই বক্তার অভিপ্রায় শব্দকে—

‘অর্থের বন্ধন হতে নিয়ে তারে যায় কিছু দিয়ে

ভাবের স্বাধীন লোকে পক্ষবান অশ্বরাজ সম।’    (অংশ)

সূত্র: একুশের সংকলন (বাংলা একাডেমি, ১৯৭১)

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন