চয়ন
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ
হুমায়ুন আজাদ১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ
বিছানায় গা এলাতেই মনে হয় যেন আমি শুয়ে আছি আমাদের উত্তর ভিটের টিনের ঘরে। টিনের চালের ওপর ডাল ছড়িয়ে আছে একটি খেজুর গাছ; আর একটি আম গাছ। একটু দূরে দাদার কবরের ওপর কড়িফুল গাছের ঝোঁপ। এমন সময় নামল শ্রাবণের গাঢ় ঘন মেঘ—বৃষ্টি। আমি একটি কাঁথা টেনে জড়িয়ে নিলাম নিজেকে, উমে ভ’রে উঠল গা।

তখন টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ। চালের ওপর ডানা ঝাপটাচ্ছে খেজুর আর আম গাছ। স্বপ্নের মতো নিবিড় হ’য়ে উঠেছে দশ দিক। পৃথিবীর সবচে মধুর মূর্ছনা আর ঐকতান বেজে চলেছে আমাকে ঘিরে। শুনতে পাচ্ছি আমি টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ। চালের ওপর ডানা ঝাপটাচ্ছে আম আর খেজুর গাছ। ওই সুর আর মুর্ছনা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি আমি।

এখন আর আমার ঘুমোতে কষ্ট হয় না। প্রতিরাতে বিছানায় গা এলিয়েই আমি কল্পনায় ঢুকি আমাদের উত্তর ভিটের টিনের ঘরে। আর অমনি শুরু হ’য়ে যায় শ্রাবণের বৃষ্টি। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ। ডানা ঝাপটাতে থাকে আম আর খেজুর গাছ। আমি ঘুমিয়ে পড়ি এ-শুকনো শহরে দালানের ভেতরে। কিন্তু আসলে প্রতিরাতে আমি ঘুমোই একটি টিনের ঘরের ভেতরে। তার চালে বৃষ্টির শব্দ। আম আর খেজুর গাছের ডানা ঝাপটানো।

গ্রামকে বলতে পারি ঘুম, শহরকে জেগে থাকা। গ্রামে কেউ জেগে থাকে না বেশি রাত, শুধু কয়েকটি শেয়াল আর দুঃখী মা ছাড়া। কিছু চোরও জেগে থাকে; কেননা রাতই তাদের দিন। দিনের বেলা ঘুমোতেও কী যে সুখ ছিল রাড়িখালে, সেই বাল্যকালে। কতোদিন দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছি, গ’লে গেছি আমাদের গ্রামের আঠালো মাটির মতো। নকশিকাঁথাটি জাদু চাদরের মতো জড়িয়ে রেখেছে আমাকে। সন্ধ্যায় জেগে উঠে মনে হয়েছে এইমাত্র ভোর হলো। মুখ ধুতে হবে, ইস্কুলে যেতে হবে। মা বলত, ‘এখন বিআইন নারে, এখন সাঁইজের বেলা।’      (অংশ)

লেখকের ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’ বই থেকে

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন